সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকার একটি ফ্ল্যাটে মাহদী আনজুম (১৫) নামে এক স্কুল ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ওই বাসা থেকে স্কুল ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১টার দিকে ফায়ারসার্ভিস ও বিমানবন্দর থানা পুলিশ ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তখন ওই কক্ষ থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত ছাত্র সিলেট ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা ছিলেন সুবিদ বাজার মিয়া ফাজিলচিশতের বাসিন্দা মৃত মিসবাহ উদ্দিন ও মা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ-গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. রুলি বিনতে রহিম। ফাজিল চিশতের ১৩/৩ নং বাসার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে মায়ের সঙ্গে থাকতো মাহদী তার বোন ও তাদের দ্বিতীয় বাবা।
মাহাদির কক্ষ থেকে পাওয়া চিরকুটে লিখা ছিল, ' আমার মৃতদেহের কথা ভেবে দয়া করে ময়নাতদন্ত করো না বা এটা নিয়ে বেশি তদন্ত করো না। আমি নিজেকে মেরে ফেলেছি কারণ আমি তাই চেয়েছিলাম, এর বেশি কিছু নয়। আরও, যদি তোমরা যথেষ্ট দয়ালু হও, তাহলে আমার জন্য কোনো শেষকৃত্য করো না এবং যত দ্রুত সম্ভব আমাকে ভুলে যাও।'
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহাদির বাবা মারা যাওয়ার পর আরেকটি বিয়ে করেন তার মা রুলি এবং সেই লোক তাদের সঙ্গে একই বাসায় বসবাস করতেন। সেটা মেনে নিতে পারেনি মাহাদি। যার জন্য মায়ের সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো। এ ছাড়া ঘরে পাওয়া চিরকুটটিও মাহাদির হাতের লিখা কি না নিশ্চিত না এবং তার মরদেহ উদ্ধারের সময় তার মা বারবার ময়নাতদন্ত না করার জন্য বলছিলেন।
মাহাদির মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করতে পারে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধার করা চিরকুটে ইংরেজিতে লেখা ছিলো- মরদেহের যেন কোনো ময়না তদন্ত না করা হয় এবং পুলিশ যেন এ ঘটনার কোনো তদন্ত না করে। কিন্তু আমরা আইনি প্রক্রিয়া করতে বাধ্য। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। সেখানে তার ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
নাঈম/