চট্টগ্রামের আনোয়ারায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আট বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত শিশুটিকে প্রথমে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড খাসখামা বদু তালুকদার বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিশুর নাম ইমতিয়াজ (৮)। সে প্রবাসী মো. সোলাইমান ও খোরশেদা বেগম দম্পতির ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার নাজেরা বিভাগে পড়ে।
এ ঘটনায় শিশুটির মা খোরশেদা বেগম আনোয়ারা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় আহত ইমতিয়াজসহ এলাকার কয়েকজন শিশু মাঠে খেলাধুলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী রিপুর ছেলে আবিদের সঙ্গে শিশুদের সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি কেন্দ্র করে অভিযুক্ত মো. রিপু (৩৫) ও মো. হিরু (৩০) ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তারা ইমতিয়াজকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে মাথায় তুলে আছাড় দেয় এবং কিল, ঘুষি ও লাথি মারে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরের ফলে শিশুটির নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হয় এবং বাম হাতে হাড় ভাঙাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
পরে শিশুটির চিৎকার শুনে তার মা ও স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে আহত শিশুটিকে প্রথমে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখা থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
আহত শিশুটির মা খোরশেদা বেগম বলেন, অভিযুক্তরা প্রতিবেশী হওয়ায় আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আমার ছেলেকে মারধরের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নিঝুম মজুমদার বলেন, ‘আহত রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আহত মাদরাসাছাত্রের মা বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, গত বছর একই বাড়িতে অভিযুক্ত প্রতিবেশীরা আবু তাহের নামের এক ব্যক্তির ছেলেকে মারধর ও তার স্ত্রী-বোনকে শ্লীলতাহানি করার দায়ে কারাভোগ করেন। পরে আদালতের মাধ্যমে জামিনে বেরিয়ে আসেন।
ওই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
আতিকুল হা-মীম/অমিয়/