ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আলিয়ার শুটিংয়ে একজনের মৃত্যু ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী আরমান-মুক্তির মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বাপ্পারাজ ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ জেন্ডার বাজেট বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন অধিকারকর্মীদের সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য! ঘানাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার রাশফোর্ডের নাটোরে এক গ্রামেই ৪ শতাধিক ঘরজামাই! ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার? বিশ্বকাপে মিশরকে প্রথম ম্যাচ জয় উপহার দিয়ে উচ্ছ্বসিত সালাহ

মরুর পথে রাজশাহী, পানিসংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
আপডেট: ১১ মে ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
মরুর পথে রাজশাহী, পানিসংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন
মরুভূমিতে পরিনত হচ্ছে রাজশাহী। ছবি: খবরের কাগজ

বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি ফেটে চৌচির, পুকুরে পানি নেই, খালে স্রোত নেই, গভীর নলকূপে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোটর চালিয়েও উঠছে না পর্যাপ্ত পানি। কোথাও ১০০ ফুট, কোথাও ২০০ ফুট নিচেও মিলছে না পানির স্তর। একসময় দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ এখন ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে ভয়াবহ মরুকরণের দিকে।

রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও জয়পুরহাটের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি সংকট এখন আর মৌসুমি সমস্যা নয়—এটি রূপ নিয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ ও মানবিক সংকটে। জলবায়ু পরিবর্তন, কমে যাওয়া বৃষ্টিপাত, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব এবং অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে এ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি ও জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন।

সংকটাপন্ন ঘোষণা, তবু থামছে না পানি উত্তোলন
সরকার গত বছরের ৬ নভেম্বর গেজেট প্রকাশ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের ৫ জেলার ২৫টি উপজেলার ২১৫টি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৯১১টি মৌজাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পানিসংকট এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। এর মধ্যে ৪৭টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৫০৩টি মৌজা চিহ্নিত হয় অতি উচ্চ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে।

গেজেট অনুযায়ী, আগামী ১০ বছর এসব এলাকায় খাবার পানি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ। নতুন নলকূপ স্থাপন, সেচ বা শিল্পকারখানায় ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, কিন্তু বাস্তবে সেই বিধিনিষেধ মানছে না কেউ।

তানোর, গোদাগাড়ী, নাচোল কিংবা নিয়ামতপুর—প্রায় সব এলাকাতেই আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে অবাধে সাবমারসিবল পাম্প চালিয়ে সেচ দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই।

তানোর উপজেলার নারায়ণপুর মৌজার উচ্চাডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির দেয়াল ভেদ করে পাইপ বের করে ধানের জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় এক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জমি পড়ে থাকলে খাব কী? বাঁচার জন্যই পানি তুলছি।

পানির স্তর নেমেছে ভয়াবহভাবে
গবেষণা ও সরকারি তথ্য বলছে, বরেন্দ্র অঞ্চলে গত চার দশকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। ১৯৮৫-৯০ সালে যেখানে পানির স্তর ছিল ২৬ থেকে ৩০ ফুট নিচে, সেখানে বর্তমানে তা ৮০ থেকে ৯০ ফুটে পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় ১১৩ ফুটের বেশি নিচে গিয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত পানি। কোথাও কোথাও ২০০ ফুট নিচেও শুকিয়ে গেছে পানিধারক স্তর।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের (আইবিএস) গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮০ সালে পানির স্তর ছিল ৩৯ ফুট নিচে। ২০১৬ সালে তা নেমে যায় ১১৮ ফুটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বিচারে পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানিধারক স্তর বা অ্যাকুইফার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ফলে বৃষ্টি হলেও মাটির নিচে আর পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

