ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব: এমপির পিএ ও যুবদল কর্মীর অডিও ভাইরাল বৃষ্টি মনোমুগ্ধকর খুনি প্রথম কবি দেখা ও কয়েক টুকরো স্মৃতি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪ ‘দোষ সব আমার, খেলোয়াড়দের ওপর থেকে নজর সরান’: প্যারাগুয়ে কোচ মিথ্যার চোরাস্রোত বয়ে যায় আর্থিক সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত, শিক্ষার্থীর পাশে প্রতিমন্ত্রী অনুবাদ হয় না মানুষের স্মৃতির ভেতর অন্ধকারের গান প্রেমের এলিজি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত দুবাইগামী যাত্রীর লাগেজ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ রেকর্ড থেকে ৫ কদম দূরে দিবু মার্তিনেস সমাজবোধ ও জীবনবীক্ষা জুহান্নুস: ফিনল্যান্ডের সেই অনন্য উৎসব, যখন পুরো দেশ চলে যায় প্রকৃতির কোলে জামিন পেয়েও নতুন মামলায় আটক সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী হাইতি ম্যাচে পরিবর্তনের আভাস আনচেলত্তির বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য ফুটবল ও লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্য ‘আফ্রিকান ব্রাজিলিয়ান’ মরক্কো ফুটবল শেখাল আসল ব্রাজিলকে: বোমেল প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী টিভিতে আজকের খেলা বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান

টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল দেরিতে এসে খেয়ালখুশির চিকিৎসাসেবা

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ১০:০১ এএম
দেরিতে এসে খেয়ালখুশির চিকিৎসাসেবা
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রোগীদের ভিড়। ইনসেটে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আমামা আক্তারের তালাবদ্ধ কক্ষ। ছবি: খবরের কাগজ

সোয়া এক লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাড়েনি চিকিৎসকের সংখ্যা। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ঠিকমতো হাসপাতালে আসেন না। ফলে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে টুঙ্গিপাড়াসহ আশপাশের আরও কয়েক উপজেলার মানুষ।

রোগীদের অভিযোগ, টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও তারা নিয়মিত রোগী দেখেন না। আসেন নিজেদের ইচ্ছেমতো। এ ছাড়া রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট ছাড়া দেখতে না চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে এসব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহমেদ প্রথমে চিকিৎসকদের পক্ষে সাফাই গেয়ে পরে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ২০৭ নাম্বার কক্ষে প্রবেশ করেন অর্থোপেডিক চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) কাজী করিম নেওয়াজ। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ২০৬ নম্বর কক্ষের শিশু চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) ডা. আমামা আক্তারের কক্ষটি ছিল তালাবদ্ধ। পরে তাকে মোবাইলে কল দিলে ১১টা ৫০ মিনিটে নিজের কক্ষে আসেন তিনি। গাইনি চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) ডা. শিপ্রা নন্দীর কক্ষটিও ছিল তালাবদ্ধ। কারণ সপ্তাহে মাত্র দুই দিন টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে আসেন তিনি। সেই হিসাবে মাসে মাত্র আট দিন এসে তুলছেন পুরো মাসের বেতন। চক্ষু চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) ডা. আবির মল্লিক হাসপাতালে ছিলেন না। আর জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেসিয়া) ডা. মো. শাহজাহানের পোস্টিং টুঙ্গিপাড়া হলেও তিনি সব সময় থাকেন মুকসুদপুরে। তাই তাকেও পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কনসালটেন্ট ১০টি ও জুনিয়র কনসালটেন্ট ১১টিসহ মোট ২১টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র পাঁচজন জুনিয়র কনসালটেন্ট।  

টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী গ্রামের রানা শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘গত রবিবার সকালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পান। হাসপাতালে গিয়ে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও অর্থোপেডিক চিকিৎসকের দেখা পাইনি। পরে গোপালগঞ্জ শহরে গিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অন্য অর্থোপেডিক ডাক্তার দেখিয়েছি। এতে সময় আর অর্থ দুটোই ব্যয় হয়েছে।’ 

