তোমরা তো ভূতের গল্প পড়েছ কিংবা শুনেছ। মেছোভূত, গেছোভূত, শাকচুন্নি, পেত্নী কত রকমের ভূতের গল্পই জানা আছে তোমাদের। তবে তোমরা কি জানো, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ভূতের গল্পটি কোথায় লেখা আছে?
আজ তোমাদের সেই গল্প সম্পর্কে জানাব। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ভূতের গল্পটি লেখা হয়েছিল মেসোপটেমিয়া সভ্যতার সময়ে। আজ থেকে প্রায় ৩৫০০ বছর আগে প্রাচীন গ্রিস, ইরাক, ইরান, সিরিয়া, তুরস্কের কিছু অঞ্চল নিয়ে গড়ে উঠেছিল এই সভ্যতা। এটা পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর একটি।
গল্পটি লেখা হয়েছিল কাদামাটিতে। ঠিক লেখা হয়েছিল বললে ভুল হবে। আঁকা হয়েছিল। প্রথমে কাদামাটিতে ভূতের গল্পটি আঁকা হয়। তার পর সেটাকে টাইলসের মতো আকারে কেটে শুকানো হয়েছিল, যেন সেটা অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায়। এই টাইলসকে বলা হয় ট্যাবলেট।
তখনকার মানুষরা এঁকেই মনের ভাব প্রকাশ করত বলে ভূতের গল্পটি আঁকা হয়েছিল। সেই সভ্যতার মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী মানুষের মৃত্যুর পর তার আত্মা এটি জায়গায় অনন্তকাল বাস করবে। মৃত্যুর পর মানুষকে কবর না দিলে তার আত্মা ভূত হয়ে যাবে। শান্তি খুঁজে পাবে না। এই ভূত বা আত্মা ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পাবে না, যতক্ষণ না মৃত ব্যক্তিকে সমাধি দেওয়া হবে। ঠিক এই ধরনের গল্প বা বিশ্বাস বোঝানো হয়েছিল মেসোপটেমিয়ার মাটির সেই চিত্রে। মাটির এই ট্যাবলেটটি রাখা আছে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে। ট্যাবলেটটি আলোর নিচে ধরলেই ভালোভাবে বোঝা যায়। জাদুঘরের অভিজ্ঞদের মতে, চিত্রটি দক্ষ কারিগর দ্বারা আঁকা হয়েছিল।