ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গোল বাতিল ইরানের, গোলশূন্য প্রথমার্ধ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড পেলের কীর্তিতে ভাগ বসালেন ইয়ামাল জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা সৌদিকে উড়িয়ে দিল স্পেন যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় প্রথম দফার বৈঠক শেষ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ডোকুর ‘বিশ্বকাপ ছাড়ার’ সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রথমার্ধে সৌদি আরবের জালে ৩ গোল স্পেনের তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০ অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ স্পেনের শুরুর একাদশে ইয়ামাল সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়: ইসি সচিব বোয়ালমারীতে শতবর্ষী কালী মন্দিরে ভাঙচুর চাঁদাবাজির অভিযোগে সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্র সজীব আটক প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান

ক্ষমতার অপব্যবহারে বেপরোয়া ছিলেন দীপু মনি

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৪, ০১:৩৬ পিএম
আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৪, ০১:৩৭ পিএম
ক্ষমতার অপব্যবহারে বেপরোয়া ছিলেন দীপু মনি
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের চারবারের সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য হন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে ভিন্ন তিন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হওয়ার সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ ছাড়া গত প্রায় ১৬ বছর তিনি ছিলেন বেশ বেপরোয়া। তার দুর্নীতি ও অপকর্মের মূল সহযোগী ছিলেন আপন বড় ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু।

ডা. দীপু মনি গ্রেপ্তারের পর তার ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ-দুর্নীতির নানা তথ্য বের হতে শুরু করে। সংসদ সদস্য হওয়ার পর প্রথম মেয়াদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তৃতীয় মেয়াদে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং চতুর্থ মেয়াদে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি। 

মূলত ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নিজস্ব বাহিনী গড়েন তিনি। ফলে এলাকার সবকিছু চলে যায় তার নিয়ন্ত্রণে। তার এই কাজে সহযোগিতা করেন হাজি নামে পরিচিত ওসমান গণি পাটওয়ারী, যাকে উপহার হিসেবে দুবার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। অবৈধভাবে টাকা আয় করার জন্য তার সঙ্গী হন আওয়ামী লীগ নামধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও চিহ্নিত লোকজন। এর মধ্যে অন্যতম ছিলেন মেঘনা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী বালুখেকো সেলিম চেয়ারম্যান। আর এদের নিয়ে লুটপাটের রাজ্য নিয়ন্ত্রণের অন্যতম ছিলেন ভাই টিপু। তিনবার মন্ত্রী থাকার সময়ে তদবির, মনোনয়ন-বাণিজ্য, বদলি, ঘুষ-বাণিজ্য ও বালু উত্তোলনের টাকার ভাগ নেওয়াসহ সব দায়িত্ব পালন করতেন এই টিপু। এ ছাড়া ছিলেন সাবেক মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ব্যাপারী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রোমান, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাইদুল ইসলাম বাবু ওরফে বিহারি বাবু। বিহারি বাবুর মাধ্যমে চলত সরকারি উন্নয়ন টাকা লুটপাটের সব কমিশন উত্তোলনের কাজ। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন বদলি-বাণিজ্যসহ শিক্ষকদের হয়রানি করার মূল হোতা ছিলেন পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দীপু মনির অনুসারী এবং লুটপাটে নিয়োজিত সবাই আত্মগোপনে। তার ভাই টিপু দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আর দীপু মনি বর্তমানে কারাগারে। ফলে পতন ঘটে তার ১৬ বছরের সাম্রাজ্যের।

শেখ হাসিনার সঙ্গে একসময় দীপু মনির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় চাঁদপুরের জন্য বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প আনা হলেও নিজেদের লুটপাট ও ভাগ-বাঁটোয়ারায় অমিল হওয়ায় এসব প্রকল্প আজও বাস্তবায়ন হয়নি। জেলা সদরে তিনি তার ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে দলকে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত করেন। ফলে বারবার মন্ত্রী হয়েও চরম সমালোচনার মুখে পড়েন দীপু মনি।

বিগত ১৬ বছরে দীপু মনি সাধারণ মানুষকে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম চাঁদপুর শহর রক্ষাসহ মেঘনা নদীর বাঁধের মেগা প্রকল্প, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প অনুমোদন হলেও বাস্তবে অস্তিত্বসংকটে রয়েছে ওই সব প্রকল্প।

চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সেলিম উল্লাহ সেলিম বলেন, বিগত প্রায় দেড় যুগে দীপু মনি ও তার লোকদের হাতে বিএনপি-জামায়াতের বহু নেতা-কর্মী গায়েবি মামলার আসামি ও ঘরছাড়া হয়েছেন। তার নিজের দলের লোকজনও রক্ষা পাননি। জুলুম-নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীরা তার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জবাব নিতে অপেক্ষায় আছেন। যদিও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দীপু মনিকে চাঁদপুর আদালতে উপস্থিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

