দিনাজপুরের বীরগঞ্জের পাল্টাপুর ইউনিয়নে আদিবাসীদের কবরস্থান দখলকে কেন্দ্র করে গাছ কাটা, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলায় তীরবিদ্ধসহ ২জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে পাল্টাপুর ইউনিয়নের সনকা খ্রিস্টানপাড়ার আদিবাসী কবরস্থান ও শ্মশান কালী মন্দিরসংলগ্ন জমিতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘোড়াবান্দ গ্রামের কাদেরের ছেলে রেজাউল ও আজগর সাহাজীর ছেলে আজাদের নেতৃত্বে দেড় থেকে দুইশো ভাড়াটিয়া লোকজন সেখানে গিয়ে গাছ কাটার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা কবরস্থানসংলগ্ন শ্মশান কালী মন্দির ভাঙচুর করে এবং মন্দিরে থাকা প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত করে পাশের ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দা মানু কিস্কু জানান, সরকারি খাস খতিয়ানের ১৫০ নম্বর দাগের প্রায় ৯৩ শতক জমি তারা পূর্বপুরুষের সময় থেকে ভোগদখল করে আসছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল জমিটি দখলের চেষ্টা করছে।
অন্তনী মুরমু অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তারা বাড়িতে না থাকায় দুর্বৃত্তরা তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে পিউস মুরমুকে (৪৫) আহত করে এবং তার ঘরে আগুন দেয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মন্দির ভাঙচুরের দৃশ্য দেখতে পান।
নরেন হেমরম বলেন, গাছ কাটা ও জমি দখলে বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা আদিবাসীদের ওপর আক্রমণ চালায়। এ সময় ছোড়া তীরে বিশ্বনাথ ওরফে ভোন্দা (৩০) গুরুতর আহত হন। আহতদের দ্রুত বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সংবাদ পেয়ে বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং গাছ কাটার সরঞ্জাম জব্দ করেন।
বীরগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত রেজাউল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোনের নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল। অভিযুক্ত রেজাউল ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে।
সুলতান মোহাম্মদ/এসএন