ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জয়ের খোঁজে নেদারল্যান্ডস ফুরফুরে মেজাজে ইংলিশরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পেল যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বিধিনিষেধ ফিফার কাছে অভিযোগ করবে ইরান ২-০ গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুরুতেই আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচে অভিষেক হবে স্প্যানিশ হার্নান্দেজের সিরিজ হারের পর বাংলাদেশ শিবিরে দুসংবাদ হোর্হে মেসির গুজব ছড়ানোয় বরখাস্ত তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমি গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল জামালপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বকাপে মরক্কোর নতুন বিস্ময় আয়ুব বুয়াদ্দি সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়ার সাংবাদিক কারাগারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ব্রাজিল ম্যাচে থাকছে বিরল ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল লেখক শিবিরের ১৭তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার হিলি স্থবন্দরের পাইকারি বাজারে বেড়েছে চালের দাম অস্ট্রেলিয়ার গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাকে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র নোয়াখালীতে মোটরের তারে জড়িয়ে প্রাণ গেলো মা-ছেলের প্রতিবেশী দেশ মাদক ঢুকিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চায়: প্রতিমন্ত্রী টুকু রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান রাজবাড়ীতে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার: পরীমনি

বোকা ইঁদুর চালাক বাদুড়

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:০০ পিএম
বোকা ইঁদুর চালাক বাদুড়
আঁকা মাসুম

ইঁদুর ও বাদুড় দুই বন্ধু। তাদের খুব ভাব। সবসময় একসঙ্গে থাকে। একসঙ্গে খায়। তবে বাদুড়কে একটু হিংসা করত ইঁদুর। কিন্তু কেন হিংসা করত? কারণ বাদুড় অনেক ভালো রান্না করতে পারে। তার রান্না ছিল খুবই সুস্বাদু। কেউ একবার সে রান্না খেলে খুব প্রশংসা করত। আর ইঁদুরের রান্না করা স্যুপ মোটেও সুস্বাদু হতো না। তাই বাদুড়কে হিংসা করত ইঁদুর।
একদিন দুই বন্ধু ঘুরতে বের হলো। তখন ইঁদুর জানতে চাইল, আচ্ছা, তোমার রান্না করা স্যুপ এত সুস্বাদু হয় কীভাবে?
বন্ধুর সঙ্গে একটু মজা করল বাদুড়। কী বলল জানো? বাদুড় বলল, স্যুপ রান্নার আগে আমি নিজে সেই পানিতে সেদ্ধ হই! তাই এত সুস্বাদু লাগে!
এ আবার কেমন কথা! তাই কখনো হয় নাকি?
কেন হবে না? আমি তো ডুব দিয়েই আবার উঠে আসি।
ঠিক আছে বন্ধু, তাহলে আমাকে স্যুপ রান্না করে দেখাও।
এই কথা শুনে বাদুড় তো পড়ে গেল মহাবিপদে! সে তো একটু মজা করেছিল! কিন্তু এবার কী হবে?
বাদুড় তো বুঝতেই পারছে না, কী করবে! কিন্তু বলে যখন ফেলেছে কিছু তো করে দেখাতে হবে। তা না হলে বাদুড়ের মান-সম্মান বলে আর কিছুই থাকবে না!
তারপর অনেক সময় নিয়ে ভাবল বাদুড়। ভেবে বলল, আচ্ছা, দেখাচ্ছি।
এই বলে বাদুড় একটি পাত্র নিল। তাতে কয়েক মগ পানি দিল। তারপর পাত্রটি বসিয়ে দিল চুলার ওপর।
এরপর কী করল শোনো। সেই পানিতে ডুব দিয়েই আবার উঠে এল বাদুড়! কিন্তু তখন চুলা জ্বালানো ছিল না। সে উঠে এসে চুলা জ্বালাল! বাদুড়ের এই চালাকি বুঝতেই পারল না বোকাসোকা ইঁদুর।
বাদুড় বলল, দেখেছ, পানি টগবগ করে ফুটছে। আর আমি তাতে ডুব দিয়েছি!
ইঁদুর চুলার কাছে গেল। মুখটা বাড়িয়ে দিল। হ্যাঁ, সত্যিই তো, টগবগ করে পানি ফুটছে! কিছু সময়ের মধ্যে স্যুপ রান্না হলো। মজা করে স্যুপ খেল ইঁদুর। দারুণ সুস্বাদু হয়েছে রান্না।
খাওয়া শেষে বাসায় ফিরল ইঁদুর। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিল। তারপর বউকে বলল, শোনো, আজ তোমাকে সুস্বাদু স্যুপ রান্না করে খাওয়াব।
এ কথা শুনে ইঁদুরের বউ খুব খুশি! কতদিন স্যুপ খাওয়া হয় না। লোভে তার জিভে পানি চলে এসেছে!
ইঁদুর রান্না ঘরে গেল। একটি পাত্র নিল। তাতে পানি দিয়ে চুলার আগুন জ্বালাল। একসময় পানি টগবগ করে ফুটতে শুরু করল। তখন ইঁদুর বোকামি করে বসল! ঝাঁপ দিল সেই পানিতে!
আচ্ছা তোমরাই বলো, ফুটন্ত পানিতে ঝাঁপ দিলে কেউ বাঁচতে পারে? বোকা ইঁদুরও বাঁচতে পারল না। কিছু সময়ের মধ্যে ইঁদুর মারা গেল।
এদিকে ইঁদুরের কোনো সাড়া-শব্দ পাচ্ছে না তার বউ। সে চুলার দিকে এগিয়ে গেল। সেখানে গিয়ে সে তো অবাক! তার স্বামী মরে পড়ে আছে!
ইঁদুরের বউ ভীষণ রেগে গেল। যেভাবেই হোক বাদুড়কে উচিত শিক্ষা দিতে হবে। সে গেল রাজার কাছে। রাজাকে সব ঘটনা খুলে বলল।
সব শুনে রাজা রেগে আগুন। রাজার আদেশ, আমার রাজ্যে এত বড় ঘটনা? যেভাবে হোক বাদুড়কে বন্দি করতে হবে। তাকে শাস্তি পেতে হবে।
রাজার আদেশে সবাই বাদুড়কে খুঁজতে বের হলো। তারা সারা দিন ধরে খুঁজল, কিন্তু বাদুড়কে কোথাও পেল না। রাতে ফিরে গেল। এভাবে তারা প্রতিদিন দিনের বেলা খুঁজতে থাকে। রাতের ফিরে যায়। কিন্তু বাদুড়কে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।
পাবেই-বা কীভাবে? বাদুড় দিনের বেলা ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। সবাই চলে গেলে রাতে বের হয়। সেই থেকে এখনো বাদুড় দিনে লুকিয়ে থাকে ও রাতে খাবারের খোঁজে বের হয়।

