মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় গ্রাম্য সালিশে প্রকাশ্যে মারধর ও অপমানের শিকার হওয়ার পর এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তিন সালিশদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শিবালয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চক্রবর্তী।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-আব্দুল আজিজ খান (৭০), নাঈম হোসেন (২১) ও শুক্কুর আলী (৪৫)।
এর আগে, রবিবার সকালে নিহতের বাবা খালেক পেয়াদা বাদী হয়ে জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
নিহত নাজমা আক্তার (২৫) উপজেলার উত্তর কাশাদহ গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি স্থানীয় একটি তালা তৈরির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ তুলে নাজমার বাবার বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। স্থানীয় মাতব্বর আব্দুল আজিজ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সালিশে লিটন, চুন্নু, নান্নুসহ এলাকার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নেতৃত্ব দেন।
অভিযোগ রয়েছে, সালিশ চলাকালে নাজমা ও অভিযুক্ত যুবক জাকির হোসেনকে দীর্ঘ সময় ধরে কিল-ঘুষি, লাথি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষের সামনে তাদের অপমানজনক কথাবার্তা বলা হয়।
নিহতের স্বামী নুরুল ইসলাম জানান, সালিশে তার স্ত্রীকে মারধরের দৃশ্য উপস্থিত কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করে পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এই অপমান ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় নিজ ঘরে আত্মহত্যা করেন নাজমা।
নিহতের বাবা খালেক পেয়াদা অভিযোগ করেন, শাসনের কথা বলে ডেকে এনে তার মেয়েকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। সালিশে তাকে এমন কথাও বলা হয়, যা তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয় এবং চরম সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে।
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। রবিবার বিকেলে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমন চক্রবর্তী জানান, মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আসাদ জামান/এসএন