ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে 'সি' গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব বাংলাদেশ নারী দলের টি-টোয়েন্টি অভিযান আজ শুরু বিশ্ববাজারে কেন কমছে সোনার দাম? হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার দুপুরের মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা সালমান (রা.) কীভাবে সত্যকে চিনলেন? নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের মরক্কো-ব্রাজিল দ্বৈরথে কাঁপল মেটলাইফ, গ্যালারিতে ৮০ হাজারের মহাসমুদ্র! রংপুরে চিকিৎসককে মারধর: মায়ের মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস যুবকের সিলেট সিটি করপোরেশনে চলতি বছরে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে: সিসিক প্রশাসক চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের মধুখালীতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’ প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি ‘ফেবারিট’ তুরস্কের সামনে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া পরিদর্শন নেই, অরক্ষিত রেলপথ বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’ বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আরআইবিএর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ব্র্যাকইউনিভার্সিটির পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস রাজবাড়ীতে ‘ভুয়া মামলার’ গ্যাঁড়াকলে শিক্ষক দম্পতি: সাক্ষীদের অস্তিত্ব ও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন লুপাস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য, জিন থেরাপিতে সুস্থ ৫ রোগী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’ বাজেটের রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই
Nagad desktop

কালীগঞ্জে ট্রাকচাপায় নারী নিহত

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
কালীগঞ্জে ট্রাকচাপায় নারী নিহত
ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ট্রাকচাপায় ইসমত আরা বেগম (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চৌধুরী মোড় বটতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইসমত আরা বেগম উপজেলার মাদাতী ইউনিয়নের কাকজিটারি গ্রামের মো. মজমুল হকের স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছোট ভাইয়ের মোটরসাইকেলে তুষভান্ডার বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন ইসমত আরা। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বুড়িমারীগামী একটি ডাম্পট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে স্বজনেরা মরদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সিদ্দিক জানান, ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

এমআই বকুল/অমিয়/

রংপুরে চিকিৎসককে মারধর: মায়ের মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস যুবকের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩২ এএম
রংপুরে চিকিৎসককে মারধর: মায়ের মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস যুবকের
রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসককে মারধরের পর পরিচালকের কার্যালয়ে রিফাত হোসেনের কান ধরে উঠবস করার দৃশ্য। —ছবি: খবরের কাগজ

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রোগীর ছেলে রিফাতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।

স্বজনদের দাবি, একপর্যায়ে অভিযুক্ত রিফাত হোসেনকে কান ধরে ওঠবস করানোর পর মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। এর আগে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

রোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে রংপুর নগরের নিউ জুম্মাপাড়া এলাকার মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী নুর নাহার বেগমকে (৫৫) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় অক্সিজেন দেওয়ার কথা বললে চিকিৎসকরা ভর্তির কাজ সম্পন্ন করে আসার পরামর্শ দেন। এর মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হয়।

এ সময় চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মৃতের ছোট ছেলে রিফাত। একপর্যায়ে রিফাত ও চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডা. নাঈম বকশীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। একপর্যায়ে শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন তারা।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, নুর নাহার বেগমের মৃত্যুর পরও তার মরদেহ হাসপাতালের আইসিইউতে আটকে রাখা হয় এবং রোগীর স্বজনদের দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে বাড়িতে নেওয়ার সময় কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী বাধা দেন। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ নামিয়ে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনেরা।

শনিবার দুপুরে হাসপাতালের মর্গের সামনে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের দেখা যায়। এ সময় তারা চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার দাবি করেন।

তবে মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আসিফ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। তবে কোনো মরদেহ আটকে রাখা হয়নি।”

একপর্যায়ে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত রিফাত হোসেন হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন- এমন খবর পান চিকিৎসকরা।

পরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় অভিযুক্ত রিফাত হোসেনকে প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবস করানোর দাবিতে তারা স্লোগান দিতে থাকেন। পরবর্তীতে পরিচালকের কার্যালয়ের ভেতরে রিফাতকে কান ধরে ওঠবস করানোর পর তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অন্যদিকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবিতে স্বজনরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

এ সময় নুরুজ্জামান রিন্টু বলেন, “ভোরবেলা থেকে এখন পর্যন্ত মায়ের মুখটা দেখতে পারলাম না। মারা যাওয়ার পরও মা কষ্ট পাবেন, এটা ভাবতে পারিনি। আমি আমার মায়ের লাশ দাফন করতে পারছি না। সরকারি মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে এসে যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে মানুষ কীভাবে আসবে? আমি আমার মায়ের লাশ চাই।”

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, “হাসপাতালে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। রোগীটিকে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আনা হয়। আনার পরই তিনি মারা যান। সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি, সেখানে ডাক্তারের কোনো ভুল ছিল না। কোনো কারণ ছাড়াই সামনে থাকা ডাক্তারকে মারধর করা হয়েছে।”

