ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
স্ত্রীকে নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ব্যবসায়ী সোহেল খুনের অভিযোগ সালমান শাহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬’ উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গোপালগঞ্জে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রেপ্তার ৬ অনুশীলনে নেইমার, বিশ্রামে অ্যালিসন চাঁদপুরে ৩ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুবদলের মোটরসাইকেল শোডাউন নারী কেলঙ্কারির ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ উদ্দিন বরখাস্ত বরগুনায় বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার ডান প্রান্তে রাফিনহার জায়গায় খেলতে প্রস্তুত মার্টিনেল্লি সিভিল সার্জনকে ‘ভাই’ বলায় ক্ষিপ্ত, বললেন ‘মহোদয়’ বলতে হবে সন্ত্রাসী ইমনের গ্রেপ্তার নিয়ে সিএমপির ব্যাখ্যা আইসক্রিমপ্রেমীদের জন্য সেভয়-এর নতুন চমক মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলার বিচার দাবিতে মানববন্ধন তারেক রহমানকে নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে ভিডিওতে হাবিবের গান চাপমুক্ত থাকার ৭টি কার্যকর উপায় ৩০ হাজার মামলার জটে স্থবির শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম: শিক্ষামন্ত্রী লালমোহনে ব্রিজ ভেঙে খাদে ট্রাক, চালক নিহত ঈশ্বরদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবদলের মিছিল ঘুষ কেলেঙ্কারি: দেবীগঞ্জের পিআইও বদলি বান্দরবান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা নেই: জেলা প্রশাসন নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী? মারা গেছেন নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষেই বিদায় নিল ৪ দল ফ্রান্সের কাছে হারলেও গর্বিত ইরাকি সমর্থকেরা টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর জুলাই অভ্যুত্থান: ঢাবির ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি ২ জনের রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ১৬

সাতকানিয়ায় টপসয়েল কেটে সড়ক প্রশস্তকরণ, হুমকির মুখে কৃষি

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
সাতকানিয়ায় টপসয়েল কেটে সড়ক প্রশস্তকরণ, হুমকির মুখে কৃষি
ভেকু দিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমির টপসয়েল কেটে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নাপিতের চর এলাকা থেকে সম্প্রতি তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কেটে সড়ক প্রশস্তকরণের অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের খরচ কমানোর জন্য সহজলভ্য টপসয়েল ব্যবহার করা হয়। এতে একদিকে যেমন প্রকল্প ব্যয় কমানো যাচ্ছে, অন্যদিকে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির দায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেউ নিতে রাজি না। তবে এলজিইডির দাবি, সড়কের উভয় পাশে কৃষি ও অনুর্বর জমি রয়েছে। সেখান থেকে সীমিত পরিসরে মাটি কেটে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ এবং শক্তিশালীকরণ’ (সিডিডব্লিউএসপি) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সড়কটির ব্যাপ্তি সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ থেকে সাতকানিয়া রাস্তার মাথার এলাকা পর্যন্ত। ওই সময় ৮ কোটি ৪৭ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৭ টাকার কাজটি পায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার গোহোষপাড়ার আর কে রোডের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বসুন্ধরা। ২০২৫ সালের জুন মাসে কাজটি শুরু করে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পাওয়ার প্রায় তিন মাস পর সড়কের কাজ শুরু করে।

উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, সড়কটির প্রস্থ ১২ ফুট। বর্তমানে সেটিকে ১৮ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। এতে সড়কের উভয় পাশে থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ওই কৃষিজমিগুলোতে প্রায় ৫ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত গর্ত তৈরি হয়েছে। তাই অনেক কৃষক চলতি মৌসুমে মাটি কেটে নেওয়া অংশটি বাদ দিয়ে চাষাবাদ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ওসমান গনি বলেন, সড়কের পার্শ্ববর্তী কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহারের ফলে প্রকল্পের ব্যয় কিছুটা কমবে। কিন্তু এক ইঞ্চি টপসয়েল তৈরি হতে দীর্ঘ বছর সময় লাগে। অথচ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা কেটে নেওয়া হচ্ছে। এই দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির দায় তো কেউ নিতে রাজি না। দিনশেষে কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