নাইজেরিয়ান লোককাহিনি অবলম্বনে

ঈদের ছড়া

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০২:১২ পিএম
ঈদের ছড়া
এঁকেছেন মাসুম

লাল গরু

আবদুল লতিফ 

বাবার সাথে গেল খোকা 
ঈদের পশুর হাটে 
নানান রকম পশু দেখে 
খোকার সময় কাটে। 

নানান রঙের নানান পশু 
নানান রকম শিং 
কারও গলায় ঘণ্টা বাজে 
টুংটাং টিংটিং।

টুকটুকে লাল একটা গরু 
শিং দুটো তার বাঁকা 
খুব সুন্দর দেখতে যেন 
রংতুলিতে আঁকা।

এমন গরু দেখে খোকার 
জুড়ায় দুই নয়ন 
সেই গরুটা দেখে বাবারও 
ভরে ওঠে মন।

লাল গরুটা কিনে নিয়ে 
ফিরল বাড়ি শেষে 
ফিরল বাড়ি বাবা-ছেলে
খুশির নায়ে ভেসে।

 


কোরবানির পশু কেনা

মুহাম্মদ রফিক ইসলাম 

 

গেল খোকা
পশুর হাটে 
          ঈদের খুশি মনে,
লাল গরুটা
পছন্দ খুব
         দেখে জনে জনে।
খোকা বলে
কিনতে হবে
         এই গরুটা ভালো, 
ইয়া বড়
শিং আছে তার
         লেজখানি যার কালো।
মুচকি হেসে
বলেন বাবা
         নাও তাহলে এটা,
মনের খায়েশ 
পূর্ণ হলেই 
         আল্লাহ খুশি, ব্যাটা।