মরদেহ আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মরদেহ আটকে রাখার বিষয়টি সঠিক নয়। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে সেখানে অনেক লোকজন ছিল, ফলে মরদেহটি গাড়িতে তোলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। সবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু সময় মরদেহটি মর্গে রাখা হয়। পরে আমরা মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা অভিযোগ করব, এজাহার দেব। অভিযুক্তকে পুলিশের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে।”

শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, “এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”

সেলিম সরকার/আজহার

চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে ইকবাল হোসেন মালিতা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টার দিকে মোমিনপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত ইকবাল হোসেন মালিতা আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের কান্তপুর গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত আলতাব হোসেন মালিতার ছেলে।

রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে চিলাহাটি অভিমুখী রকেট এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় তার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বড় ভাই জানান, ইকবাল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াতেন। চারদিন আগে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি আত্মহত্যার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন। এছাড়া তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের দাবি। জীবিকার তাগিদে তিনি বিভিন্ন ট্রেনে ভিক্ষাবৃত্তি করতেন।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের উপপরির্দশক এসআই জগদীশ জানান, বিকেল ৩টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর সত্যতা পায়। পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে নিহত ব্যক্তি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদক ইনজেকশন ব্যবহার করতেন। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও রয়েছে। তার স্ত্রী মারা গেছেন এবং তার চার কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় ট্রেনে ঘুরে বেড়াতেন।

মিজানুর রহমান/অন্তরা

সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর সেনবাগে দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও একজন।

শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কানকিরহাট-ছাতারপাইয়া-সোনাইমুড়ী সড়কের সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড় এলাকার মুন্সি দোকান নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুইভাই আসিফ ও আরিফ সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া গ্রামের মো. আলমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনজন দ্রুতগতির মোটরসাইকেলে করে ছাতারপাইয়ার দিকে যাচ্ছিল। পথে মুন্সি দোকান এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ছাতারপাইয়া বাজারের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই ভাই আসিফ ও আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে আহত শাওনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আপন দুই ভাই নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

ইকবাল/আমান

বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ
ছবি: সংগৃহীত

দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলারসংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক-প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না। বরং সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এমন বাস্তবতায় নতুন বাজেটে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগের কথা বলেছে। পাশাপাশি বন্ধ শিল্পকলকারখানা চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজও দিয়েছে সরকার। 

বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রায় এক দশক ধরে জিডিপির ২২-২৩ শতাংশের আশেপাশে আটকে আছে। অথচ দেশের উন্নতির জন্য এই বিনিয়োগ কমপক্ষে ৩০ শতাংশ হওয়া উচিত। 

সরকার এবারের বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা বলেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প খাতে কর সুবিধা অব্যাহত রাখা, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পপার্কে অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার উদ্যোগ, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসা সহজীকরণ উন্নত করার পরিকল্পনা। এ ছাড়া কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সরকার বলছে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বেসরকারি খাতকেই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হলেও সেগুলো সমাধানের স্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি। শুধু সমস্যাগুলো উল্লেখ করলেই হবে না, বরং সেগুলো দূর করার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হন। কেননা, শুধু বাজেটে প্রণোদনা বা ঘোষণা দিলেই বিনিয়োগ বাড়ে না; বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই সবচেয়ে বড় বিষয়। বর্তমানে সেই আস্থার জায়গাটিই দুর্বল। তাদের মতে, ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট এবং উচ্চ সুদের হার নতুন বিনিয়োগে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠেছে। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ পাচ্ছেন না, আবার যারা পাচ্ছেন তাদের জন্য ঋণের খরচও বেড়েছে। ফলে নতুন শিল্প স্থাপন বা সম্প্রসারণে অনীহা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা শিল্প খাতের বড় উদ্বেগ। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে সতর্ক থাকছেন।

এই প্রসঙ্গে সাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সংস্কারের মাধ্যমে একটি প্রকৃত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হলেও সেগুলো সমাধানের স্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি। শুধু সমস্যাগুলো উল্লেখ করলেই হবে না, বরং সেগুলো দূর করার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হন। তিনি বলেন, বাজেটে সরকারের ঘোষিত বিনিয়োগ উদ্যোগ আংশিক বাস্তবায়ন সম্ভব হলেও স্বল্প সময়ে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রবাহ তৈরি করা কঠিন হবে। কারণ অর্থনীতির সামষ্টিক স্থিতিশীলতা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে বাংলাদেশ এখনো আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে। কেননা, একই ধরনের শ্রমবাজার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অনেক বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশকে পাশ কাটিয়ে অন্য দেশে যাচ্ছে, কারণ সেখানে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ। শুধু কর রেয়াত দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আসে না; প্রয়োজন আইনের শাসন, চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা, মুনাফা স্থানান্তরের স্বচ্ছ ব্যবস্থা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো।