ঢেমশা ইউনিয়নের নাপিতের চর এলাকার কৃষক নুরুল আমিন বলেন, সড়কের পার্শ্ববর্তী কৃষিজমির কিছু অংশ থেকে মাটি কেটে সড়কের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সেই অংশতে অনেক কৃষক চাষাবাদ করতে পারেননি। সড়কের উভয় পাশে কিন্তু অনেক অকৃষিজমি রয়েছে। সেখান থেকে অথবা বাইরে থেকে মাটি এনে ব্যবহার করলে কৃষকরা উপকৃত হতেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বসুন্ধরার স্বত্বাধিকারী ফাগুন বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা এই প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করছি। এখানে কোনো লুকোচুরির প্রশ্নই আসে না। আপনারা চাইলে এ বিষয়ে এলজিইডি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘টপসয়েল হলো মাটির সবচেয়ে উর্বর স্তর। এটি কেটে ফেললে জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়। তবে আমরা যতটুকু জানি সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সীমিত পরিসরে মাটি কাটা হচ্ছে। কিন্তু কোনো কৃষক এ বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কর্মকর্তা সবুজ কুমার দে বলেন, সড়কটি ১২ ফুট থেকে ১৮ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। তাই পার্শ্ববর্তী কৃষি ও অনুর্বর জমি থেকে সীমিত পরিসরে মাটি কাটা হচ্ছে। এটি কিন্তু প্রকল্পে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এখানে নিয়মের বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই।

স্ত্রীকে নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ব্যবসায়ী সোহেল খুনের অভিযোগ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
স্ত্রীকে নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ব্যবসায়ী সোহেল খুনের অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে আলোচিত সোহেল মুন্সী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।

 চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রীর প্রথম স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও লৌহজং থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানায় পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম। 

তিনি জানান,, গত ১৮ জুন গভীর রাতে লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সোহেল মুন্সীকে। একই সঙ্গে তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের মা সেফালী বেগম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে লৌহজং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর তদন্তে নামে লৌহজং থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ টিম।

তিনি আরো বলেন, তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, নিহত সোহেল মুন্সীর স্ত্রী নুপুরের সাবেক স্বামী দ্বীন ইসলামের সঙ্গে এ ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে। পরে মঙ্গলবার ভোরে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার যশলং ইউনিয়নের সেরাজাবাদ এলাকা থেকে দ্বীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত দ্বীন ইসলামের ভাষ্য তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন,  মূলদ নুপুরের সঙ্গে দ্বীন ইসলামের পূর্বে বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। তবে প্রায় দেড় বছর আগে নুপুর স্বামী ও সন্তানকে রেখে ডিভোর্স না দিয়ে সোহেল মুন্সীর সঙ্গে নতুন সংসার শুরু করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দ্বীন ইসলাম। এরই জেরে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন সোহেল মুন্সীর বাড়িতে হাজির হয় সে। পরে রাতে মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন নেভাতে ঘর থেকে বের হলে ধারালো চাপাতি দিয়ে সোহেল মুন্সীর ওপর হামলা চালায় দ্বীন ইসলাম। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সোহেল মুন্সী।

পুলিশ সুপার আরও বলেন জানান, ঘটনাস্থলের প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে ঘটনার পর অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। গ্রেপ্তরের পর সেই ফুটেজে থাকা ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত দ্বীন ইসলাম টংগিবাড়ী উপজেলার সেরাজাবাদ এলাকার মৃত শামসুল হক ঢালীর ছেলে।

নুপর ও নিহত সোহেলের সংসারে এক ছেলে ও দ্বীন ইসলামের সংসারে এক ছেলে রয়েছে।

এসএন/

গোপালগঞ্জে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
গোপালগঞ্জে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রেপ্তার ৬
গোপালগঞ্জে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল কার্যক্রম। — ছবি: খবরের কাগজ
গোপালগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী।
 
ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
 
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকে সেনাবাহিনীকে মাঠে দেখা না গেলেও দুপুরের পর জেলা জুড়ে সেনাবাহিনীর টলহ দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বভাবিক রাখতে জেলাজুড়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে করা হয়েছে তল্লাশি।
 
তবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি গ্রামীণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরে তারা কেক কাটেন। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
 
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তারা তাদের মতো করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল দিচ্ছে।
 
তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা ঘটানোর চেষ্ঠা করা হলে তা কঠোর হাতে দমন কর হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
 
বাদল সাহা/আজহার

চাঁদপুরে ৩ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
চাঁদপুরে ৩ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুর জেলায় এ বছর ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন।

তিনি বক্তব্যে বলেন, আগামী ২৮ জুন দেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন হবে। ওইদিন ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিমান মতো ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানো জরুরি।

তিনি বলেন, জেলার আট উপজেলার দুটি পৌরসভায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সি ৪২ হাজার ৮টি এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৩টি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২ হাজার ৩৩২টি টিকাকেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে এই কার্যক্রম চলবে।

এই কাজটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের হলেও শতভাগ সাফল্যের জন্য অন্যান্য মন্ত্রণালয়, গণমাধ্যমসহ অংশীজনদের সহযোগিতা কামনা করেন সিভিল সার্জন।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বক্তব্য দেন।

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফের সঞ্চালনায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, সাংবাদিক আলম পলাশ ও ফারুক আহম্মেদ।

