চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। মামলায় অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশুধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্যতম অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ শুধু শারীরিক ক্ষতি করে না, বরং তার মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও স্বাভাবিক জীবনযাপনকেও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করে। শিশু সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি যখন একটি শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালায়, তখন সে শুধু একটি শিশুর অধিকার লঙ্ঘন করে না, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও আঘাত করে।
শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, বিচারক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে আসামীকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরআগে গত ১০ জুন ভুক্তভোগী শিশু, তার বাবা ও মামলার বাদী মেহেদী হাসান, নানা, নানী, খালা সহ ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। পরদিন ১১ জুন শিশুটির মা, জবানবন্দি রেকর্ডকারী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সবশেষ গত ১৪ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ ৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
গত ১৫ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামির পরীক্ষা শেষ হয়। গত ১৬ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১৭ জুন মামলার রায় দিয়েছেন আদালত।
গত ৪ জুন আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদ। পরে ৮ জুন আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ জুন বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২১ মে বিকেলে নগরীর বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে স্থানীয় ডেকোরেটের কর্মচারী মনির হোসেন ধর্ষণ করেছেন বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।
এ সময় আটককৃত আসামিকে পুলিশ থানায় নেয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধা দেন। তারা বলেন- তারাই ওই যুবকের শাস্তি নিশ্চিত করবেন। পরে দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় সন্দেহভাজনকে নিয়ে আসতে না পেরে
পুলিশ সন্ধ্যায় টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটে। এ সময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সেদিন রাতে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। অপরদিকে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।
পরবর্তীতে ২২ মে বিকেলে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন আসামী মনির হোসেন।
এসএন/