চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনাটি তদন্তে চারদিন সময় বাড়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এই সময়সীমা বাড়িয়েছেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন জানান, ইতিমধ্যে ২৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে যে খুদে বার্তার ওপর ভিত্তি করে ক্রিকেটার নাঈমকে পুলিশ তল্লাশি করেছিল, সেটি যে বা যে সংস্থা থেকে এসেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। মূলত এই কারণে তদন্তের স্বার্থে আরও চার কার্যদিবস বাড়তি সময় চাওয়া হয়। পুলিশ কমিশনার তা মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে সিএমপি কমিশনার কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছিলেন। এই সময়সীমা গত ১৮ জুন শেষ হয়। তদন্ত কমিটি আরও চারদিন সময় চাওয়ায় তদন্তের সময় আরও চারদিন অর্থাৎ ২২ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কমিটিকে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।
উল্লেখ্য ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান নাঈম। এরপর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বহদ্দারহাটের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ১১টার দিকে অটোরিকশাটি লালখান বাজার এলাকায় এলে ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য গাড়ি থামিয়ে চালকের কাগজপত্র কেড়ে নেয়।
পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। একপর্যায়ে নাঈমকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানেও তাকে হেনস্তা করা হয়। পরে বিসিবি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম। এ ঘটনায় এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরদিন ১৩ জুন রাতে খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া গ্রেপ্তার করা হয় পুলিশের সোর্স সোহেল হোসেন সরকারকে। তাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দামপাড়া পুলিশ লাইনসে হামলা এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় পুলিশের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালতের নির্দেশে সোহেল বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। পাশাপাশি নাঈমকে হেনস্তার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
এসএন/