পাবনা সদর থানা এলাকায় ছেলের সামনে হোসেন আলী নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাইদুল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন পাবনা সদর থানায় করা চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। পরে শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে মতিয়ার রহমান (৪০), শরীফ প্রামাণিক (৩৫) ও মনিরুল ইসলাম (২৮) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার লস্করপুর মাছুমবাজার জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার মেইন গেইট সংলগ্ন লাইব্রেরির সামনে পাকা রাস্তার ওপর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। সেখানে নিজ ছেলের সামনেই ভিকটিম হোসেন আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
পাবনার পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এবং পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি লাল পতাকা এই দুইটি বাহিনীর আঞ্চলিক নেতা ও সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে প্রায় এক মাস আগে হোসেন আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ বা যোগসূত্র আছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আফছানা খাতুন (৪৫) বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৯ জনের নামোল্লেখ এবং আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
আমিনুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে রাফসান হোসেন হৃদয় (২৪) নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালে হৃদয়ের বাবা হেদায়েত উল্লাহকেও একইভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (১০ জুন) রাতে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হৃদয় শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্লাহ হেদুর ছোট ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে শাকতলা গ্রামের আসিফ ও বাদশা নামের দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে দোকান থেকে তেল নিতে যাচ্ছিলেন। পথে ঘোষতল এলাকার প্রান্ত নামে আরেক যুবকের মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে ঘোষতল গ্রামের প্রান্ত ফোন করলে তিনটি মোটরসাইকেলে তার গ্রামের মো. রাজিব, রিফাত হোসেন ও মো. প্রান্তসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন বাজারে এসে অবস্থান নেন। এ সময় শাকতলা গ্রামের কয়েকজনকে বাজারের ওয়াসিমের গ্যারেজের সামনে পেয়ে মারধর করা হয়। রাজিব গ্যারেজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শাকতলা গ্রামের অটোরিকশাচালক রাফসান হোসেন হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে ধোড়করা বাজারের একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
২০০৬ সালে দূর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে ও ড্রিল মেশিনের আঘাতে হেদায়েত উল্লাহ হেদুকে হত্যা করে। ২০ বছর পর তার ছেলে রাফসান হোসেন হৃদয়কেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং সদস্যরা।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার পুলিশের অভিযান চলছে। অভিযুক্তরা মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আজহার/অমিয়/
জামালপুরে ভাতিজার হামলায় চাচা নিহতের ঘটনায় প্রধান আসামী আব্দুস সালামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১০ জুন) সকালে গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আব্দুস সালাম লক্ষীরচর মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
বুধবার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জামালপুর জেলা পুলিশ।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) পৈত্রিক জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে আব্দুস সালাম ও তার লোকজন তার চাচা আব্দুল হকের ওপর লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ভাতিজার আঘাতে চাচা আব্দুল হক ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এরপর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। অভিযানের এক পর্যায়ে গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন খবরের কাগজকে বলেন, মাত্র কয়েক দিনেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আসমাউল আসিফ/থিও
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে দুই বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসা করাতে এসে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ বছর বয়সি এক মা।
রবিবার (৭ জুন) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে অমিত নামের এক সুইপার ভুক্তভোগীকে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ওয়ার্ড থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর একই ভবনের ৬ষ্ঠ তলার সিঁড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ওই সময় অপর দুই আসামি গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও ভুক্তভোগীকে দেখিয়ে ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন- পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গন (২৩)।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগীর স্বামী খবরের কাগজকে জানান, গত ৫ জুন রাতে দুই বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তিনি রিকশাচালক হওয়ায় স্ত্রীকে মেয়ের দেখাশোনার জন্য হাসপাতালে রেখে রিকশা চালাতে যেতেন। মাঝেমধ্যে হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিতেন।
তিনি আরও জানান, গতকাল ৮ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগীর স্বামী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন, তার স্ত্রী ও মেয়ে নির্ধারিত বেডে নেই। স্ত্রীর কাছে কোনো মোবাইল ফোন না থাকায় তিনি তাদের খোঁজ করে জানতে পারেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্ত্রী ও মেয়েকে নার্সদের কক্ষে রেখেছেন। সেখানে গেলে স্ত্রীর কাছে ঘটনা জানতে পারেন।
ওসি মনসুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা জানান, মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কামাল মৃধা/থিও/
নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমারিয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া ভাঙ্গাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারীকণ্ঠে কথা বলে এমন তিন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে তাদের আটক আটক করার পর রাতে মামলা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন ওই উপজেলার মোহরকয়া ভাঙ্গাপাড়া এলাকার সোহেল রানা ওরফে রানা সরদার (২৪), মোতাকাব্বির (২০) এবং টুটুল প্রামানিক (৫০)।