কমছে বৃষ্টি, বাড়ছে তাপমাত্রা
পরিবেশবিদদের মতে, বরেন্দ্র অঞ্চল এখন দেশের সবচেয়ে উষ্ণ ও শুষ্ক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। গ্রীষ্মে তাপমাত্রা প্রায়ই ৪০ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। গত কয়েক দশকে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে বৃষ্টিপাত।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৬৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বরেন্দ্র অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাত কমেছে ৩ দশমিক ৭৪ থেকে ৬ মিলিমিটার হারে। ২০০০ সালের পর থেকে বৃষ্টিপাত কমেছে ৩ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত।

গবেষকদের আশঙ্কা, ২০৫০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত আরও ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে বর্তমান পানি সংকট ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

কৃষি উৎপাদনে বাড়ছে খরচ
পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ধান চাষে সেচ খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ, অনেক জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার সুন্দরপুর মৌজায় বিএমডিএর গভীর নলকূপের অপারেটর সাত্তার আলী বললেন, ‘তিন বছর থেকে এই ডিপে (নলকূপে) পানি উঠছে, আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই ডিপে আগে ৪০ থেকে ৫০ বিঘা জমিতে বোরো ধান করা হয়েছে। এখন সম্ভব হচ্ছে না। পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। দু-পাঁচ বছরের মধ্যে যত ডিপ টিউবওয়েল আছে সব নষ্ট হয়ে যাবে।’

গোদাগাড়ীর সুন্দরপুর গ্রামের কৃষক সাহানারা বেগম বলেন, এক বিঘা জমিতে পানি দিতে চার ঘণ্টা লাগে। শুধু সেচের পেছনেই ৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে।

বিএমডিএ সূত্র জানায়, সরকারের নির্দেশনা ছিল সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৪০০ গভীর নলকূপ বসানোর। কিন্তু বর্তমানে ব্যক্তিমালিকানায় চলছে প্রায় ৬২ হাজার শ্যালো টিউবওয়েল ও ৪ হাজার গভীর নলকূপ, যার সক্ষমতা আরও ২৮ হাজার গভীর নলকূপের সমান।

বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, বিএমডিএ মাত্র ২৭ শতাংশ পানি তোলে। বাকি পানি তুলছে ব্যক্তিমালিকানাধীন পাম্প। এগুলো কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিএমডিএ ২২ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করছে। ২০৫০ সালের মধ্যে সেটি ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকল্প সেচ ব্যবস্থা গড়ে না তুলে শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।

বিএমডিএর প্রকল্প পরিচালক নাজিরুল ইসলাম বলেন, সেচ কাজে পানি ব্যবহারে বিকল্প ব্যবস্থা না করে দেশে এভাবে কৃষিকাজ বন্ধ করা অসম্ভব। গেজেটে শুধু খাওয়ার পানি ছাড়া ১০ বছরের জন্য অন্য কোনও কাজে এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ করেছে। ইতোমধ্যে বিএমডিএ সংকটাপন্ন এলাকায় গভীর নলকূপের সংখ্যা, কৃষিজমির পরিমাণ, ফসলের শ্রেণির বিষয়ে মাঠপর্যায়ের তথ্য নিয়েছি। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

নাঈম/

রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

ভারতের আগ্রাসন, গাইবান্ধায় রাম মূর্তি নির্মাণ এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে জামালপুরের ইসলামপুরে কালেমা খচিত পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে উপজেলার ডিগ্রিরচর এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামপুরের ডিগ্রিরচর এলাকার স্থানীয় জামিয়া মফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলার ডেফলা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় হাফেজ লিয়াকত হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, ডিগ্রিরচর জামিয়া মফিজিয়া মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা আবু রায়হান, মাওলানা আহামাদউল্লাহ বিন আমান, উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সহ-সম্পাদক শামসুদ্দোহা সজিব, চরপুটিমারী ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাওলানা নাজমুল হুসাইনসহ অন্যান্যরা।

