সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকা দিয়ে যে ১৪ ট্রাক ভারতীয় চোরাই চিনি ধরা পড়েছিল, সেই পথ দিয়ে এবার আসছে ভারতীয় চশমাসহ ভারতীয় পণ্যসামগ্রী।
চেকপোস্ট বসিয়ে একটি পিকআপ তল্লাশি চালিয়ে ১৪টি বস্তায় ১০ হাজার ৪৪০টি বিভিন্ন ব্রান্ডের ভারতীয় চশমার ফ্রেম পাওয়া গেছে।
এছাড়া, ওই থানা পার্শ্ববর্তী এয়ারপোর্ট থানার পৃথক আরেকটি অভিযানে ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়। সবমিলিয়ে চোরাইপণ্যের মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এসএমপির মিডিয়া সেল থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় জালালাবাদ থানার শিবেরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুশফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি অভিযানে হাটখোলার নোয়াপাড়া সংলগ্ন পাগইল বাইপাস পয়েন্টে চেকপোস্ট পরিচালনা করার সময় একটি পিকআপ থামিয়ে তল্লাশি করে ধরে পড়ে চোরাচালান।
পিকআপের ভেতর সাদা রংয়ের পুরাতন প্লাস্টিকের মোট ১৪টি বস্তা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চশমাসহ পিকআপচালক জসিম উদ্দিনকে (৩০) আটক করা হয়। পরে তার উপস্থিতিতে ১০ হাজার ৪৪০ পিস ভারতীয় চশমা ও একটি পিকআপ জব্দ করা হয়।
চশমার প্যাকেটে ‘হেপি বেবি’ লেখা থাকায় পুলিশের ধারণা, এসব খেলনাসামগ্রী। বৈশাখ মাসকে সামনে রেখে মেলা উপলক্ষে এগুলো বিক্রি করার জন্য চোরাচালান করা হচ্ছিল।
এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের অভিযানে ১৫০ কেজি ভারতীয় জিরাসহ একটি সিএনজি জব্দ করে চোরাচালানির বাহককে আটক করা হয়েছে।
এসএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এয়ারপোর্ট থানার এসআই মোহাম্মদ সরওয়ার্দীর নেতৃত্বে গত ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় এয়ারপোর্ট থানাধীন কান্দিরপাড়ায় সহেব বাজার টু ধোপাগুলগামী রাস্তায় চেকপোস্টে কোম্পানীগঞ্জ থেকে সিলেটমুখী রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটক করা হয়। এর আগে অটোরিকশাটি সিগন্যাল অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করছিল। অটোরিকশা তল্লাশি করে ১৫০ কেজি ভারতীয় জিরাসহ সিএনজি অটোরিকশাচালক মোকাদ্দেস আলীকে (৬৫) আটক করা হয়। জব্দ করা মালামালের মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এসএমপির এডিসি (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, দুটো ঘটনায় জালালাবাদ ও এয়ারপোর্ট থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পৃথক দুটো মামলা হয়েছে। আটক দুজনকে মামলায় আসামি করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৬ জুন জালালাবাদ থানা এলাকা দিয়ে ১৪ ট্রাক ভারতীয় চোরাই চিনি জব্দ করেছিল পুলিশ। ওই ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন সরকারের এমপির লোকেরাও জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে খবরের কাগজে ৭ জুন ‘অচেনা এমপির লোক কারা?’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হলে সব মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরবর্তীতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেই পথে চিনি চোরাচালান বন্ধ হয়েছিল।
অমিয়/