খুলনার ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটার বিভিন্ন এলাকায় লোনাপানির আগ্রাসনে বোরো আবাদ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী কিছু মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী জোয়ারের সময় নদীর বাঁধ কেটে ঘেরে লোনাপানি ঢোকাচ্ছেন। এতে কৃষকদের শত শত বিঘা জমির ধান নষ্ট হচ্ছে।
অপরিকল্পিতভাবে লোনাপানি ঢোকানো এবং নদীর পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। লোনাপানির কারণে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে ধান উৎপাদন কমে যাচ্ছে। অনেক কৃষক পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউনিয়নে অবৈধভাবে চিংড়িঘেরের জন্য লোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে। তেলিগাতি এলাকায় নদীর মুখে দেওয়া ক্রসবাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে। এমনকি শোলমারী এলাকায় স্লুইচগেট খুলে লোনাপানি ঢোকানোর ঘটনাও ঘটছে। বটিয়াঘাটার লতা ও দেলুটি ইউনিয়নেও একই চিত্র। রাতের আঁধারে নদী থেকে ঘেরে লোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে। গঙ্গারামপুর এলাকায় পাইপলাইন বসিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে লোনাপানি ও বালু ঢুকিয়ে জমি ভরাট করে ঘের তৈরি করা হচ্ছে। সুরখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ৮ এপ্রিল ডুমুরিয়ার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নে কৃষক আব্দুল সামাদ ও খালেক সরদারের সাড়ে ১১ বিঘা জমিতে লোনাপানি ঢুকে পড়ে। এতে তাদের বোরো ধানসহ আশপাশের জমির ফসল নষ্ট হয়। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন দখল ও ভরাটের কারণে ডুমুরিয়ায় শালতা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত কয়েকটি খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও অবৈধ দখল, কোথাও বর্জ্য ফেলে খালের জমি ভরাট করা হয়েছে। খালের পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল পুনঃখননের বদলে অপরিকল্পিত বাঁধ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে, যা পানি নিষ্কাশন আরও বাধাগ্রস্ত করছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
স্থানীয় কৃষক শাহাদাৎ হোসেন হালদার বলেন, ‘খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় প্রতিবছর জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকায় চাষাবাদ করা যায় না। খালগুলো দ্রুত খনন না করলে আমরা চরম বিপদের মধ্যে পড়ব।’
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন, ‘ঘেরে লোনাপানি ঢোকানোর কারণে বোরো আবাদ নষ্টের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাঁধ কেটে পানি ঢোকালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’