এ প্রসঙ্গে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে শুধু কর ছাড়, শুল্ক সুবিধা বা প্রণোদনা যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল ব্যবসা পরিবেশ, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অপরিহার্য। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বেসরকারি খাত বিনিয়োগ করবে, কিন্তু বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা পরিচালনার উপযোগী পরিস্থিতি সৃষ্টি করা রাষ্ট্রেরই কাজ। এই পরিবেশ নিশ্চিত না হলে কেবল প্রণোদনা বা নীতিগত ঘোষণা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ অর্জন সম্ভব নয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা নতুন নয়; বরং বাস্তবায়নই মূল সমস্যা। বিভিন্ন সময়ে কর অবকাশ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ওয়ান স্টপ সার্ভিস, দ্রুত অনুমোদনের মতো নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, প্রশাসনিক জটিলতা, অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, ভূমিসংকট, দুর্নীতি এবং নীতির ধারাবাহিকতার অভাব বিনিয়োগ পরিবেশকে দুর্বল করে রেখেছে। অনেক ক্ষেত্রেই নীতিগত ঘোষণা থাকলেও মাঠপর্যায়ে উদ্যোক্তারা প্রত্যাশিত সুবিধা পান না।

তাদের মতে, এবারের বাজেটে উৎস করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর ৪ শতাংশে হ্রাস, ৬০টি নিত্যপণ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে উৎসে কর, পাঁচ বছরের কর কাঠামোর আগাম ঘোষণা এবং স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে কর ছাড়ের বিষয়টি বেশ প্রশংসার যোগ্য। ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং ত্রিমাসিক অনলাইন ভ্যাট রিটার্নের বিধানকে স্বাগত জানান তারা। তবে মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখা ও সর্বোচ্চ আয়কর ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ হতাশাজনক। তবে বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, এসি ও প্রযুক্তিপণ্যে কর হ্রাস দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে। মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসারে সহায়ক হবে।

অর্থনীতিকে গতিশীল করতে ব্যাংকঋণের সুদহার কমানো, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি (গ্যাস-বিদ্যুৎ) সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ঘন ঘন রাজস্বনীতি পরিবর্তন না করার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মীর নাসির। খবরের কাগজকে তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য কর ছাড়ের চেয়েও বেশি প্রয়োজন নীতি-স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ। উদ্যোক্তা যদি মনে করেন আগামী বছর নীতিমালা বদলে যাবে, তাহলে তিনি বড় বিনিয়োগে যাবেন না। পাশাপাশি বাজেটে যেসব আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো কাগজ-কলমে না রেখে মাঠপর্যায়ে কতটুকু বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভাগ্যে এর সুফল কতটুকু পৌঁছায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। 

একই বিষয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তবে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ঘোষিত সংস্কারের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে এই বাজেটের প্রকৃত সাফল্য। তবে বাজেটের ঘাটতি পূরণে সরকার যদি ব্যাংক থেকে অতিমাত্রায় ঋণ নির্ভর হয়, তাহলে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি সরকার সত্যিকার অর্থে প্রশাসনিক বাধা কমাতে পারে, দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে এবং নীতি-অনিশ্চয়তা দূর করে, তাহলে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। 

রাজবাড়ীতে ‘ভুয়া মামলার’ গ্যাঁড়াকলে শিক্ষক দম্পতি: সাক্ষীদের অস্তিত্ব ও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
রাজবাড়ীতে ‘ভুয়া মামলার’ গ্যাঁড়াকলে শিক্ষক দম্পতি: সাক্ষীদের অস্তিত্ব ও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন
প্রতীকী ছবি

রাজবাড়ীতে এক শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে ভুয়া মামলা করে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোছা. কুলসুম ওরফে ক্যাসেট এই মামলাটি করেছেন।

তবে ভুক্তভোগী শিক্ষক দম্পতির দাবি, তারা এই নারীকে আগে কখনো দেখেননি। এমনকি পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক দম্পতি হলেন মো. গোলাম আওয়াল খান মাসুদ ও মোছা. মাছুমা খাতুন। তারা দুজনেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। গোলাম আওয়াল খান মাসুদের বাড়ি সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের গঙ্গাপ্রসাদপুর গ্রামে। বর্তমানে রাজবাড়ী শহরের নতুন বাজার এলাকায় বসবাস করেন। অন্যদিকে মামলার বাদী কুলসুমের বর্তমান ঠিকানা পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া উল্লেখ করা হলেও তিনি বোয়ালিয়াতেই থাকেন বলে এলাকাবাসী নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী কুলসুমের ছেলে শামছুল মণ্ডলকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে শিক্ষক দম্পতি গত বছরের ১৫ জানুয়ারি ৫ লাখ টাকা নেন। পাঁচ মাসের মধ্যে তাকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পাঠাতে পারেননি। এক পর্যায়ে আসামিদের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর পাংশা আমলি আদালতে মামলা করেন বাদী। গত এপ্রিল মাসের ১১ তারিখে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়েছে উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

