ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান করলেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি? গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নতুন ও প্রথম আয়কর রিটার্ন  দাখিলকারীর প্রতি পরামর্শ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জিএম কাদেরের নিন্দা ও উদ্বেগ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু Wisdom of King Soloman বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন-সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে বাংলাদেশের রং

বরিশালে জনবল ছাড়াই হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:২০ এএম
বরিশালে জনবল ছাড়াই হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি
বরিশালের ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

আগামী আগস্টে বরিশালে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য এখনো কোনো জনবল কাঠামো তৈরি করা হয়নি। বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আপাতত বিভাগের দুই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ছয়টি জেলা সদর হাসপাতাল ও ৪১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক এনে এটির কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

  • আগামী আগস্টে চালুর পরিকল্পনা থাকলেও এখনো জনবল কাঠামো তৈরি হয়নি
  • অবকাঠামোগত অনেক কাজ এখনো অসম্পূর্ণ
  • ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ৭ বছর পরও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়নি

এদিকে হাসপাতালটির ভবন স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চললেও পানি ও বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। ২০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে নির্মিত হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৬৫টি বেড স্থাপন করা হয়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা, আইসিইউ বেড, আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজও শেষ হয়নি। ফলে আগস্টে হাসপাতালটি পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় উদ্বোধন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্টে দেশের নবনির্মিত শিশু হাসপাতালগুলো উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই তালিকায় বরিশাল শিশু হাসপাতালকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা হাসপাতালটি পরিদর্শন করে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন।

বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। ১০ তলা ভিত্তির ওপর চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৯ সালেই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের সাত বছর পরও হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর উপযোগী করা যায়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবন প্রস্তুত হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল ছাড়া কার্যকর সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক শিশু বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভবন হস্তান্তরের পরও হাসপাতালটি চালুর আগে অনেক প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। শিশুদের জন্য আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), নবজাতক ইউনিট এবং কার্যকর জরুরি বিভাগ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু ভবন তৈরি হলেই হাসপাতাল চালু করা যায় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে সাময়িকভাবে হাসপাতাল চালানোর কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু ধার করা চিকিৎসক দিয়ে একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।’

এই চিকিৎসকের মতে, ২০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিতে আসতে পারে। সেই বিবেচনায় চিকিৎসক, নার্স, আয়া, টেকনোলজিস্ট, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ অন্তত ৬০০ জন জনবল প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘এখনই জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু না করলে আগস্টের মধ্যে কার্যকরভাবে হাসপাতাল চালু করা কঠিন হবে। শিশুদের জন্য আইসিইউ-সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স, আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের বিষয়েও পরিকল্পনা প্রয়োজন।’

বরিশালের নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালটির অবকাঠামোগত কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করতে হবে। শুধু উদ্বোধনের জন্য হাসপাতাল চালু করে পরে সেবাদান ব্যাহত হলে তার ভোগান্তি পোহাতে হবে সাধারণ মানুষকে।

তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি জেলার শিশুরা এই হাসপাতালের ওপর নির্ভর করবে। তাই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া হাসপাতাল চালু করা উচিত হবে না।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবদুল মোনায়েম সাদ বলেন, আগে শিশু হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর ছিল। তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় সেই দায়িত্ব বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত ১৭ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়, বরিশাল শিশু হাসপাতালের ভবন গ্রহণ, প্রশাসনিক অনুমোদন, পদ সৃজন, আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ হাসপাতাল চালুর প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব সম্প্রতি বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। তবে এখনো প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো অনুমোদন হয়নি। আপাতত বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে চিকিৎসাসেবা চালুর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মঞ্জুর এ এলাহী বলেন, ভবনের বেশ কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানির সাবস্টেশন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ চলমান আছে। প্রয়োজনীয় জনবলসংক্রান্ত তালিকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে প্রাথমিকভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম বলেন, হাসপাতালটিতে অস্থায়ীভাবে তিন ফেজ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শুধু ছাদের জলরোধী কাজ এবং স্থায়ী সাবস্টেশন ও জেনারেটর স্থাপনের কাজ বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অবশিষ্ট কাজগুলো জুন মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছি।’

আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই
কৃষক কবির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কৃষক কবির হোসেন মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

কবির হোসেন চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে তাকে ‘ভুয়া কৃষক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নানা ধরনের প্রচারণা চালায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তদন্ত করে। তদন্তে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজ জমিসহ বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কৃষক পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ঘিরে বিতর্কের অবসান ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, কবির হোসেন ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সাদাসিধে একজন মানুষ। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি এলাকার মানুষের কাছে একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হওয়ার পরও তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন অব্যাহত রেখেছিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। কবির হোসেনের জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

জুয়েল/নাঈম

ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট
সোনারগাঁওয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র তছনছ। ইনসেটে উদ্ধার আইডি কার্ড। ছবি : খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র তছনছ, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের রিয়াদ কবিরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী বাদি হয়ে মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের ইকবাল কবিরের ছেলে রিয়াদ কবিরের বাড়িতে একই এলাকার পিয়ার হোসেন,  মাসুম, শফিকুল ইসলাম, আল-আমিন (৪৮), লিটন হোসেন, ফর্মা হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন নিয়ে হামলা করে। 

