বাবলু আজ ডায়েরিটা কিনেই ফেলল। স্কুলের সামনের দোকানটায় প্রতিদিনই ডায়েরিটা দেখত সে। নীল রঙের ডায়েরি। তালা সিস্টেম। লেখার পর তালা দিয়ে রাখা যায়। প্রথম দেখাতে ডায়েরিটা বাবলুর পছন্দ হয়েছিল। মনে মনে ভাবল, সেখানে মজার মজার ছড়া লিখবে। তারপর তালা দিয়ে লুকিয়ে রাখবে, যেন কেউ না দেখে।
সেদিন সন্ধ্যায় খেলাধুলা করে আসার পর ডায়েরিটা হাতে নিল বাবলু। তালাটা খুলল। পাতাগুলো চকচকে সাদা। প্রথম দিকের একটা পাতায় নিজের নাম লিখল। পরের পাতায় গেল ছড়া লেখার জন্য।
বাবলুর জানালার পাশেই একটা ডালিম গাছ। সেটা নিয়েই লিখল ছড়া...
ডালিম গাছে ডালিম নাই
ঝুলে ক্রিকেট বল,
মাঠে গিয়ে খেলব ক্রিকেট
বন্ধুরা সব চল।
ওইটুকু লিখেই ডায়েরিটা আবার তালা মেরে রেখে দিল। তারপর পড়াশোনা করে প্রতিদিনের মতোই ঘুমিয়ে গেল।
পরদিন ভোরে বিছানা থেকে জানালার ওপারে চোখ পড়তেই চমকেই উঠল সে। ডালিম গাছে অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে গেছে। ডালিমের বদলে
ঝুলছে থোকা থোকা ক্রিকেট বল। ঠিক যেমনটা সে ডায়েরিতে লিখেছে।
বাবলু নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে নেমে ইচ্ছেমতো গাছ থেকে ক্রিকেট বল ছিঁড়তে লাগল। মাঠে গেলে বারবার ক্রিকেট বল হারিয়ে যাওয়ার কারণে খেলতে সমস্যা হয়। তাই এবার বেশি করে বল নিল বাবলু। কিন্তু জানালার ছোট্ট ফাঁকা দিয়ে বলগুলো ভেতরে আসছিল না। তাই সে নিচে ফেলে দিল। মনে মনে ভাবল, বাইরে গিয়ে নিয়ে আসবে।
বল আনতে খাট থেকে নামতে যাবে, ঠিক তখন মা চেঁচিয়ে উঠল, এই বাবলু, স্কুলে যাবি না? ঘুম থেকে ওঠ...!
এবার বাবলু চমকে উঠল। লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নেমে পড়ল। ভাবল, এতক্ষণ তাহলে আমি স্বপ্ন দেখছিলাম!
বিছানা থেকে নেমে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল বাবলু। সত্যি সত্যি ডালিম গাছের নিচে ক্রিকেট বল পড়ে আছে। সে অবাক হলো। স্বপ্ন তাহলে সত্যি হয়েছে।
বাবলু ডায়েরিটার কাছে ছুটে গেল। তালা খুলে পৃষ্ঠা উল্টালো। একটা পাতায় লেখা...
জাদুর ডায়েরিতে লিখবে যা
বাস্তবে তা পাবে,
দেখবে সেসব স্বপ্ন ঘুমে
সব তোমার হবে।
বাবলু ছড়াটি পড়েই বাইরে বেরিয়ে এল। লাল লাল ক্রিকেট বলগুলো যেন তার দিকে তাকিয়ে আছে।