ফয়েজ/খাদিজা রুমি/

বরগুনায় বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
বরগুনায় বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার
নিহত কিশোর 'মুসা'। ছবি: খবরের কগজ

বরগুনার তালতলী উপজেলায় একটি বালুবাহী জাহাজের নিচে আটকে থাকা মুসা (১৭) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ইদুপাড়া গ্রামের ছকিনাখাল এলাকা থেকে স্থানীয় জেলেরা মরদেহটি উদ্ধার করেন।

মুসা উপজেলার নিদ্রার চর এলাকার চাঁন মিয়া ও পাখি বেগমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে মুসা ইদুপাড়া গ্রামের শিশু জালাল উদ্দিন রুমির সঙ্গে ছকিনাখালে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর রুমি বাড়িতে ফিরে এলেও মুসা আর ফেরেনি।

রাতে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে রুমি জানায়, গোসলের সময় মুসা পানিতে ডুব দেওয়ার পর আর উঠেনি। সে ভেবেছিল, মুসা হয়তো অন্যদিক দিয়ে বাড়িতে চলে গেছে।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জেলেরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। স্থানীয় জেলে ফারুক, জামাল ও বেল্লালসহ কয়েকজন খালে জাল ফেলেন। একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে এমভি ইসলাম মোল্লা নামের একটি বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে মুসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে মুসা জাহাজের নিচে আটকে পড়তে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাগর ভদ্র বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহিউদ্দিন অপু/আজহার/

সিভিল সার্জনকে ‘ভাই’ বলায় ক্ষিপ্ত, বললেন ‘মহোদয়’ বলতে হবে

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
সিভিল সার্জনকে ‘ভাই’ বলায় ক্ষিপ্ত, বললেন ‘মহোদয়’ বলতে হবে
ছবি: খবরের কাগজ

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীনকে ‘ভাই’ ডাকায় তিনি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এ সময় তাকে ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে এক সাংবাদিককে নির্দেশ দিয়েছেন এই সিভিল সার্জন। এরপর ‘মহদোয়’ না বলে তাকে ‘ভাই’ বলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের অনিয়মের সংবাদ তাকে কে দিয়েছে, সেই গোপন তথ্য ও সোর্সের নাম বারবার জানতে চান তিনি।

সোমাবার (২২ জুন) সিরাজগঞ্জে কর্মরত একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহে অনিয়ম নিয়ে তার পেশাগত বিষয়ে সিভিল সার্জনের কাছে মন্তব্য জানতে চাইলে ডা. নুরুল আমীন বলেন, ’আপনি কাকে ভাই বলছেন? আপনি একজন সিভিল সার্জনকে ভাই বলতে পারেন না। আমি একজন জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা। আপনি আমাকে ‘মহোদয়’ বলেন। আমাকে ভাই বলার কোনো অধিকার আপনার নেই।’

শুধু তাই নয়, এই সিভিল সার্জন উল্লাপাড়ার ৫০ শয্যার হাসপাতালে মজুত থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে তাকে তথ্য দেওয়া সূত্রের নাম প্রকাশ করার জন্য ওই সাংবাদিককে চাপ দেন।

এই কথোপকথনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেলে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

মূলত, সাংবাদিকরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সবসময় তাদের সূত্র বা সোর্সের নাম গোপন রাখেন। কিন্তু সিভিল সার্জনের কাছে যে তথ্য চাওয়া হয়েছিল তা দেওয়ার পরিবর্তে সিভিল সার্জন নুরুল আমীন উল্টো সাংবাদিককে একের পর এক পাল্টা প্রশ্ন করতে থাকেন। এই সাংবাদিক সেখানে কেন গিয়েছিলেন? কে তাকে তথ্য দিয়েছে?

সরকারি চাকরির বিধিমালায় যা আছে:

বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা জনগণের সেবক, তাদের প্রভু নন। যদিও অতীতে কিছু ক্ষেত্রে তাদেরকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করার প্রচলন ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়মটি বাতিল করেছে।

সংবিধান এবং সরকারি চাকরি বিধি অনুসারে জানা যায়, সংবিধানের ২১(২) ধারা অনুসারে, প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য হলো সর্বদা জনগণের সেবা করার জন্য সচেষ্ট থাকা। কোনো আইন বা প্রবিধানে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জনসাধারণকে তাদেরকে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করতে বাধ্য করার কোনো বিধান নেই।

এ ছাড়াও, সম্প্রতি সরকার সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করার নিয়ম বা বাধ্যবাধকতা বাতিল করেছে।

এ বিষয়ে আরও জানতে সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে উল্লেখিত ঘটনায় উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ওষুধ সরবরাহের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে টিভি চ্যানেলে সংবাদ প্রচারের পর সিভিল সার্জনের তত্বাবধানে আজ মঙ্গলবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে সরজমিনে তদন্ত করে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিরাজুল শিশির/খাদিজা রুমি/