ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের  দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আলিয়ার শুটিংয়ে একজনের মৃত্যু ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী আরমান-মুক্তির মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বাপ্পারাজ ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ জেন্ডার বাজেট বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন অধিকারকর্মীদের সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য!

পাবনার চরাঞ্চলে আবার ফিরছে চরমপন্থিরা

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
পাবনার চরাঞ্চলে আবার ফিরছে চরমপন্থিরা
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

দীর্ঘ দেড় দশক পর পাবনার চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত জনপদগুলোতে আবারও উঁকি দিচ্ছে পুরোনো সেই বিভীষিকা। গত ১৫ বছর চরমপন্থিদের অস্তিত্ব অনেকটা স্তিমিত ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে শুরু করে। আত্মগোপনে থাকা চরমপন্থি সদস্যরা আবারও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে পাবনার আমিনপুর থানার দুর্গম চরাঞ্চল ‘ঢালারচর’ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করা অনেক সদস্য আবারও আত্মগোপনে যাওয়ার পথ ধরেছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ, জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক।

সম্প্রতি জেলার আটঘরিয়া, ফরিদপুর, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার একদন্ত, লক্ষ্মীপুর, বৃহস্পতিপুর, ভুলবাড়িয়া, বনগ্রাম, মাধপুর, তেবাড়িয়া, শ্রীপুর, শিবপুর, শরৎগঞ্জ, ধানুয়াটা, বালুঘাটা, আয়েনগঞ্জ, হাদল, ধূলাউরী এবং ঢালারচরসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে ও গ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-লাল পতাকা)’ পোস্টার ও দেয়াল লিখন দেখা গেছে। 

পোস্টারগুলোতে কার্ল মার্কস, লেনিন ও মাও সেতুংয়ের ছবির পাশাপাশি ‘ভোটের বাক্সে লাথি মারো, সমাজতন্ত্র কায়েম করো’ এবং ‘বন্দুকের নলই সব ক্ষমতার উৎস’–এমন স্লোগান দেখা গেছে যা স্থানীয়দের মনে পুরোনো স্মৃতি জাগিয়ে তুলছে। 

সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি জানান, আগে বিচ্ছিন্নভাবে পোস্টারিংয়ের কথা শোনা যেত। কিন্তু এখন ব্যাপকভাবে পোস্টারিং দেখা যাচ্ছে, যা দেখে জনসাধারণ আতঙ্কিত। গত দেড় দশকে তা দেখা যায়নি। একই এলাকার তেবাড়ীয়া ও হরিপুর গ্রামের কিছু বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন এলাকায় চরমপন্থিরা গোপন মিটিং করছে। একদন্ত বাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেন, আগে সকালে ঘুম থেকে উঠলেই দেয়ালে দেয়ালে চরমপন্থিদের সাঁটানো ‘খতম করা হইল’ লেখা খুনের ঘোষণার পোস্টার দেখতে হতো। অনেক বছর পর আবার যেন তাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আতাইকুলা থানার ধানুয়াটা ও ধূলাউরী বাজারের ব্যবসায়ীরাও তাদের আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন। 

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দুর্গম এলাকা ধানুয়াঘাটা, হাদল, গয়েশবাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের কণ্ঠে এখন শুধুই আতঙ্কের সুর। স্থানীয় এক বাসিন্দা সে সময়ের ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, এক সময় এ এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করাও ছিল মানা। রাস্তাঘাটে কেউ মোবাইল বের করার সাহস পেত না। রাতে চলাচলের সময় টর্চলাইট জ্বালানো ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এমনকি বাড়ির বাইরের লাইট পর্যন্ত জ্বালিয়ে রাখা যেত না। চরমপন্থিদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে দিন কাটাতে হতো এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে। এখন আবার তাদের আগমনধ্বনি শোনা যাচ্ছে। 

সদর উপজেলার দুবলিয়া এবং চরতারাপুর এলাকা এক সময় চরমপন্থিদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই সময়ে এ অঞ্চলে চরমপন্থিদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও ক্যাডার নিহত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের ফলে গত দেড় দশকে এ অঞ্চলে চরমপন্থিদের প্রকাশ্য আনাগোনা ছিল না। দীর্ঘ এই সময় এলাকার মানুষ শান্তিতে ও স্বস্তিতে বসবাস করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠনের পোস্টার সাঁটানোর ঘটনায় সেই পুরোনো আতঙ্ক আবারও ফিরে এসেছে। 

সেই রক্তাক্ত জনপদ: ঢালারচর
পাবনা শহর থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরে পাবনা, রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা ঢালারচর। বর্ষায় ট্রলার আর শুকনো মৌসুমে খেতের আলপথই এখানে চলাচলের একমাত্র ভরসা। যাতায়াতব্যবস্থা দুর্গম হওয়ার কারণে চরমপন্থিরা একসময় এলাকাটিকে নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করত। একসময় এটি ‘রক্তাক্ত জনপদ’ হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন সেখানে বিভিন্ন উপদলের সৃষ্টি হয়েছে। তারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। সম্প্রতি এ অঞ্চলে আব্দুর রশিদসহ বেশ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে।  