 

 


ঈদ এলে 

মো. দিদারুল ইসলাম 

 

ঈদ এলে ছেলে-বুড়ো রাত করে ভোর,
খুকুমণি হাতে তোলে মেহেদির ফোঁড়।

ঈদ এলে শহরের অলিগলি ফাঁকা,
অনেকেই ছেড়ে যায় রাজধানী ঢাকা।

ঈদ এলে সারা গাঁয়ে পড়ে যায় ধুম,
খোকনের চোখজুড়ে নাহি থাকে ঘুম।

ঈদ এলে গরিবের মনে নাই সুখ,
আঁখি সদা জলে ভরা দুখ আর দুখ।

ঈদ এলে উঁচু-নিচু ভেদাভেদ নাই,
সকলেই মিলেমিশে ঈদগাহে যাই।

 


ঈদ এল গাই চলো!

শ্যামল বণিক অঞ্জন 

 

খুশির পরাগে সাজে প্রজাপতি মন
উল্লাসে শোরগোলে মাতোয়ারা ক্ষণ! 
আকাশের কোণে হাসে এক ফালি চাঁন
ঈদ এল গাই চলো সাম্যেরই গান!
কোলাকুলি গলাগলি বুকে রাখি বুক
ঈদে থাক সকলেরই হাসিভরা মুখ!

রেজার লাল গরু

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
রেজার লাল গরু
এঁকেছেন মাসুম