এ সময় বক্তারা ভারতীয় আগ্রাসন, গাইবান্ধায় রামমূর্তি নির্মাণ ও উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রশ্নে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা জুলফিকার আলী, মাওলানা আলাউদ্দিন, মাওলানা শাহিনুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন শাখার আমির মাওলানা আমিনুর ইসলামসহ অন্যান্যরা।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা ডেফলা সেতুর বিভিন্ন বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কালেমা খচিত পতাকা উত্তোলন করেন।

আসমাউল আসিফ/নাঈম

নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভুঁইয়া। ছবি: খবরের কাগজ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কায় গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের জন্য চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা–২।

সোমবার (২২ জুন) ওই মন্ত্রণালয়ের সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে এ চিঠিটি দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করছে। এর মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

চিঠিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনা মোতায়েনের জন্য অনুরোধ করা হয়।

এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভুঁইয়া বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে পরিপত্রের চিঠি আমরা পেয়েছি। তাতে পরিষ্কার করে বলা আছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কার্যক্রম, বিশেষ করে বেআইনি মিছিল শোডাউন করার প্রচেষ্টা আছে এবং এর ফলে নাশকতা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার একটি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটার পাশাপাশি মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটতে পারে। সেজন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার এর আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে আমাদের কাছে রিপোর্ট করেছেন। তারা এখানে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নয়নে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য কাজ করবেন। তাদের পাশাপাশি আমাদের জেলা পুলিশ আছে, মেট্রোপলিটন পুলিশ আছে, আনসার ও বিজিবি সদস্যরাও কাজ করবেন। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সরকারি নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত এবং নিয়োজিত বাহিনীগুলোকে সহায়তা করে যাচ্ছি। যাতে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি। এখানে বিশাল সংখ্যক সেনাসদস্য অবস্থান নিয়েছেন। যেহেতু আমাদের জেলায় প্রচুর সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছেন, আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ওনাদের এসেস্ট করবেন। 

পলাশ/নাঈম

ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল ফরিদপুর শহরে প্রবেশ করে এবং দায়িত্ব গ্রহণ করে।

জানা গেছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে ১৫ আরই ব্যাটালিয়নের ১২৫ জন সেনাসদস্য ফরিদপুরে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফরিদপুরে সেনাসদস্যরা মাঠে কাজ করবেন।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় এক সপ্তাহের জন্য এ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এ সময় সেনাবাহিনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

নয়ন/রিফাত/

শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার
দানবাক্স খুলে এভাবেই প্রশাসনিক ব‍্যবস্থায় টাকা গননা করা হয়। ছবি: মামুন হোসেন

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সে মাত্র পাচ দিনে মিলল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬৯ টাকা, ১০ সৌদি রিয়াল ও ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার। প্রায় ৭০০ বছরের প্রথা ভেঙে প্রথমবারের মতো মাজারের টাকা এভাবে প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সিলগালা করা দানের বড় তিনটি বাক্সের (ডেগ) মুখ খুলে এসব পাওয়া যায়।

টাকা গণনায় অংশ নিয়েছেন দরগাহ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। মাজারের ইতিহাসে এর আগে এভাবে প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা করা হয়নি।

হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (সদ্য প্রত্যাহার) মো. সারওয়ার আলম। এতে দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়। এরই মধ্যে রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

গণনা শেষে সন্ধ‍্যায় ওয়াকফ অডিটর সজল মিয়া জানান গত ১৮ জুন বিকেল চারটা থেকে ২৩ জুন বেলা দুইটা পর্যন্ত ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬৯ টাকা, ৫ রিয়ালের দুটো সৌদি নোট ও ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে।

গণনা প্রত‍্যক্ষ‍ করে সদ‍্য সাবেক ডিসি সারওয়ার মাজার এলাকা ত‍্যাগ করেন। এর আগে মাজারে গেলে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সার্বিক বিষয়ে তিনি একটি ভিডিও বার্তা দেবেন।

দানের টাকা গুণতে গিয়ে দানবাক্সে পাওয়া গেছে, প্রত্যাহারকৃত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমের প্রশংসা করে একটি বেনামি চিঠি। 

