চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। শিশুসহ বাকি আট জন দগ্ধ বর্তমানে ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন।
মারা যাওয়া ওই নারীর নাম নুরজাহান আক্তার রানী (৪০)। তার শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল।
বাকি আটজন হলেন সাখাওয়াত (৪৬), সুমন (৪০), পাখি (৩৫), শিপন (৩২), উম্মে আয়ন (১০), শাওন (১৭), আনাস (৭) ও আয়েশা (৪)।
জানা গেছে, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে নগরের হালিশহর এলাকায় ওই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ সবাইকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পথেমধ্যে ওই নারীর মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় তাদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়। সেখানেই রানীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রানী নামে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টায় নগরের হালিশহরের এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাস সংযোগ লিক হয়। এরপর গ্যাস রান্না ঘর থেকে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চুলার আগুন জ্বালাতে গেলে আগুন রান্নাঘর থেকে সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নয়জনই দগ্ধ হয়। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
হালিশহর ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, বিস্ফোরণের ওই তলার দুটি ফ্ল্যাটের দেয়াল ও জানালার কাঁচ ভেঙে গেছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাসাটিতে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সরবরাহকৃত গ্যাসের সংযোগ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো কারণে চুলা থেকে গ্যাস বের হয়ে রান্নাঘরসহ পুরো ফ্ল্যাটে জমে ছিল। চুলায় আগুন জ্বালাতে গিয়ে তা স্ফুলিঙ্গ আকারে বিস্ফোরণ ঘটে।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, আহত সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। তাদের শরীরের ২৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসাধীন সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তাই তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে শাখাওয়াত হোসেন, পাখি আক্তার ও রানী আক্তারের শ্বাসনালির শতভাগ পুড়ে গেছে। মো. শিপনের শ্বাসনালির ৮০ শতাংশ পুড়েছে। মো. সুমন ও মো. শাওনের পুড়েছে ৪৫ শতাংশ। তিন শিশু মো. আনাস, উম্মে আইমন ও আয়েশা আক্তারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
মাহফুজ/