চরাঞ্চলের কৃষকরাও এখন দিশেহারা। বিস্তীর্ণ চরের কলা চাষিদের ওপর নেমে এসেছে চরমপন্থিদের ‘কালো থাবা’। তারা বাগান থেকে জোরপূর্বক কলা কেটে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে। চরের বাসিন্দা ও ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন (ছদ্মনাম) বলেন, চরমপন্থিরা বিভিন্ন জায়গায় অপকর্ম করে এখানে এসে লুকিয়ে থাকে। স্থানীয় গডফাদাররা তাদের আশ্রয় দেন। প্রতিবাদ করলে টার্গেট হতে হয়। 

ঢালারচরের প্রবীণ কৃষক আব্দুল কুদ্দুস (ছদ্মনাম) দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ২০০৭ সালে শামসুর রহমানকে, ২০০২ সালে নূরুলকে আর ২০০১ সালে আব্দুল মান্নানকে চরমপন্থিরা খুন করেছিলেন। ২০১০ সালে তো তিন পুলিশ সদস্যকেও মেরে ফেলা হয়। সেই আতঙ্ক কি কোনোদিন যাবে না? 
বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার ঢালারচরের কিছু বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনার শহিদ আমিনউদ্দিন স্টেডিয়ামে প্রায় ৬০০ চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই পুনর্বাসনের সুবিধা পান। তার পরও এখন আবার তাদের অনেকেই অন্ধকার জগতে ফিরতে শুরু করেছেন। এদের মধ্যে অন্যতম কুখ্যাত নেতা ‘দোলনা’। 

দোলনা একসময় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য সরকারি অনুদান নিয়েছিলেন। এখন তিনি আবার নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন। ঢালারচর ও আশপাশের এলাকায় দোলনা বাহিনীর সদস্যরা চাঁদাবাজি করছেন। এই দুর্ধর্ষ চরমপন্থি নেতার মূল বাড়ি রাজবাড়ী জেলায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা হিসেবে ঢালারচরের রামকৃষ্ণপুরে আত্মগোপন করে ছিলেন। সেখান থেকেই সে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এ ছাড়া ঢালারচর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ, একই গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন, সাদ্দাম হোসেন এবং কোরবান নামের তিনজন চরমপন্থি নেতা এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত ও প্রভাব বিস্তার করছেন। পার্শ্ববর্তী মাসুন্দিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুরচর গ্রামের বাসিন্দা জুলহাস (যিনি এলাকায় জুলহাস জুনিয়র নামে পরিচিত) চরমপন্থিদের কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ঢালারচর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামটি চরমপন্থিদের অন্যতম আস্তানায় পরিণত হয়েছে।  

ঢালারচর ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবু বকর (ছদ্মনাম) জানান, তার বৃদ্ধ বাবার কাছে কিছুদিন আগে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন দোলনা। তারা ভয়ে ২০ হাজার টাকা দিয়ে রফা করেন। স্থানীয়রা জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে তারা পরিচালিত না হলেও ‘কিশোর গ্যাং’ বা ছোট ছোট উপদল গঠন করে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম চালাচ্ছেন। প্রায় ছয় মাস আগে বেড়ার ঢালারচর ইউনিয়নের সিদ্দিক মোড়-সংলগ্ন বাজারের পাশের বাসিন্দা ও প্রবাসী যুবক আলামিন চরমপন্থিদের হামলায় প্রাণ হারান। এলাকার একটি প্রভাবশালী চরমপন্থি গোষ্ঠী আলামিনের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিল। কিন্তু তিনি সেই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে টার্গেট করা হয়।

ছয় মাস আগে আলামিন বিয়ের উদ্দেশ্যে পাশের একটি গ্রামে মেয়ে দেখতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে তাকে আটক করে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে নদীর পাড়ে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি নদীতে পড়ে মারা যান।

ঢালারচরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পুলিশ ফাঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ঢালারচর ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ, বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবনটি এখন পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ভবনের জানালাগুলো ভাঙা। বিদ্যুৎ ও পানির সংকট এখন চরমে। 

এদিকে পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, এলাকাটি দুর্গম। চরমপন্থিদের দমনে এ এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প থাকা জরুরি। তবে অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে পুলিশ সদস্যরাও সেখানে সুবিধাবঞ্চিত জীবন যাপন করছেন। অন্যদিকে, চরমপন্থিদের দমনে এই ফাঁড়িটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেখানে যানবাহন ও স্পিডবোটের অভাবে পুলিশ ঠিকমতো টহল দিতে পারছে না।

এদিকে নিষিদ্ধ সংগঠনটির এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুঁজিবাদী এ ব্যবস্থায় বর্তমানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বিরাজ করছে। এ অবস্থায় তারা আবারও সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।

তবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা বা আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন সদস্য জানান, তারা বর্তমানে ভালো আছেন এবং সুস্থ জীবন যাপন করছেন। তারা চান আইন যেন তার নিজস্ব গতিতে চলে। এই প্রক্রিয়া চলাকালে কোনো নিরীহ মানুষ যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তিখাব চৌধুরী জানান, সম্প্রতি পাবনার রকিব রানা ও শুটার আলমগীরকে অস্ত্রের বড় চালানসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চরমপন্থি সংগঠনগুলো আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। আগে আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থিদের অনেকেই আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।

র‌্যাব-১২ (পাবনা)-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আত্মসমর্পণকারী ১৭৫ জন সদস্যের বাইরেও অনেকে আত্মগোপনে ছিলেন। এখন তারা একটু সুযোগ পেলে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। চরমপন্থিদের পোস্টারিংয়ের ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি এবং কাউকে সহিংসতা ঘটাতে দেওয়া হবে না।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, পোস্টারিংয়ের নমুনা আমরা সংগ্রহ করেছি। এলাকায় তাদের প্রকাশ্য কোনো তৎপরতা নেই। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।

পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ আশ্বাস দিয়ে বলেন, পুরোনো চরমপন্থিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নতুন করে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
মো. আইয়ুব। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যা মামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত মো. আইয়ুবকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৭।

রবিবার (২১ জুন) ভোরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের দুর্গম দুরছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আইয়ুব দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭ এর একটি দল ভোর ৬টার দিকে দুরছড়ি এলাকায় তার ভগ্নিপতি শাহ আলমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয়রা জানান, ভোরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং অভিযান শেষে আইয়ুবকে হেফাজতে নেয়। অভিযান শেষে র‌্যাব সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে যায়।

বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দীন মজুমদার বলেন, র‌্যাবের একটি বিশেষ টিম বাঘাইছড়িতে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার আসামি আইয়ুবকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম নিয়ে গেছে। সেখানে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জিয়াউর রহমান জুয়েল/অন্তরা/

গোয়ালন্দে প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিল মাদক ব্যাবসায়ীরা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
গোয়ালন্দে প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিল মাদক ব্যাবসায়ীরা
ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকালে প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাপসহ আটক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে স্থানীয় মাদক ব্যাবসায়ীরা।

হামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে দৌলতদিয়া পুড়াভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসীর হাসান খানের নেতৃত্বে দৌলতদিয়া এশিয়া বোর্ডিং এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় গাঁজাসহ আশীষ চন্দ্র শীল (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আশীষ চন্দ্র শীলকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

একই অভিযানে দৌলতদিয়া পুড়াভিটার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বেবীর ছেলে ফয়সাল (২৪) কে মাদকসহ আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।

পরে তাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হলে মাদক ব্যবসায়ীরা অভিযানকারী দলের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা হ্যান্ডকাফসহ আটক ফয়সালকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসীর হাসান খান বলেন, “অভিযানে দুইজনকে মাদকসহ আটক করা হয়। একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি ফয়সালকে মাদক ও নগদ টাকাসহ আটক করা হয়েছিল। তাকে হ্যান্ডকাফ পরানোর পর পুড়াভিটার সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীরা হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।”

রাজবাড়ী মাদক দ্রব‌্য নিয়ন্ত্রণ অ‌ধিদপ্ত‌রের উপপ‌রিচালক আবু আব্দুল্লাহ জাহিদ জানান, ছি‌নি‌য়ে নি‌য়ে যাওয়া আসামি ফয়সাল‌কে এখ‌নো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

সুমন বিশ্বাস/তামান্না রুপা/

মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ
ধর্ষণ মামলার পর থানায় আত্মসমর্পন করেন পলাতক আসামি ও বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মহন তালুকদার

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ১০ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মামলায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. মহন তালুকদার।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাত পৌনে ১টার দিকে মোহনগঞ্জ থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আত্মসমর্পণ করেছেন।’

মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মহন তালুকদার গা ঢাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি পোস্ট করেন মহন। পুলিশ এতদিন তাকে গ্রেপ্তার করেনি। ধর্ষণের অভিযোগের পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা স্থানীয়ভাবে বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান। এরকম অবস্থায় গত বছরের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন ছিল। এ সময় প্রতিবেশী মহন তালুকদার ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখে।

ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, আসামি মহন তালুকদারকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।

তামান্না রুপা/

ধানমন্ডিতে শিশু গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম
ধানমন্ডিতে শিশু গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু
ছবি: প্রতীকী

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় রিক্তা আক্তার (১১) নামে এক গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৬টার দিকে ধানমন্ডির ৯/এ, রোডের ৩৭ নম্বর ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। রিক্তা আক্তার কিশোরগঞ্জ জেলার শাহিনের মেয়ে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (১৯ জুন) সকালে রিক্তা ধানমন্ডির ৯/এ, রোডের ৩৭ নম্বর ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা স্পেশালাইজড অ্যান্ড কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠায়। 

ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌসী জানান, আশপাশের লোকজন জানিয়েছে, ভবনের ছাদে থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

 

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো ধরনের শঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যাতে কোনো সভা, সমাবেশ বা মিছিল করতে না পারে, সে লক্ষ্যে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, রাজধানীতে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হবে।

অন্তরা/