চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চেচুরিয়া এলাকায় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে খনন করা আদর্শ গ্রাম খালের দুইটি মুখ অবরুদ্ধ করে বাঁধ নির্মাণ ও খাল ভরাটের সময় শফিকুর রহমান নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হাতে-নাতে আটক করে ২ লাখ টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ওমর সানী আকনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভরাট করা খালের মাটি নিজ খরচে ভরাট এবং অবৈধ বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পরিচালিত অভিযানের পর আজ সোমবার বিকাল ৩টা পযর্ন্ত ওই আওয়ামী লীগ নেতা নিজ খরচে বাঁধ অপসারণ ও খালের মাটি পুনরায় ভরাট করে দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শফিকুর রহমান বৈলছড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড চেচুরিয়া এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, বাঁশখালীতে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭-৭৮ সালে নিজ হাতে একমাত্র খনন করা খাল হচ্ছে চেচুরিয়ার এই খালটি। উক্ত খাল দিয়ে বৈলছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি জলকদর খাল হয়ে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে মিলিত হয়। নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হওয়া বৈলছড়ি ইউনিয়নের একমাত্র সচল এই খালটিতে গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষের পরিকল্পনা করে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কাটার কাজ করছিলেন। একদিকে ভরাট অন্যদিকে খাল খনন করে খালটি এক প্রকার জবর দখল করে নেন ওই প্রভাবশালী। এমনকি খালের উভয় পাড়ের বেশ কিছু খাস জায়গাও জবর দখল করে মাছ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শফিকুর।
খবর পেয়ে গভীর রাতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বাঁশখালী থানা পুলিশের একটি টিমও অংশ নেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ওমর সানী আকন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটা অবস্থায় এক্সকেভেটরসহ শফিকুর রহমান ও তার লোকজনকে দেখতে পাই। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও শফিকুর রহমানকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তিনি দোষ স্বীকার করলে উক্ত অপরাধে চেচুরিয়া এলাকার বাসিন্দা শফিকুর রহমানক (৫০)-কে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর প্রাসঙ্গিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করার পাশাপাশি ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
তিনি জানান, জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিক আদায় করে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
জনস্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বৈলছড়ি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিকাশ দত্ত জানান, ওই আওয়ামী লীগ নেতা খালের কথা গোপন রেখে মাটি কাটার অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই তিনি খালে বাঁধ দেন এবং উভয় পাশের মাটি কেটে বিক্রি করে দেন। উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পর সোমবার নিজ উদ্যোগ বাঁধ অপসারণ ও কেটে ফেলা মাটি আবার ভরাট করে দিয়েছেন। বাঁধ অপসারণ ও ভরাটের সময় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
শফকত/মাহফুজ