এ ছাড়া চিকিৎসা নিতে আসা বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার কলাতলা গ্রামের আরাফাত হোসেন বলেন, ‘টুঙ্গিপাড়া হাসপাতাল আমাদের খুব কাছে। আমরা এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকি। এখানে চিকিৎসকের সংখ্যা কম। তার পরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিয়মিত আসেন না। আমাদের সঙ্গে চিকিৎসকরা দুর্ব্যবহার করেন। তাদের বলে দেওয়া নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট দেখেন না।’ 

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার সাচিয়া গ্রামের আবু আমের বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এখানে নিয়মিত থাকেন না। তাই আমরা ভালো চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হই। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে তারা নিজেদের মনমতো কর্মস্থলে আসেন। আমাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’ 

বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আসার বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালের অর্থোপেডিক চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) ডা. কাজী করিম নেওয়াজ বলেন, ‘এক মাসও হয়নি এখানে যোগদান করেছি। বেতন-ভাতা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে আসতে একটু দেরি হয়েছে।’

শিশু কনসালটেন্ট ডা. আমামা আক্তার বলেন, ‘একটু শরীর খারাপ থাকায় আসতে দেরি হয়েছে।’ এ ছাড়া গাইনি চিকিৎসক ডা. শিপ্রা নন্দী, চক্ষু চিকিৎসক আবির মল্লিক ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেসিয়া) ডা. মো. শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা  করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। এ কারণে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এসব বিষয়ে প্রথমে চিকিৎসদের পক্ষে সাফাই গেয়ে পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহমেদ। 

তিনি বলেন, ‘অর্থোপেডিক চিকিৎসকের বাসা দূরে হওয়ায় আসতে একটু দেরি হয়। আর শিশু ও চক্ষু চিকিৎসক ছুটির আবেদন করেছেন।’ তবে আবেদনের কোনো লিখিত কপি দেখাতে পারেননি তিনি। আর জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেসিয়া) ডা. মো. শাহজাহানের মূল কর্মস্থল টুঙ্গিপাড়া হলেও আগের সিভিল সার্জনের নির্দেশে তিনি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে থাকেন, টুঙ্গিপাড়া আসেন না। এ ছাড়া অনিয়মিত চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা দেওয়ার পর ঠিক না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। 

এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব: এমপির পিএ ও যুবদল কর্মীর অডিও ভাইরাল

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব: এমপির পিএ ও যুবদল কর্মীর অডিও ভাইরাল
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে পিএ আরমান উদ্দিন এবং যুবদল কর্মী তারিকুল হক। ছবি: সংগৃহীত

এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব, এরপর এমপি থেকে বলতে হবে, তিনি এখানে কেন আসছেন? এখানকার এমপি হচ্ছেন আরমান সাহেব। এখানে এমপি কী জন্য আসবেন? এ কথা বলে ফোনের একপ্রান্ত থেকে মন্তব্য করেন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা যুবদল কর্মী তারিকুল হক।

অপরপ্রান্ত থেকে জবাবে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মো. আরমান উদ্দিন বলেন, এমপিকে তো লোহাগাড়ায় না আসতে বলি, তারপরেও লোকজনের জ্বালায় আসে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাল হওয়া পুরো অডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, লোহাগাড়া উপজেলার পানত্রিশা, পুরানো বিওসি রাজঘাটা ও পুটিবিলা এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে তাদের দু'জনের মধ্যে এসব কথোপকথন হয়েছে।

এদিকে, যুবদল কর্মী তারিকুল হক দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। অপরদিকে, এমপির পিএ মো. আরমান উদ্দিনের সঙ্গেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের গোপন সখ্যতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

জানা গেছে, সম্প্রতি স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী চুনতি ইউনিয়নের পানত্রিশা এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় জড়িতরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। পরে পুলিশ সেখানে থাকা বেশ কয়েকটি শ্যালো মেশিন বিকল করে দেন। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দকে অবগত করেন। এর পরপরই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন অভিযান চালিয়ে বালুগুলো জব্দ করেন।