চিঠি পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) তানভীর হোসাইন সজীব।

তিনি জানান, দানবক্সের টাকা গণনাকালে কয়েকটি চিঠি ও কিছু স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে।

ওই ​চিঠিতে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দরগাহর অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা এবং এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দরগাহর জায়গায় দখল করে দোকানপাট ও বাড়ি তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস‍্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মঙ্গলবার সিলেট আসছেন। তার সফরসূচির মধ‍্যে মাজার ব‍্যবস্থাপনা বিষয়ে বৈঠক রয়েছে।

নাঈম/

ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাজিল সমর্থকদের পর পাবনার ঈশ্বরদীতে এবার আর্জেন্টিনা সমর্থকরা বিশাল মোটরসাইকেল আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে। 

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে এ আনন্দ শোভাযাত্রা শহরের খায়রুজ্জামান বাবু কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে শুরু হয়।

এর আগে গত ১৯ জুন ব্রাজিল সমর্থকরাও মোটরসাইকেল আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে। তারা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে গোটা ঈশ্বরদী শহর প্রদক্ষিণ করে।

২২ জুন রাত ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় খেলায় আর্জেন্টিনা ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে। খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে আমেরিকার ডালাস শহরের ডালাস স্টেডিয়ামে।

এর আগে গত ১৭ জুন আর্জেন্টিনা প্রথম খেলায় আফ্রিকা মহাদেশের দেশ আলজেরিয়ার সঙ্গে ৩-০ গোলে জয়লাভ করে। এ খেলায় লিওনেল মেসি একাই তিন গোল করে হ্যাটট্রিক করেন।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আর্জেন্টিনা সমর্থকরা দুপুরের পর থেকে আর্জেন্টিনা দলের জার্সি গায়ে, জার্সিকে পতাকা বানিয়ে তা হাতে নিয়ে পায়ে হেঁটে, কেউবা মোটরসাইকেলে করে খায়রুজ্জামান বাস টার্মিনালে এসে জড়ো হতে থাকে। অনেককে রিকশা ও অটোরিকশায় আসতে দেখা যায়।

বিকেল ৪টার আগেই বাস টার্মিনাল এলাকা আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

একত্রিত হয়ে শত শত মোটরসাইকেলে সমর্থকরা বিকেল ৪টায় বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন রেলগেট ট্রাফিক মোড় থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু করে। সেখান থেকে স্টেশন সড়ক, বাজার, চাঁদ আলী মোড় ঘুরে কলেজ রোড, হাসপাতাল রোড হয়ে পোস্ট অফিস মোড়ে যায়। সেখান থেকে ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক দিয়ে রেলগেট অতিক্রম করে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে শোভাযাত্রাটি সোজা চলে যায় সাঁড়া ইউনিয়নের আড়ামবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। সেখান থেকে একইভাবে তারা পুনরায় খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনালে ফিরে আসে।

দুই-তিনজন আর্জেন্টিনা সমর্থক জানান, অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে তাদের আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর্জেন্টিনার প্রতিটি সমর্থক আনন্দ র‌্যালিতে অংশ নিয়ে অত্যন্ত খুশি। 

তারা বলেন, ‘প্রথম খেলায় ভালো খেলে মেসির একাই করা তিনটি দর্শনীয় গোলে আর্জেন্টিনা জয়লাভ করে। আমরা আশা করছি আজও মেসি এবং তার দল ভালো খেলে গ্রুপের শীর্ষে থাকবে।’

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, পাড়া-মহল্লায় আর্জেন্টিনা সমর্থকরা নানা আয়োজনে সোমবার রাত ১১টায় বড় পর্দায় খেলা উপভোগের জন্য প্রজেক্টর স্থাপন ও খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছে। এ ছাড়া জার্সি কেনা, পতাকা টানানো এবং নিজের ছবি-সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর হোসেন/রিফাত/