ফুরফুরে বাতাস আর কাঁচা মাটির গন্ধে রেজার মনটা বেশ ফুরফুরে হয়ে আছে। বাবা সরকারি চাকরি করেন বলে সারা বছর ইটের দেয়ালে বন্দি থাকতে হয়। কিন্তু এবারের ঈদটা একদম অন্যরকম। ফুলপুরে দাদাবাড়ি মানেই অন্য এক জগৎ। রেজার বাপ-দাদারা খাঁটি ‘ধানিপানি’ গেরস্ত। উঠানভর্তি ধানের গোলা আর গোয়ালভর্তি গরু–এসব দেখেই রেজা বড় হয়েছে গল্পের ছলে।
গ্রামে আসার পর থেকে রেজার দিন কাটছে চাচাতো ভাই মাহিরের সঙ্গে। ওরা দুজনেই ক্লাস ফাইভে পড়ে, যেন হরিহর আত্মা। মাঠ-ঘাট আর বন-বাদাড় চষে বেড়ানোই এখন ওদের প্রধান কাজ। ঈদের দুদিন আগে শুরু হলো আসল উত্তেজনা–গরু কেনা।
হাটে গিয়ে রেজার সে কী আনন্দ! চারদিকে শত শত গরু। এর মধ্যেই হঠাৎ এক কাণ্ড ঘটল। একটা গরুর খুব কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় সপাৎ করে রেজা একটা লাথি খেল। ব্যথা যতটা না লেগেছে, তার চেয়ে লজ্জা পেল বেশি। মাহির তো হেসেই কুটিপাটি! শেষমেশ চাচা এসে রেজার ধুলো ঝেড়ে দিয়ে হাসিমুখে বললেন, ‘আরে পাগলা। গরু তো একটু-আধটু গুঁতা-লাথি মারবেই। সাবধানে থাকতে হয়।’
অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাবা আর চাচা মিলে বিশালাকার একটা লাল টুকটুকে বলদ কিনলেন। যেমন তার শিং, তেমনি তার গায়ের রং। রেজা শুরু থেকেই তার ফোনে ছবি তুলছিল। হাটে যাওয়া, দরদাম করা, আর শেষে লাল গরুর সঙ্গে বীরের মতো দাঁড়িয়ে ছবি তোলা–কিছুই বাদ রাখল না সে।
বাড়ি ফিরে এসেই রেজার নতুন মিশন শুরু হলো। বাবা, চাচা-চাচি, আর দাদা-দাদিকে নিয়ে উঠোনে একটা দারুণ ফ্যামিলি সেলফি তুলল। তার পর সেই বিশাল গরুর ছবির সঙ্গে ক্যাপশন দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করল–‘এবার কোরবানিতে জেলার সবচেয়ে বড় গরু কোরবানি দিচ্ছি আমরা!’
পোস্ট দেওয়া মাত্রই লাইক আর কমেন্টের বন্যা বয়ে গেল। মুহূর্তেই ছবিটা ভাইরাল। এমনকি দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সেই ‘বিশাল’ গরু দেখতে রেজার দাদাবাড়িতে ভিড় জমাতে লাগল। রেজা তো খুশিতে আত্মহারা!
কিন্তু গোল বাধল ঈদের আগের রাতে। চারদিকে চমৎকার জোছনা ফুটেছে। উঠোনটা যেন রুপালি আলোয় ভেসে যাচ্ছে। রেজার দাদা, যিনি স্থানীয় মসজিদের ইমাম, সবাইকে নিয়ে সেই উঠানে বসলেন। তবে আজ দাদাকে বেশ গম্ভীর দেখাচ্ছে।
দাদা রেজার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললেন, ‘দাদুভাই, তুমি নাকি ফেসবুকে আমাদের কোরবানির খবর ছড়িয়ে দিয়েছ?’
রেজা গর্বের সঙ্গে বলল, ‘হ্যাঁ দাদা! সবাই বলছে আমাদের গরুটা নাকি জেলার সেরা।’
দাদা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘রেজা, কোরবানি তো কোনো প্রতিযোগিতা নয়। এটা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। গরু কত বড় হলো, দাম কত হলো–এসব জাহির করার নাম কোরবানি নয়। আমরা যদি মনে লৌকিকতা রাখি, তবে সেই ত্যাগের কোনো মূল্য নেই। লোক দেখানো ইবাদতকে ইসলামে পছন্দ করা হয়নি।’
দাদার কথাগুলো রেজার মনে তীরের মতো বিঁধল। সে বুঝতে পারল, সে নিজের অজান্তেই একটা পবিত্র বিষয়কে স্রেফ প্রচারের আলোয় নিয়ে এসেছে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে রেজার চোখের কোণ ভিজে উঠল। সে তখনই ফোনটা বের করল এবং সবার সামনেই ফেসবুক থেকে সেই ভাইরাল হওয়া পোস্ট আর ছবিগুলো ডিলিট করে দিল।
জোছনা রাতে দাদা আশীর্বাদের হাত রেজার মাথায় বুলিয়ে দিলেন। রেজা বুঝতে পারল, বড় গরু কেনায় নয়, মনের অহংকার বিসর্জন দেওয়াতেই কোরবানির আসল সার্থকতা।

ক্যাবলা আর কোরবানির গরু

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০২:০২ পিএম
ক্যাবলা আর কোরবানির গরু
এঁকেছেন মাসুম

