কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানাধীন পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী শুটার মো. ফারুক হোসেন (৫০) কে গ্রেপ্তার করেছে নগরের বাকলিয়া থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. ফারুক হোসেন লক্ষীপুর জেলার কমলনগর থানাধীন চরভূতি এলাকার মৃত শাহজাহানের ছেলে। ফারুক চট্টগ্রাম নগরে বাকলিয়ার মিয়াখান নগর এলাকায় বসবাস করতো।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাকলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ এপ্রিল দিবাগত রাত ৯টার দিকে নগরের বাকলিয়া থানাধীন মিয়াখান নগর এলাকায় পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী মোরশেদ খান ও শওকত এর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে পিস্তল, শর্টগান, কিরিচ, দেশীয় তৈরি অস্ত্রশস্ত্র সহ এলোপাতাড়ি গোলাগুলি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসী মোরশেদ খান এর নেতৃত্বে ফারুক হোসেন এবং মো. হোসেন সহ অন্যান্য আসামিদের হাতে থাকা পিস্তল, শর্টগানের ছোড়া গুলিতে পথচারী শিশু মো. ফাহিম (১৩) এর দুই পায়ের উরুতে গুলিবিদ্ধ হওয়া সহ ৪ জন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুটি দেশীয় তৈরি কিরিচ সহ চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এঘটনায় গত ৫ এপ্রিল ভুক্তভোগী ফাহিমের বাবা মো. সোলাইমান বাদশা বাদী হয়ে সন্ত্রাসী মোরশেদ খান, শওকত, ফারুক এবং হোসেন সহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় এজাহার দায়ের করে।
গত ৫ মার্চ দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বাকলিয়া থানার একটি বিশেষ আভিযানিক টিম শুটার ফারুকের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় লোহার তৈরি শর্টগান ও দুটি কার্তুজ উদ্ধার করে। পলাতক আসামি শুটার ফারুকের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়।
পরে গত ৬ এপ্রিল বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে আসামি শওকতকে এবং গত ৭ এপ্রিল আসামি হোসেনকে কর্ণফুলী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সবশেষ গত ৮ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানাধীন হারবাং ইউনিয়নের পূর্ব বিন্দারখীল পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পলাতক আসামি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী শ্যুটার মো. ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফারুকের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানা একটি মাদক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন ওসি।