কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবব্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত সোমবার সিএনজিচালিত অটোরিকশায় খালার বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তাকে ধর্ষণ করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে কিশোরীর মা থানায় মামলা করেছেন।
বুধবার (১৭ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাঙ্গালকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।
গ্রেপ্তাররা হলেন, নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের অষ্টগ্রাম মোল্লাবাড়ির অটোরিকশাচালক রিয়াজ মোল্লা (২৬) ও একই গ্রামের ফয়েজ আহমেদ (২৬)।
ভিকটিম কিশোরী ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করলেও পরে লেখাপড়া বিরতি দিয়ে সে মায়ের সঙ্গে ফেনীতে বসবাস করে।
অভিযোগের ভিত্তিতে ওসি জানান, গত সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ওই কিশোরী তার নাঙ্গলকোটে খালার বাড়ি থেকে ফেনীর বাসার উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রওনা দেয়। একপর্যায়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি একই ইউনিয়নের বোড়রা গ্রামে পৌঁছলে এর চালক তার অটোরিকশাটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে অন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে দেন। এই অটোরিকশার চালক রিয়াজ মোল্লা একটু সামনে জাকিরের মোড়ে গিয়ে তার বন্ধু পরিচয়ে মামলার অপর আসামি ফয়েজ আহমেদকে অটোরিকশায় উঠায়। এক পর্যায়ে তারা তাকে ফেনীর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চৌদ্দগ্রামের পদুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরায়। পরে রাত ৮টায় আসামি রিয়াজ মোল্লা ও ফয়েজ আহম্মদ কিশোরীকে একটি টিনশেড বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে ফয়েজ আহমদ, রিয়াজ মোল্লা এবং তাদের অপর সহযোগী আকরাম তাকে রাতভর ধর্ষণ করেন।
কিশোরীর মা বলেন, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে এলাকার লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তার মেয়েকে ফেনীর বাসার উদ্দেশ্য পাঠিয়ে দেয়। বাসায় ফিরে তার মেয়ে ঘটনাটি তাকে জানালে মেয়েকে নিয়ে মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় তিনি পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ কল করলে নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি রিয়াজ মোল্লা ও ফয়েজ আহম্মদকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ভিকটিমের মা বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এর মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। বৃহস্পতিবার ভিকটিম ওই কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
জহির শান্ত/খাদিজা রুমি/