সকাল থেকেই পাশের বাড়িতে যেন সাইরেন বাজছে, এমন উচ্চৈঃস্বরের প্যাঁ প্যাঁ ক্রন্দন।
পটলা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখল। হ্যা, যা ভেবেছে তাই ঠিক। ক্যাবলাটাই এই ক্রন্দন-সাইরেন বাজাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টা কী? একটু 
দেখতে হয়।  
দরজা খুলে পা বাড়াল পটলা। ক্যাবলার মেজো কাকার কাছে জানতে পারল, কোরবানির গরুর সঙ্গে সেই সকাল থেকেই ক্যাবলাটা দুষ্টুমি শুরু করেছে। হঠাৎ গরুর পিঠে উঠে বসায় গরুর ছোটাছুটি এবং ক্যাবলা চিতপটাং। তেমন কিছু ব্যথা না পেলেও কান্নার জোর ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সহ্য করতে না পেরে ওর বাবা কান্না-সন্ত্রাসের হাত থেকে বাঁচতে পাশের বাড়িতে গিয়ে উঠেছে। কত মানুষই তো কাঁদে, কিন্তু এমন বিশ্রী কান্না খুব একটা শোনা যায় না।
পটলা এগিয়ে গেল ক্যাবলার কাছে।
–কী রে, এখনো ফুল চার্জ? অনেক তো হলো, এবার থাম দেখি।
 পটলার কথা শেষ না হতেই বাড়ির উঠানে গড়াগড়ি দিয়ে ডাবল জোরে কান্না শুরু হলো। কান্নার গুঁতোয় পটলাও স্থান ত্যাগ করল দ্রুত।
গরুটাও আর সহ্য করতে পারল না। হুংকার দিয়ে দড়ি ছিঁড়ে ক্যাবলাকে তাড়া করল। মুহূর্তেই ক্যাবলার কান্না বন্ধ। বাবা গো মাগো বাঁচাও বাঁচাও বলে ছুটতে লাগল ক্যাবলা। তার পিছনে সমানতালে কোরবানির গরু লালু।
হাইস্কুলের মাঠে গিয়ে বড় আমগাছে উঠে প্রাণে বাঁচল বেচারা। কিন্তু গাছের তলায় দাঁড়িয়ে সমানে হাম্বা হাম্বা ডেকে তার সর্বশরীর কাঁপিয়ে তুলল লালুটা। এভাবেই কাটল ঘণ্টাখানিক।
গাছের ডালে ভয়ে কেঁপে কেঁপে নেতিয়ে পড়ল ছোঁড়াটা। শরীরে কাঁপুনি ধরে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যেই লোক জড়ো হয়ে গেল গাছতলায়।
লালুটা কাউকে কিছু বলছে না। যেন তার একমাত্র টার্গেট গাছে চড়া ওই কান্না-সন্ত্রাসী ক্যাবলা। ওকেই তার চাই। ছোঁড়াটার বিশ্রী কান্নায় লালুটা খুবই বিরক্ত, রাগও হয়েছে খুব। এটা তার চোখের ভাষাতেই বুঝিয়ে দিচ্ছে।
দুপুরের পর বাবা-মা আর আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় গাছ থেকে নামানো হলো ক্যাবলাকে। যেন সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসা। লালুকেও নিয়ে যাওয়া হলো বাড়িতে। ক্যাবলা গাছ থেকে নেমেই নিজেই নিজের কান ধরে উঠবস করল কয়েকবার। বলল, ঢের শিক্ষা হয়েছে। আর দুষ্টুমি নয়। এখন থেকে রোজই অন্তত একটা ভালো কাজ করব। আমাকে সবাই ক্ষমা করো। 
 ক্যাবলার ওপর থেকে সবার রাগ চলে গেল। পরের দিনই মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা দিয়ে পাঁচটি পথশিশুর জন্য ঈদের পোশাক কিনে দিল ক্যাবলা। বাবা-মা খুশি হলেন খুব। ক্যাবলাকে আদর করে টিলু কাকা বললেন, সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা সবাই এবার ঈদে পাঁচজনকে না পারি, কমপক্ষে একটি পথশিশুকে ঈদে জামা কিনে দেব। আমাদের এলাকার একটা শিশুও যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়। সবার আনন্দেই এবার ঈদ হবে প্রাণের ঈদ। সত্যিকারের ঈদ।
টিলু কাকার কথায় সবাই সমর্থন দিল। হাততালি দিল। হাত বাড়িয়ে দিল। অন্যরকম এক আনন্দে হেসে উঠল হিজলপুর।

বাঘের পিঠে মিলি

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
বাঘের পিঠে মিলি
এঁকেছেন মাসুম

