খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থী অর্ণব কুমার সরকার হত্যাকাণ্ড নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে ভারতের বিভিন্ন মিডিয়া। এ হত্যাকাণ্ডকে দেশটির মিডিয়া ‘বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন’ বলে প্রচার করছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির নাগরিকরা অর্ণবকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সমর্থক বলে দাবি করে। আর এ কারণে অর্ণবকে খুন করা হয়েছে বলে তারা প্রচার করে।
এদিকে অর্ণব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এসবের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ। তবে অর্ণব হত্যায় তার বাবার ঠিকাদারি ব্যবসা, অপরাধ চক্র, প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও প্রেমঘটিত বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে পুলিশ। এর মধ্যে অর্ণবের বন্ধু গোলাম রব্বানীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অর্ণবের মোবাইলে শেষ কলটি ছিল গোলাম রব্বানীর। তিনি অর্ণবকে ফোন করে ঘটনাস্থল তেঁতুলতলা মোড়ে আসতে বলেন। গোলাম রব্বানীর কথাবার্তা কিছুটা অসংলগ্ন থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার মোটিভ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। অপরদিকে ঘটনাস্থলের আশপাশে একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও হয়তো হত্যার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সোনাডাঙ্গা থানার এসআই আব্দুল হাই বলেন, শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসনের ছাত্র অর্ণবকে নগরীর শেখপাড়া তেঁতুলতলা মোড়ে সন্ত্রাসীরা প্রথমে গুলি ও পরে কুপিয়ে হত্যা করে। তবে অর্ণবের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল বলে জানা যায়নি। পুলিশ হত্যার সম্ভাব্য কারণগুলো খতিয়ে দেখছে। এ ক্ষেত্রে চারটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানায়, হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা নিতিশ কুমার সরকার অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেছেন।