চট্টগ্রাম জেলায় প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। সদর দপ্তরের অবস্থান ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের মধ্যে ত্রিমুখী বিরোধ এখন উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। নথিপত্র জালিয়াতির অভিযোগ ও ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে নতুন এই উপজেলা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, নতুন উপজেলার সদর দপ্তর কোথায় হবে, তা নিয়ে ভুজপুর ও হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা আইনি লড়াই চালাচ্ছেন। নিকারের (প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি) চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে নথিতে কারসাজির অভিযোগ তুলেছেন তারা। ভুজপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী শিপন বলেন, ‘মাঠ প্রশাসন সদর দপ্তর ভুজপুর থানার পাশে স্থাপনের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু একটি মহল জালিয়াতির মাধ্যমে নথিতে জুজখোলা নাম অন্তর্ভুক্ত করে।’
এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করা হলে আদালত জুজখোলার প্রস্তাব স্থগিত করেন। হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল চৌধুরী জানান, আদালতের রায়ে ভুজপুরে সদর দপ্তর হওয়ার বিষয়টিই এখন বহাল রয়েছে। ফলে প্রশাসনের ইস্যু করা অন্য সব কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত আছে।
এদিকে হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নের বাসিন্দারা নতুন উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিরোধিতা করছেন। হারুয়ালছড়ি জনস্বার্থ রক্ষা নাগরিক কমিটির দাবি, বর্তমান ফটিকছড়ি সদর থেকে তাদের দূরত্ব মাত্র ছয় কিলোমিটার। কিন্তু প্রস্তাবিত নতুন সদরের দূরত্ব হবে ১৮ থেকে ২০ কিলোমিটার। স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া অভিযোগ করেন, জনমত যাচাই ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নারায়ণহাট ও বাগানবাজার ইউনিয়নের বাসিন্দারা ভুজপুরে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবির সমালোচনা করেছেন। গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণহাটের সমাজসেবক মো. শফিউল আলম বলেন, ভুজপুরে সদর দপ্তর হলে তা বর্তমান উপজেলা সদর থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দূরে হবে। এতে উত্তর প্রান্তের বিশাল জনগোষ্ঠীর কোনো সুফল মিলবে না। তারা কেন্দ্রীয় কোনো অবস্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানান।
নিকারের নীতিমালা অনুযায়ী, নতুন উপজেলা গঠনে ভৌগোলিক বাস্তবতা ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে গণশুনানির মাধ্যমে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই এখন এই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ।
পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের হওয়ায় এ মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’