আরও জানা গেছে, উপজেলার পুরোনো বিওসি রাজঘাটা এলাকার টংকাবতী খালের পাড় কেটে দেদারসে বালু বিক্রি করা হয়েছে। সেখানে স্থানীয় মো. হোসেন নামে এক ব্যক্তি বাধা দিলে তাকেও মারধরের চেষ্টা করা হয়।

প্রশাসনের তৎপরতায় বর্তমানে সেখান থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। মূলত তারিকুলসহ আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি রাতের আঁধারে এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে বালুগুলো লুট করে অন্যত্র বিক্রি করে দেন।

জানা গেছে, বিগত কয়েক মাস আগে পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে সরই খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। পরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী অভিযান চালিয়ে শ্যালো মেশিন বিকলের পাশাপাশি ডাম্প ট্রাক জব্দ করে সংশ্লিষ্ট আইনে প্যানেল চেয়ারম্যান ইকবালসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে উপজেলা প্রশাসন বালুগুলো জব্দ করেন এবং নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করেন।

স্থানীয় একটি সূত্র খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ছড়া ও খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে বেশ কয়েকটি বালুখেকো সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে। তারমধ্যে তারিকুল, হিরু, আদিল, আরমান, ইকবাল, নাজিম, আরিফ, হোসেন এবং তৌহিদসহ আরও একাধিক ব্যক্তি এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। তাদের মধ্যে কেউ সরাসরি বালু উত্তোলন, কেউ বিক্রি আবার কেউ এক্ষেত্রে তদবির বাণিজ্য করে থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে যুবদল কর্মী তারিকুল হকের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে এমপির পিএ মো. আরমান উদ্দিনের ফোনে যোগাযোগ করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, স্থানীয় জনসাধারণ ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে পানত্রিশা নামক জায়গায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি শ্যালো মেশিন বিকল করা হয়েছে। পরবর্তীতে ইউএনও'কে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন বালুগুলো জব্দ করেন। এ ছাড়াও বিগত কয়েকমাস আগে পুটিবিলা সরই খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলাও করা হয়।

এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চুনতি ইউনিয়নের পানত্রিশা এলাকায় অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালুগুলো জব্দের বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে এক ব্যক্তি রিসিভ করে তিনি (শাহজাহান চৌধুরী এমপি) ব্যস্ত আছেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের (২৫ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর ইস্পাহানি মোড়ের একটি রেস্টুরেন্টে মো. আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায় ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজত খাটানোর অভিযোগ তুলে খোরশেদ আলম নামে এক ব্যবসায়ী সংবাদ সম্মেলন করেন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় বর্তমান সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর পাশে আরমানকে তেমন একটা দেখা যায়নি। বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় থেকে আরমান পুনরায় শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম

আর্থিক সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত, শিক্ষার্থীর পাশে প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১১ পিএম
আর্থিক সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত, শিক্ষার্থীর পাশে প্রতিমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

আর্থিক সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চয়তার মুখে বান্দরবানের এক মেধাবী পাহাড়ি শিক্ষার্থী। যার পাশে দাঁড়িয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। 

জানা গেছে, মেধার ভিত্তিতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন ওই শিক্ষার্থী। ভর্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে থাকায় তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেন। পরে শিক্ষার্থীর সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়ে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পথ সহজ হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও তার পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগকে তারা প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, সহায়তা পেয়ে শিক্ষার্থী ও তার পরিবার প্রতিমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।

