বরগুনার পাথরঘাটায় নির্ধারিত দামের চেয়ে ব্যারেলপ্রতি ২ থেকে ৫ হাজার টাকা বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সমুদ্রগামী মাছ ধরার ট্রলারমালিক ও জেলেরা। তাদের অভিযোগ, বাড়তি টাকা না দিলে প্রয়োজনীয় জ্বালানি মিলছে না।
খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, পাথরঘাটা ঘাটে সমুদ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এফবি খাইরুল নামের একটি ট্রলারের জন্য তিন ব্যারেল ডিজেল কিনতে হয়েছে ৭৮ হাজার টাকায়। এতে অতিরিক্ত গুনতে হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা। শুধু এই ট্রলার নয়, প্রায় সব ট্রলার মালিককেই একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। আরো জানা গেছে, তেলের সংকট শুরুর আগে প্রতি ব্যারেল ডিজেলের দাম ছিল মানভেদে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা।
ট্রলার মালিকরা জানান, বাজারে ডিজেলের মজুত থাকলেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘এভাবে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি কিনতে হলে আমাদের পক্ষে সমুদ্রে যাওয়া সম্ভব হবে না। এতে পুরো মৎস্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে বিক্রেতাদের কেউ কেউ অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন। একটি রসিদে পাথরঘাটার মেসার্স বেলাল স্টোরে ব্যারেলপ্রতি ২৫ হাজার টাকা দরে ডিজেল বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে দোকানটির মালিক বেলাল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। আমি সরকার নির্ধারিত দামের কাছাকাছি রেটে তেল বিক্রি করছি।’
একই এলাকার জ্বালানি তেল বিক্রেতা আব্দুল হক বলেন, ‘সরবরাহ কম, তাই বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। এ কারণে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ আফজাল শরীফ নামে আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা নিজেরা নির্দিষ্ট দামে তেল পাচ্ছি না। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছি।’
এদিকে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ট্রলারে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি তাদের জানা নেই। বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’ তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক অনিমেষ বিশ্বাস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, পাথরঘাটায় দুই শতাধিক সমুদ্রগামী মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। একটি ট্রলার সমুদ্রে যেতে আকারভেদে ২ থেকে ২০ ব্যারেল পর্যন্ত ডিজেল প্রয়োজন হয়। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জেলেদের সমুদ্রে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।