সাবেক এই মন্ত্রীর সবচেয়ে বড় টাকার মেশিন ছিল লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বালুখেকো সেলিম খান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে তার হাত ধরেই উত্থান হয় সেলিম খানের। তিনি মেঘনা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতেন। আর তার ভাগ পেতেন দীপু মনি। তাই তাকে বারবার ডিও লেটার দিয়ে নির্বিচারে পদ্মা-মেঘনা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়া হয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর পুত্রসহ গণপিটুনিতে নিহত হন সেলিম খান।

অভিযোগ রয়েছে, সেলিম খানের এই বালুমহাল থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন দীপু মনি ও তার ভাই টিপু। যদিও এই অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সেলিম চেয়ারম্যানকে ২৬৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা জমা দিতে চিঠি দেন জেলা প্রশাসক। অথচ এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সমালোচনা করায় ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর নদীরক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরীও পদ হারান।

এ প্রসঙ্গে ড. মনজুর আহমেদ চাঁদপুর সফরে এসে বলেছিলেন, ‘মেঘনায় অবৈধভাবে যারা বালু তুলছে, তাদের সঙ্গে একজন নারী মন্ত্রীর সম্পর্ক আছে বলে আমি মন্তব্য করেছিলাম। আর ওই ঘটনার পরই আমি আমার পদ হারাই।’

চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ

চাঁদপুর সরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন হওয়ার পর থেকে এর কার্যক্রম চলছে সরকারি জেনারেল হাসপাতালের একটি ভবনে। মেডিকেল কলেজের প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। জমি অধিগ্রহণ থেকে টাকা লুটপাটের বিষয় ধরা পড়ার আশঙ্কায় বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্প। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার শহরতলির নিজগাছতলা এলাকায় হাসপাতালের জমি পরিদর্শন করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি।

নিজগাছতলা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম পাঠান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করবেন বলে ওয়াদা করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।’ 

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে ৬০০ কোটি টাকা লুটপাটেরও অভিযোগ ওঠে লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম খানসহ দীপু মনি চক্রের বিরুদ্ধে। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জমি অধিগ্রহণে ৩৫৯ কোটি টাকা জালিয়াতির পাঁয়তারার ঘটনায় তার ভাই টিপুসহ চক্রের সদস্যরা জড়িয়ে পড়েন। এই লুটপাটের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তৎকালীন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিসের চিঠির পর। এ কারণেই ওই সময়ে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার শহর রক্ষায় স্থায়ী ও শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প ভেস্তে যায়। বর্তমানে ওই বিশ্ববিদ্যালয় শহরের খলিশাডুলি এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে অস্থায়ীভাবে চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণ করার চেষ্টা করা হয় সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের মেঘনা নদীর উপকূলে। এ বিষয়ে ওই এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দা কালু খান, কাজল গাজী ও হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সেলিম চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয় করবে বলে আমাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে। কিন্তু আমাদের সম্পত্তি আজও বুঝিয়ে দেয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ও স্থাপন হয়নি।’

দীপু মনির ভাইয়ের টিপুনগর

দীপু মনির ক্ষমতাবলে তার বড় ভাই টিপু হাইমচর উপজেলার ৪ নম্বর নীলকমল ইউনিয়নের বাহেরচরে ৪৮ একর সরকারি খাসজমি দখল করে গড়ে তোলেন ‘টিপুনগর’। সেই জমি তিনি নিজ নামে দখলে নিয়ে তৈরি করেন মাছের ঘের, গবাদিপশুর খামার ও সবজির বাগান। যদিও বিষয়টি জানতে পেরে তৎকালীন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ সরকারি ভূমি উদ্ধারে উদ্যোগ নেন। কিন্তু তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে দীপু মনি ওই জেলা প্রশাসককে নেত্রকোনায় বদলি করে দেন।

শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে যত অনিয়ম

২০১৯ সালে শিক্ষামন্ত্রী হন দীপু মনি। এরপর ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমানকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তার সখ্য থাকায় তিনি মন্ত্রীর হয়ে নেমে পড়েন তদবির-বাণিজ্যে। আর তার এ কাজে সহযোগিতা করতেন পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। এসব বাণিজ্যের ঘুষের টাকা লেনদেনের রফাদফা করতেন দীপু মনির ভাই টিপু। তিনিই বোনের ক্ষমতাবলে শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত না হয়েও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে ভিসি পর্যন্ত শিক্ষা প্রশাসনের সব পদায়ন, পদোন্নতি ও বদলি-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ নিয়োগে ৫০ লাখ ও ভিসি নিয়োগে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত নিতেন টিপু। একাধিক শিক্ষক বলেন, টিপুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটই নিয়ন্ত্রণ করত সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি।

চাঁদপুর শহরের মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘টিপু ও রতন মজুমদারের মনমতো না হলেই ওই শিক্ষক হয়ে যেতেন বিএনপি-জামায়াত। যেমন আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিকুলামবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় আমাকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছিল।’

অভিযোগ রয়েছে, দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরেরও নিয়ন্ত্রণ নেন টিপু। তিনি এ দপ্তরের ঠিকাদারদের কমিশন ছাড়া কাজ দিতেন না।

