বাঘের নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভাসে ভয়ংকর সুন্দর এক প্রাণী। গায়ে ডোরাকাটা দাগ। মুখে লোম। হিংস্র দাঁত। ভয়ংকর হিংস্র প্রাণী হিসেবেই আমরা বাঘকে চিনি। বাংলাদেশের জাতীয় পশুও এটাই। যাকে বলা হয় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনে এই ধরনের বাঘের দেখা মেলে। ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট হলো সমুদ্র উপকূলবর্তী বন। যে বন সমুদ্রের জোয়ারের নোনা পানিতে ভেজে। পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট হলো সুন্দরবন। আজ বাঘ সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য জানাব যা আগে তোমরা শুনোনি।
বাঘের প্রজাতি: তোমরা কি জানো পৃথিবীতে মোট ৯ ধরনের বাঘ আছে। তার মধ্যে আমাদের সুন্দরবনের বাঘও একটি উপ-প্রজাতি। ৯ ধরনের বাঘের মধ্যে বর্তমানে পৃথিবীতে বেঁচে আছে মোট ছয় ধরনের বাঘ। বাকি তিন উপ-প্রজাতি বিলুপ্ত। বেঙ্গল টাইগার, সাইবেরিয়ান টাইগার, সুমাত্রান টাইগার, ইন্দোচাইনিজ টাইগার, মালয় টাইগার ও দক্ষিণ চীনা বাঘ পৃথিবীতে দেখতে পাওয়া যায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাঘ হলো সাইবেরিয়ান বাঘ, যারা সুপরিচিত বেঙ্গল টাইগারের চেয়েও তিনগুণ বড় হয়ে থাকে!
বাঘ আসলে বিড়াল: বাঘ এক ধরনের বৃহৎ আকৃতির বিড়াল। এরা বৃহত্তম বন্য বিড়াল। এই বিড়াল ১০টি ১০ বছরের মানুষের বাচ্চার সমান হয়ে থাকে ওজনে। একটি প্রাপ্তবয়স্ক বাঘের ওজন ৩৬৩ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
বাঘের গর্জন: অন্যান্য প্রাণীদের মতো বাঘও তার অন্য সাথীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য গর্জন করে। পশুদের মধ্যে বাঘের গর্জন অত্যন্ত জোরালো হয়ে থাকে। বাঘের গর্জন তিন কিলোমিটার দূর থেকে শুনতে পাওয়া যায়।
ডোরাকাটা দাগ: বাঘের নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভাসে ডোরাকাটা নকশার একটা প্রাণী। বাঘের গায়ে ডোরাকাটা নকশা বা দাগ দেখেই তাকে চেনা যায়। তবে বাঘের গায়ের এই ডোরাকাটা দাগ অনন্য। এক বাঘের গায়ের দাগের সঙ্গে অন্য বাঘের দাগ বা নকশা মিলে না। অনেকটা মানুষের আঙুলের মতো। প্রত্যেক বাঘের নিজস্ব স্বতন্ত্র ডোরাকাটা দাগ আছে।
বাঘের পা: বাঘের পেছনের পা সামনের পায়ের চেয়ে লম্বা হয়ে থাকে। যার ফলে বাঘ শিকার করার সময় বিশেষ সুবিধা পায়। লাফ দেওয়ার সময় বাঘ একবারে ২০ থেকে ৩০ ফুট পাড়ি দিতে পারে।
দুরন্ত সাঁতারু: আগেই বলেছি বাঘ বিড়াল প্রজাতির প্রাণী। বিড়াল প্রজাতির অন্য প্রাণীরা পানিকে এড়িয়ে চললেও বাঘ পানিতে থাকতে খুব পছন্দ করে। বাঘ দীর্ঘ নদী সাঁতরে পাড়ি দিতে পারে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিতে থাকতে পারে বাঘ।
রাতের শিকারি: বাঘ সচরাচর রাতেই বেশি শিকারে বের হয়। এরা রাতের আঁধারে আমাদের চেয়ে ছয়গুণ বেশি দেখতে পারে। মহিষ, হরিণ, জেব্রার মতো প্রাণীদের বাঘ শিকার করে। একবার শিকারে বাঘ ৪০ কেজির মতো মাংস খেতে পারে!