এসময় নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরকে মারধর করে। এক পর্যায়ে বাড়ীতে মাদক রয়েছে বলে আমার ঘরবাড়ির আসবাবপত্র তল্লাশি করে। আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পরে মামলা ও গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।

হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময়  তাদের একটি আইডি কার্ড ফেলে যায়। আইডি কার্ডে অজয় কুমার জয়, পদবী-সেপয়, ডিপার্টমেন্ট অফ নারকোটিক্স কন্ট্রোল বাংলাদেশ, আইডি নং- ৪৯১৩২৫, জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ৪২১৮৯৫৩৪৮৯ পাওয়া যায়।

ফেলে যাওয়া আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য শরীফ হোসেন নামের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সিপাহি পরিচয়ে আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে।

এ বিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি শরীফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আইডি কার্ড ফেরতের জন্য কাউকে ফোন দেননি বলে দাবি করেন। তবে অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। 

ব্যবসায়ী রিয়াদ কবির জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে এলাকার একটি চক্র পুলিশের সোর্সের মাধ্যমে তার পরিবারকে হয়রানি করার জন্য বাড়িতে হামলা করে। মাদক উদ্ধারের নামে আসবাবপত্র তছনছ করে। হামলাকারীরা নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযুক্ত পিয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন। তিনি জানান, তিনদিন ধরে ওই এলাকায় তিনি যান না। কেউ তাকে দেখছেন প্রমাণ দিতে পারবে না। তবে শুনেছি প্রশাসনের লোকজনকে রিয়াদ ও তার পরিবারের লোকজন মারধর করেছে। 

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে হয়রানি মারাক্তক অপরাধ। আসল ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এসএন/

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৩ কোটি ৯ লক্ষ ৯৮ হাজার ৪৬৮ টাকা ২৩ পয়সা প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন। 

একই সাথে অর্থবছরের রাজস্ব আয় ১৬ কোটি ৫৮ লক্ষ ২১ হাজার ২০২ টাকা ৫১ পয়সা, রাজস্ব ব্যয়: ১৩ কোটি ২০ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, উদ্বৃত্ত ৩ কোটি ৩৭ লক্ষ ৯১ হাজার ২০২ টাকা ৫১ পয়সা। আর উন্নয়ন খাতে মোট উন্নয়ন আয় ২৬ কোটি ৫১ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৬৫ টাকা ৭২ পয়সা। মোট উন্নয়ন ব্যয় ২৩ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। উদ্বৃত্ত ২ কোটি ৯৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৬৫ টাকা ৭২ পয়সা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই উন্মুক্ত বাজেট উপস্থাপন করেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম।

উন্মুক্ত বাজেটে উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এবারের বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি।

বাজেট ঘোষণাকালে পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম  বলেন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাস্তাঘাট, ড্রেন, সড়কবাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়নে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। কোনো ধরনের নতুন কর চাপানো হয়নি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর সহকারী প্রকৌশলী এইচ. এম. কামরুজ্জামান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জেবিন সুলতানা, হিসাব রক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন, কার্য সহকারী মোহাম্মদ আব্দুল আহাদসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।

লিটন সরকার বাদল/এসএন

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা
তিস্তার পানি। ছবি: খবরের কাগজ

উজানের ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে তিস্তার ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৩টার দিকে তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে দুপুর ১২টায় তা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে নেমে গেলেও বিকেলের দিকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিকেল ৩টার দিকে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহ রেকর্ড করা হয়।

গত কয়েকদিন ধরেই তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি ওঠানামা করছে। পানির এমন বাড়া-কমায় নদীর তীরবর্তী মানুষজনের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তিস্তার ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।

তবে বর্তমানে তিস্তার চরাঞ্চলে মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারপরও পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাউবো বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অথবা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যে-কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, তিস্তার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বকুল/নাঈম

টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ১০

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ১০
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া সেন্টমার্টিন কেয়ারি ঘাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে গেলে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া বিজিবি চেকপোস্ট সংলগ্ন কেয়ারি ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত মিনিবাসটি পায়রা সার্ভিস এর, যার নিবন্ধন নম্বর কক্সবাজার জ-১১-০২৩২।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা মিনিবাসটি সেন্টমার্টিনগামী দমদমিয়া কেয়ারি ঘাট এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বাসটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসে থাকা অন্তত ৮ থেকে ১০ জন যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, কোস্টগার্ড, বিজিবি সদস্য এবং টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শাহেদ নামে গুরুতর আহত এক যাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. আয়ুব জানান, মিনিবাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল। একটি বাঁক অতিক্রম করার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সোজা ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়। ওই সময় বাসটিতে প্রায় ১৬ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন গুরুতর আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পরপরই কোস্টগার্ড, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কমান্ডার জামিম মিয়া বলেন, বাস দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পরে বাসে আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, উদ্ধার অভিযানে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

মোঃ শাহীন, টেকনাফ।