বড় একটা বন। সেই বনে বাস করত বিশাল একটা বাঘ। বাঘটাকে সবাই মামা বলে ডাকত। বাঘটা খুব ভালো। কাউকে কিছু বলত না। সবার সাথে ভালোভাবে চলত। 
মিলি একদিন গেল ওই বনে। যেতেই সামনে হাজির হলো বাঘটি। 
মিলি ভয় করে বলল, ‘বাঘ মামা, তুমি হাসো কেন? তুমি কী আমাকে খেয়ে ফেলবে?’
বাঘ মুচকি হাসি দিয়ে বলল, ‘আরে না। তোমার খেলার সাথি হতে চাই।’
–তুমি আমার খেলার সাথি হবে?
মিলি হা হা হো হো হি হি হাসল। একটু ভেবে আরও একটু হাসল। সবগুলো দাঁত বের করে। হো হো হি হি করে। 
বাঘ বলল, ‘বাহ! বাহ! তোমার হাসি কী ভালো। আরও হাসো। আরও হাসো। হাসতে থাকো। আমি দেখতে থাকি।’
মিলি খুশি হয়ে বলল, ‘আমার খেলার সাথি হতে চাও ভালো কথা। আমার বাসায় যাবে কীভাবে? তোমাকে দেখলে সবাই মেরে ফেলবে।’
বাঘ বলল, ‘বিকেল হলে তুমি আসবে। আমরা এক সাথে খেলব। মজা করব। তোমাকে পিঠে নিয়ে ঘুরব।’
বাঘটির নরম কথায় মিলি খুব খুশি হলো। বলল, ‘তা হলে ঠিক আছে।’ তার পর বাঘ মিলিকে পিঠে তুলে নিল এবং সারা বন ঘুরে দেখাল। মজার মজার কথা শোনাল।
একটু পর মিলি ঘুম থেকে উঠল। আর বলল, ‘কই বাঘ! কই বন! কই আমি! ইশ! দুর ছাই। ওহ বুঝতে পেরেছি। তা হলে আমি ঘুমের ঘোরে বাঘের পিঠে ছিলাম।’
মিলি আবার হা হা হো হো হি হি করে হাসতে হাসতে ঘুমিয়ে পড়ল।

কুটুনের মা

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
কুটুনের মা
এঁকেছেন নিয়াজ চৌধুরী তুলি