স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ

চাঁদপুরের একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা অভিযোগ করে বলেন, নিজের স্বার্থ উদ্ধারে দীপু মনি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগকে করেছেন কয়েক ভাগে বিভক্ত। এ ছাড়া ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাংশকে নিয়ে একক রাজত্ব কায়েম করেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ দলীয় প্রথম সারির প্রায় সব নেতাই ছিলেন তার চক্ষুশূল। তিনি তাদের ছাড়াই অগ্রহণযোগ্য নবীন নেতা ও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। 

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি সংগঠন ব্যক্তি কিংবা পরিবারতান্ত্রিক হবে এটা মোটেও কাম্য নয়। ইতোপূর্বে একজনের কারণে জেলা নেতাদের মধ্যে অনৈক্য ছিল। এটা সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে আমি অতীতেও চাইনি, এখনো চাই না। কারণ যেকোনো অনৈক্য সংগঠনকে দুর্বল করে দেয়।’

রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
মো. আইয়ুব। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যা মামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত মো. আইয়ুবকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৭।

রবিবার (২১ জুন) ভোরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের দুর্গম দুরছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আইয়ুব দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭ এর একটি দল ভোর ৬টার দিকে দুরছড়ি এলাকায় তার ভগ্নিপতি শাহ আলমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয়রা জানান, ভোরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং অভিযান শেষে আইয়ুবকে হেফাজতে নেয়। অভিযান শেষে র‌্যাব সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে যায়।

বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দীন মজুমদার বলেন, র‌্যাবের একটি বিশেষ টিম বাঘাইছড়িতে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার আসামি আইয়ুবকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম নিয়ে গেছে। সেখানে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জিয়াউর রহমান জুয়েল/অন্তরা/

গোয়ালন্দে প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিল মাদক ব্যাবসায়ীরা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
গোয়ালন্দে প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিল মাদক ব্যাবসায়ীরা
ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকালে প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাপসহ আটক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে স্থানীয় মাদক ব্যাবসায়ীরা।

হামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে দৌলতদিয়া পুড়াভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসীর হাসান খানের নেতৃত্বে দৌলতদিয়া এশিয়া বোর্ডিং এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় গাঁজাসহ আশীষ চন্দ্র শীল (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আশীষ চন্দ্র শীলকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

একই অভিযানে দৌলতদিয়া পুড়াভিটার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বেবীর ছেলে ফয়সাল (২৪) কে মাদকসহ আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।

পরে তাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হলে মাদক ব্যবসায়ীরা অভিযানকারী দলের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা হ্যান্ডকাফসহ আটক ফয়সালকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসীর হাসান খান বলেন, “অভিযানে দুইজনকে মাদকসহ আটক করা হয়। একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি ফয়সালকে মাদক ও নগদ টাকাসহ আটক করা হয়েছিল। তাকে হ্যান্ডকাফ পরানোর পর পুড়াভিটার সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীরা হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।”

রাজবাড়ী মাদক দ্রব‌্য নিয়ন্ত্রণ অ‌ধিদপ্ত‌রের উপপ‌রিচালক আবু আব্দুল্লাহ জাহিদ জানান, ছি‌নি‌য়ে নি‌য়ে যাওয়া আসামি ফয়সাল‌কে এখ‌নো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

সুমন বিশ্বাস/তামান্না রুপা/

মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ
ধর্ষণ মামলার পর থানায় আত্মসমর্পন করেন পলাতক আসামি ও বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মহন তালুকদার

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ১০ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মামলায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. মহন তালুকদার।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাত পৌনে ১টার দিকে মোহনগঞ্জ থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আত্মসমর্পণ করেছেন।’

মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মহন তালুকদার গা ঢাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি পোস্ট করেন মহন। পুলিশ এতদিন তাকে গ্রেপ্তার করেনি। ধর্ষণের অভিযোগের পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা স্থানীয়ভাবে বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান। এরকম অবস্থায় গত বছরের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন ছিল। এ সময় প্রতিবেশী মহন তালুকদার ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখে।

ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, আসামি মহন তালুকদারকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।

তামান্না রুপা/

ধানমন্ডিতে শিশু গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম
ধানমন্ডিতে শিশু গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু
ছবি: প্রতীকী

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় রিক্তা আক্তার (১১) নামে এক গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৬টার দিকে ধানমন্ডির ৯/এ, রোডের ৩৭ নম্বর ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। রিক্তা আক্তার কিশোরগঞ্জ জেলার শাহিনের মেয়ে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (১৯ জুন) সকালে রিক্তা ধানমন্ডির ৯/এ, রোডের ৩৭ নম্বর ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা স্পেশালাইজড অ্যান্ড কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠায়। 

ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌসী জানান, আশপাশের লোকজন জানিয়েছে, ভবনের ছাদে থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

 

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো ধরনের শঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যাতে কোনো সভা, সমাবেশ বা মিছিল করতে না পারে, সে লক্ষ্যে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, রাজধানীতে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হবে।

অন্তরা/