রিজভী রাহাত/অন্তরা

দুবাইগামী যাত্রীর লাগেজ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
দুবাইগামী যাত্রীর লাগেজ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে দুবাইগামী এক যাত্রীর হ্যান্ড লাগেজ তল্লাশী করে বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা, বিমানবন্দর কাস্টমস শাখা, এনএসআই, ডিজিএফআই।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬৫ দুবাই দিরহাম ও ৪৭৯০ ওমানি রিয়াল জব্দ করা হয়। ওই যাত্রীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার ডিপার্চার লাউঞ্জে দুবাইগামী যাত্রী মোহাম্মদ আবু বক্করের (চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা) হ্যান্ড লাগেজ তল্লাশী করে বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করে বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৯৪ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৭ টাকা।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল খবরের কাগজকে বলেন, আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে তিনি পতেঙ্গা থানার হেফাজতে রয়েছেন।

ইফতেখারুল/থিওটোনিয়াস

জামিন পেয়েও নতুন মামলায় আটক সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
জামিন পেয়েও নতুন মামলায় আটক সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

প্রায় এক বছর তিন মাস পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েও কারামুক্ত হতে পারেননি সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে আদালত একটি পৃথক মামলায় তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠায়।

কাজী কেরামত আলীর আইনজীবীরা জানান, ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট জিআর নং-৩৩২/২৪ মামলার ২ নম্বর আসামি হিসেবে তাকে ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর জিআর নং-৩৩৪/২৪ মামলাতেও তাকে আসামি দেখানো হয়।

জিআর ৩৩৪/২৪ মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এবং জিআর ৩৩২/২৪ মামলায় গত ৪ জুন হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন কাজী কেরামত আলী। এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর গত ৯ জুন তার কারামুক্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই দিনই পুলিশ তাকে জিআর ৩৬৫/২৪ অপর একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজবাড়ীর ১ নং আমলি আদালতে এ শুনানি হয়। শুনানি শেষে পুনরায় কাজী কেরামত আলীকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কাজী কেরামত আলীর আইনজীবী এ‌্যাড. আশরাফুল ইসলাম আশা খবরের কাগজকে বলেন, কাজী কেরামত আলী একজন বিনয়ী ও সাদামাটা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। যেসব মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে, তা জামিনযোগ্য। এ ছাড়া এসব ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ৭৫ বছর বয়সী কাজী কেরামত আলী শারীরিকভাবে অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি রেখে তাকে চিকিৎসা সেবা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। 

সুমন বিশ্বাস/থিওটোনিয়াস

সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:০০ এএম
সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার সাজিনাস হাসপাতাল-এ চিকিৎসা অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ মোট আটজন চিকিৎসককে আসামি  করে মামলা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা আমাতুল মাকনুন বৃহস্পতিবার (১৮জুন) চট্টগ্রামের ৩য় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে এ অভিযোগ দায়ের করেন।

আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ২৫ মে সার্জিস্কোপ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বায়েজিদ লিঙ্ক রোডে অবস্থিত সাজিনাস হাসপাতাল-এর এনআইসিইউতে ভর্তি করান। তখন শিশুটির শ্বাসকষ্ট ছাড়া অন্য কোনো জটিলতা ছিল না বলে দাবি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ মে শিশুটির বাম হাতে ব্যান্ডেজ দেখতে পান মা। পরে দেখা যায়, হাতের তালু কালো হয়ে গেছে এবং আঙুলে গ্যাংগ্রিন শুরু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় পরবর্তীতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে পুরো শরীরে।

পরবর্তীতে শিশুটিকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভুলভাবে আইভি ক্যানুলা স্থাপন এবং সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের জটিলতার কারণে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর ৪ জুন শিশুটি মারা যায়।

অভিযুক্তরা হলেন—হাসান মাহমুদ চৌধুরী, ডা. আনোয়ার হোসেন, ডা. ফয়সাল আহমেদ, ডা. আদনান ওয়ালিদ, ডা. মিনহাজুল হাসান, ডা. হাবিবুর রহমান, ডা. ফজলে মারুফ এবং ডা. তামিম সাফায়েত চৌধুরী। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সকেও আসামি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভাশীষ শর্মা বলেন, "আদালত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।"

আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে পোস্ট করেন ভুক্তভোগী মা আমাতুল মাকনুন। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ঘটনাটি আলোচনায় আসে।

আবদুস সাত্তার/তামান্না রুপা/