শরীয়তপুর শহরের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে প্রায় ১৪ কিলোমিটার জুড়ে এআই প্রযুক্তির সিসিটিভি ক্যামেরায় স্থাপন করেছেন জেলা প্রশাসন। এর মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন বাজার ও বিপণনকেন্দ্রগুলো নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ, এছাড়া চুরি ছিনতাই ডাকাতি সহজেই চিহ্নিত করা যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, মনোহর বাজার মোড়, পুলিশ লাইন, শরীয়তপুর সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, জেলা প্রশাসনের বাসভবন, পুলিশ সুপারের বাসভবন, কোর্টের মোড়, পৌরসভা, শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চৌরঙ্গীর মোড় পালং উত্তর বাজার, বাসস্ট্যান্ড কোটাপাড়া পেমতলা, কীর্তিনাশা নদী, হাসপাতাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি বেসরকারি অফিসসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে ১২০ টি সিসিটিভি ক্যামেরা।
সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার কারণে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে । যাতে করে সহজেই সনাক্ত করা যায় অপরাধীদের।
সিসিটিভি ক্যামেরায় এই প্রযুক্তি থাকার কারণে দুর্ঘটনা, যানজট, অগ্নিকাণ্ড, সন্দেহজনক চলাচল বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত যাবে নিয়ন্ত্রণকক্ষে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কাজে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশও এ সুবিধা ব্যবহার করবে।
সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পর সচেতন মহল, নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ইভটিজিং থেকে রক্ষা পাবে শিক্ষার্থীরা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের সামনে থেকে চুরি ছিনতাই কমে আসবে। অপরাধীরা চাইলেই সহজেই অপরাধ করতে পারবে না।
শরীয়তপুর জজ কোর্টের আইনজীবী মিজানুর রহমান বাবু বলেন, এই ১৪ কিলোমিটার সিসিটিপি ক্যামেরা স্থাপন করার কারণে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে, অপরাধীরা অপরাধ করতে ভয় পাবে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, শরীয়তপুরের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে নজরদারির পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতা থাকলে এই প্রকল্প আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক ফল দেবে।
শরীয়তপুর জজকোর্টের অতিরিক্ত পিপি মৃধা নজরুল কবির বলেন, এ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি মনে করেন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করার কারণে অপরাধীরা অপরাধ করতে ভয় পাবে। অপরাধীদের সহজে শনাক্ত করে, বিচারের আওতায় আনা যাবে। এতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে অপরাধ কমে আসবে। এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রকল্পের পরিচালক দিদারুল ইসলাম রাজীব জানান, এআই প্রযুক্তির সিসিটিভিগুলো অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরক,দুর্ঘটনা, নদী ভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, হলে ওই সময়কার ছবি ভিডিও কন্ট্রোল রুমে পাঠিয়ে দেবে।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মিস তাহসিনা বেগম জানান, আমরা যখন আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে বসি তখন দেখি শহরে বা শহরের বাইরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা ঘটে। বিশেষভাবে পৌরসভা গুলোতে মাদকের আখড়া থাকে, মাদক সেবীদের বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের খুব উৎপাত থাকে, যারা মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত থাকে তারাও থাকে। স্কুলের প্রাঙ্গণে বা স্কুলের বাহিরে বিভিন্ন স্থানে ইভটিজাররা থাকে, ওই বিষয়গুলো যাতে না থাকে এ কারণেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া চুরি ছিনতাই রাহাজানি, বা আইনশৃঙ্খলার কোনো ধরনের অবনতি না ঘটে ওই জিনিসগুলো মাথায় রেখে আমরা সিসিটিভি ক্যামেরায় স্থাপন করেছি। শুধু স্থল পথে নয় আমরা নদীপথে ক্যামেরা স্থাপন করেছি যাতে নদীপথে কোনো ধরনের অপরাধ না ঘটে। ভবিষ্যতে আমরা আরও পাঁচটি পৌরসভায় সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসবো। পরবর্তীতে ইউনিয়নে সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্তো করা হবে।
রাজন/মাহফুজ