ঈদ শেষ হলেও বাড়তি দামের রেশ কাটেনি মুরগির বাজারে। উল্টো বাজারে পণ্যটির দাম আরও বেড়েছে, যা একেবারে ক্রেতার নাগালের বাইরেই চলে গেছে। সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে স্থিতিশীল রয়েছে ডিমের বাজার।
রমজানের আগে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। রমজানের মাঝামাঝি সময়ে বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ২২০ টাকায়। চাঁদরাতে ২৩০ টাকা পর্যন্ত দাম ওঠে। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। অপরদিকে রমজানের আগে বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। ঈদের এক দিন আগে দাম বেড়ে বিক্রি হয় ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকায়। বর্তমানে দাম আরও বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায়। তা ছাড়া প্রতি কেজি দেশি মুরগি কিনতে গুনতে হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। অথচ গত মাসের মাঝামাঝি সময়েও দেশি মুরগি বিক্রি হয় ৬০০ টাকায়।
নগরীর হালিশহর কাঁচাবাজারে মুরগির বিক্রেতা মো. দিদার বলেন, ‘ঈদের ছুটির পর আজকের বাজারে ক্রেতা সমাগম কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু বাজারে চাহিদার তুলনায় মুরগির সরবরাহ কম। তাই দামটা বাড়তি। তবে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে।’
ঈদগা এলাকার বাসিন্দা মো. সিকান্দার বলেন, ‘রমজানের পর যেভাবে মুরগির দাম কমার কথা ছিল সেভাবে কমেনি। ঈদ শেষ। বিক্রেতারা এখনো ব্রয়রার মুরগি দাম চাইছেন ২০০ টাকা। দামাদামি করলে ১০ টাকা কমাচ্ছেন। সোনালি, দেশি মুরগি কেনার কথা তো এখন চিন্তাই করা যায় না। বাজারে তদারকি নেই বলে ব্যবসায়ীরা যাচ্ছেতাইভাবে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। আর সাধারণ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে সরবরাহ সংকট, পরিবহন খরচ বৃদ্ধির অজুহাত দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।’
এদিকে গরুর মাংসের দামও বাড়তি। বাজারে প্রতি কেজি হাড় ছাড়া গরুর মাংস ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাড়সহ বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকায়। অন্যদিকে খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায়। তবে স্থিতিশীল রয়েছে ডিমের বাজার। প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীরা সরবরাহ সংকট, পরিবহন খরচ বৃদ্ধিসহ নানা অজুহাতে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। অথচ সরকার এখনো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়নি। পণ্যের সরবরাহ আদৌ সংকটে আছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। মূলত বাজার তদারকি সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে না। তাই বাড়তি দামে ভোগ্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে।’