চট্টগ্রামে জ্বরের কারণে বহু পরিবারের ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। রমজান মাসের মাঝামাঝি থেকে জেলায় জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। তবে অধিকাংশ রোগী চিকিৎসকের পরামর্শে ঘরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ কারণে হাসপাতালগুলোতে চাপ তুলনামূলক কম ছিল বলে জানা গেছে।
রাজধানীতে সরকারি চাকরি করেন জেলার নাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে শত দুর্ভোগ সহ্য করে বাড়িতে এসেছেন। কিন্তু মেয়ের জ্বরের কারণে তা ম্লান হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘মেয়ে আমার মাথা তুলতেই পারছে না। শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রির ওপরে। জ্বরের ওষুধ খাওয়ানোর কিছুক্ষণ পর শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আবার বাড়ছে। স্ত্রী ও আমি মেয়ের শুশ্রূষা নিয়েই ব্যস্ত।’
ফটিকছড়ি পৌর এলাকার বাসিন্দা ফরহাদুল ইসলাম জানান, ঈদের আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতে তিনি পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে গ্রামে গিয়েছেন। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী জ্বরে আক্রান্ত হন। গ্রামের বাড়িতে থাকা তার মা, ভাইয়ের চার মেয়ে জ্বরে আক্রান্ত। ঈদের আনন্দ উপভোগ করা দূরের কথা, সবাই রোগী নিয়ে ব্যস্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার অনেক পরিবারের ঈদআনন্দ জ্বরের কারণে বিষাদে রূপ নিয়েছে। তবে অধিকাংশ রোগী ঘরে চিকিৎসা নিয়েছেন। একদিকে ঈদের ছুটিতে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের সংখ্যা ছিল অপ্রতুল। অন্যদিকে চিকিৎসকরাও জ্বরের রোগীদের খুব বেশি সিরিয়াস না হলে বাসায় ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন।
ফটিকছড়ি পৌর এলাকার চিকিৎসক ডা. মাহমুদা আলম জানান, জ্বরের মাত্রা শুরুর দিকে তীব্র হলেও তা ধীরে ধীরে কমে আসে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. এ এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, ‘প্রতিবছরই বসন্তের শুরুতে ভাইরাস জরের ফ্লু আসে। আবহাওয়ার পরিবর্তন ও পরিবেশগত কারণে এই সময়ে এমনটি হয়ে থাকে। এই জ্বর পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মৌসুমী রোগে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগী ঘরে বসে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে যান। হাসপাতালে আসার প্রয়োজন পড়ে না। কেউ এলেও আমরা চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিই।’
চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা জ্বর সর্দি কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পাঁচ থেকে সাত দিন পর এসব জর স্বাভাবিকভাবেই ভালো হয়ে যাবে। এতে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর দরকার নেই। তবে জ্বর সাত দিনের বেশি হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ মতে পরবর্তী চিকিৎসা দিতে হবে।’ দুগ্ধপান করা শিশুদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের কোনোভাবেই যেন মায়ের বুকের দুধ পান করানো বন্ধ না করা হয়।’