তবে মামলার আসামিদের দাবি, বাদীর সঙ্গে তাদের কোনো পূর্বপরিচয় নেই এবং বাদীর কাছ থেকে তারা কোনো টাকা নেননি। তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে।

মামলাটি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। মামলায় ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও টাকা লেনদেনের কোনো লিখিত প্রমাণ বাদীপক্ষ দেখাতে পারেনি।

মামলায় মোট পাঁচজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ নম্বর সাক্ষী বাদীর ছেলে শামছুল মণ্ডল। তিনজন পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেমনামারা গ্রামের কলিম উদ্দিনের ছেলে সবির খাঁ, জব্বার খাঁর ছেলে হাবিবুর রহমান ও ইসমাইলের ছেলে গোলাম সরোয়ার। অন্যজন পাংশা উপজেলা কসবাঝাইল ইউ‌নিয়নে‌ কুটিমালিয়াট গ্রামের ফণী ভূষণ বসুর ছেলে সাগর বসু। এদের মধ্যে শুধু সাগর বসুকে খুঁজে পাওয়া গেছে। বাকি সাক্ষীদের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।

সাগর বসু জানান, তিনি মামলার বাদী কুলসুম নামে কাউকে চেনেন না। গত পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি কোনো মামলার সাক্ষীও হননি। তার নাম কীভাবে এই তালিকায় এল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাদীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান।

মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও বাদীর ছেলে শামছুল মণ্ডল বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার জন্য তার মা রাজবাড়ীর একজনের কাছে টাকা জমা দিয়েছিলেন। তবে তিনি সেই ব্যক্তিকে কখনো দেখেননি। টাকা দেওয়ার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।’

তাহলে কীভাবে তার চোখের সামনে টাকা দেওয়া হয়েছে মর্মে সাক্ষী দিলেন–এমন প্রশ্নের জবাবে শামছুল বলেন, ‘আমার মা গিয়ে টাকা দিয়ে এসেছে। তার মাধ্যমে আমি জানতে পারি।’ শামছুল আরও জানান, তার মায়ের কোনো বোন নেই। তারা দুই ভাই এক বোন।

অথচ প্রতিবেদক দেখা করতে চাইলে প্রথমে সময় দিয়েছিলেন বাদী কুলসুম। পরে এলাকায় গিয়ে ফোন করলে তিনি বলেন, আধা ঘণ্টা আগে পাবনায় তার বোন মারা গেছেন এবং তিনি সেখানে যাচ্ছেন।

গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বাদী কুলসুমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে আছেন। কিন্তু বোয়ালিয়া গ্রামে গিয়ে ফোন করলে তিনি আবারও দাবি করেন, আধা ঘণ্টা আগে পাবনায় তার বোন মারা গেছেন এবং ধাওয়াপাড়া ঘাটে ফেরিতে উঠে গেছেন তিনি। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের সহায়তায় কুলসুমের বাড়িতে গিয়ে ঘরে তালা ঝুলতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর কুলসুমের পুত্রবধূ বাড়িতে এসে জানান, তার শাশুড়ি বাড়িতেই ছিলেন। ফোনে কথা বলার পর কোথায় যেন চলে গেছেন।

পরে কুলসুমের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আপনি কিসের সাংবাদিক। আপনি আমার বাড়িতে গিয়েছেন কেন? আমি আদালতে মামলা করেছি, আদালতেই এর ফয়সালা হবে। আপনার কাছে এর জবাব দিতে আমি বাধ্য নই। আপনাদের সবার নামে আমি মামলা দেব।’ এই কথা বলে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় কুলসুম প্রতিবেদককে ফোনে মামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে মামলায় ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। কিন্তু এই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। মামলার ১ নম্বর সাক্ষী বাদীর ছেলেই স্বীকার করেছেন, টাকা লেনদেনের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। তাহলে কীভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তসাপেক্ষে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। যদি এই প্রতিবেদনের বিষয়ে আসামিপক্ষের আস্থা না থাকে, তাহলে তারা আদালতের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন। আদালতই বিষয়টি দেখবে।’

ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. গোলাম আওয়াল খান মাসুদ বলেন, ‘যে আদালতে মামলা হয়েছে সেখানে আমার একজন বন্ধু চাকরি করে। সে আমাকে মামলার বিষয়ে জানায়। কুলসুমকে আমি কখনো দেখিনি। তার সঙ্গে কথাও হয়নি কখনো। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই শিক্ষকতা করি। এর বাইরে আমরা কোনো কিছুর সঙ্গেই জড়িত না। মামলার বিষয়ে পুলিশও কখনো যোগাযোগ করেনি। আমরা এই মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি চাই। সঠিক তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।’