কুটুনের মন খারাপ। আজ তার পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। গণিতে কুটুন নম্বর কম পেয়েছে। গণিত বুঝতে তার অসুবিধা হয়। অসুবিধা হয় বলে অঙ্ক করতে ভয় পায়। ভয়ে কখনো কখনো সে অঙ্ক না করে পাশে সরিয়ে রেখে দেয়। তাতে তার গণিতে ফলাফল ভালো হয়নি।
কুটুন বসে আছে ঘরের বারান্দায়। মা এসেছেন। কুটুন ইশকুল থেকে ফিরে কিছু খায়নি। হাতমুখ ধুয়ে বারান্দায় চলে এসেছে। মা বললেন, ‘কুটুন, চলো ছাদে যাই। নতুন বাতাস এসেছে।’
মাথা ঘুরিয়ে কুটুন মাকে দেখতে পেয়েছে। মা কুটুনের মাথায় হাত রাখলেন। আচমকা কুটুনের কান্না পেয়ে গেছে। তবে সে কাঁদেনি। তার মনে প্রবল কৌতূহল দেখা দিয়েছে। মা বলেছেন ‘নতুন বাতাস এসেছে’। বাতাস কেমন করে নতুন হয় সে বুঝতে পারছে না। কুটুন উঠে পড়ল। সে মায়ের সঙ্গে ছাদে গিয়ে দাঁড়াল। 
মা বললেন, ‘বাতাস বয়ে যাচ্ছে বুঝতে পারছ?’
কুটুন বলল, ‘নতুন বাতাস এসেছে বুঝলে কীভাবে, মা?’
মা বললেন, ‘তুমি যখন ইশকুলে যাচ্ছিলে তখন কি বাতাস এমন ঠাণ্ডা ছিল?’
কুটুন অবাক হয়ে বলল, ‘না মা। তখন গরম লাগছিল। বাতাসে গরম ভাব ছিল।’
মা বললেন, ‘সেই গরম বাতাস চলে গেছে। সেখানে এসে পড়েছে এখন ঠাণ্ডা বাতাস। তাতেই বুঝেছি নতুন বাতাস এসেছে।’
কুটুনের ভালো লাগছে। মা কী সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বললেন নতুন বাতাস এসেছে তা কীভাবে বোঝা গেছে। মায়ের হাতে ফানুস। মা ফানুস গুছিয়ে রাখলেন। ফানুসের ভেতর যেখানে আগুন জ্বালাতে হয়, মা সেখানে আগুন জ্বালিয়েছেন। মা আর কুটুন হাত উঁচু করে ফানুস উড়িয়ে দিল আকাশে। বাতাসে ভেসে ভেসে ফানুস ধীরে ধীরে উপরে উঠে যাচ্ছে।
মা বললেন, ‘দেখো কুটুন, আমাদের ফানুস উপরে উঠে যাচ্ছে।’
কুটুন বলল, ‘মা, কত উপরে উঠবে এই ফানুস?’
মা বললেন, ‘অনেক উপরে। ওই মেঘেদের কাছে।’
ফানুস দেখতে ছোট হয়ে যাচ্ছে। ফানুস চলে গেছে মেঘের কাছাকাছি।
মা বললেন, ‘তুমি কি জানো কুটুন, ফানুস কেমন করে ওড়ে?’
কুটুন বলল, ‘ফানুসের ভেতর আগুন থাকে। ফানুসে যে আগুন আছে, সেই আগুনের তাপে ফানুসের ভেতরের বাতাস গরম হয়ে হালকা হয়েছে। হালকা বাতাস ফানুসকে উপরের দিকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’ 
মা বললেন, ‘ফানুসে যদি আগুনের শিখা না থাকত তা হলে কি ফানুস উড়তে পারত?’
কুটুন বলল, ‘পারত না, মা। ওই আগুন হচ্ছে ফানুসের ওড়ার শক্তি। তা হলে আগুন না থাকলে ফানুস উড়বে কীভাবে!’
নরম গলায় মা বললেন, ‘তোমার মন খারাপ, বাবা!’
গণিতে কম নম্বর পেয়েছে। মাকে বলা হয়নি। কুটুন বলল, ‘হ্যাঁ মা। পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। গণিতে নম্বর কম পেয়েছি। অঙ্কে খুব ভয় পাই।’ 
মা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। কুটুন তাকিয়েছে আকাশের দিকে। আকাশে ফানুস দেখা যাচ্ছে। মা বললেন, ‘তোমার ভেতরেও ফানুসের মতো আগুনের শিখা আছে। তুমি যাকে বলেছ শক্তি। তোমার ভেতরের সেই আগুন তুমি জ্বালাওনি বলে তোমার মন খারাপ হয়ে যায়।’
কুটুনের মন ভালো হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে সত্যি তার ভেতর ফানুসের মতো আগুন আছে। সেই আগুনকে সে কাজে লাগাতে চায়।
মা বললেন, ‘কোনো একদিন অঙ্কের উত্তর মেলেনি বলে তুমি অংক করতে ভয় পাও। তুমি অংকের বই দূরে সরিয়ে রেখেছ। তাতে তোমার ভেতরের আগুনের শিখা নিভে গেছে। তুমি গণিতে ভালো করতে পারছ না।’ 
নিজের ভেতর শক্তি অনুভব করছে কুটুন। তার বিশ্বাস হচ্ছে সে চেষ্টা করলেই পারবে। মা বলেছেন তার ভেতর আগুনের শিখা আছে। সেই আগুন হচ্ছে শক্তি। নিজের ভেতরের শক্তিকে কাজে লাগাবে।
মাকে জড়িয়ে ধরেছে কুটুন। মা তার ভেতর নিভে যাওয়া আগুনের শিখা জ্বালিয়ে দিয়েছেন। এখন থেকে সে আর কিছুতেই ভয় পাবে না। ভয় পেলে নিজের ভেতরের আগুনের শিখা নিভে যায়। আগুনের শিখা নিভে গেলে শক্তি ফুরিয়ে যায়।
মা বললেন, ‘আকাশের তারা কখনো হারিয়ে যায় না। শুধু মেঘ তাদের ঢেকে রাখে। তোমার ভেতরের শক্তিও হারিয়ে যায়নি।’ 
কুটুন মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘মা তুমি খুব ভালো। আর কোনো দিন আমার মন খারাপ হবে না। আর কোনো কাজে ভয় পাব না।’ 
মা কুটুনের কাঁধে হাত রাখলেন। মা আর কুটুন দুজনই তাকিয়ে আছে আকাশে ফানুসের দিকে। কুটুনের চোখ পানিতে ভিজে উঠেছে। কুটুন কাঁদছে আনন্দে।