ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মোহাম্মদপুরের সন্ত্রাসী ‘মাওরা সোহেল’ গ্রেপ্তার দিনাজপুরে পুরাতন বইয়ের বাজারে মন্দা, কমেছে পাঠক বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক উল্টে চালক ও সহকারী নিহত মা-বাবাকে অবহেলা করো না, জাহান্নাম নেমে আসবে পৃথিবীতে! রংপুরে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার তামু ও তার সুপারহিরো বাবার গল্প বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচ ডিজিটাল রূপান্তরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকায় ১২তম ডিজিটাল সামিট অনুষ্ঠিত আমরা শুধু কেপ ভার্দে নই, পুরো আফ্রিকার জন্য খেলছি: বুবিস্তা বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা দোকানের তালা ভেঙে ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশি বিয়ার জব্দ খবরের কাগজের বাগেরহাট প্রতিনিধিকে প্রাণনাশের হুমকি! আজ বিশ্ব সংগীত দিবস সৃজনশীল অর্থনীতি: বাংলাদেশের নতুন প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ইতিহাসের পাতায় তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচ: ফুটবল বিশ্বকাপের ১০০০তম লড়াই ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা উত্তরের ৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে : ডা. শফিকুর রহমান স্পেনের ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন এলোয় রুম: কুরাসাও গোলরক্ষকের বিশ্বরেকর্ড ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে জাকার্তা টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত উখ্যাইংওয়ংয়ের সাম্বা সাম্বা সাম্বা, ফিরে এল সাম্বা নৃত্য ২১ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ড্রাগন-মাল্টার বাগান গড়ে সফল প্রবাসফেরত সাদেক ২১ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় কারাবন্দি এক ম্যাজিস্ট্রেট যশোরে জাপার ২৫ নেতার পদত্যাগ বগুড়ার প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা তদন্তের সময় বাড়ল চারদিন

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা তদন্তের সময় বাড়ল চারদিন
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনাটি তদন্তে চারদিন সময় বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এই সময়সীমা বাড়িয়েছেন। 

তদন্ত কমিটির প্রধান ও নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন জানান, ইতিমধ্যে ২৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে যে খুদে বার্তার ওপর ভিত্তি করে ক্রিকেটার নাঈমকে পুলিশ তল্লাশি করেছিল, সেটি যে বা যে সংস্থা থেকে এসেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। মূলত এই কারণে তদন্তের স্বার্থে আরও চার কার্যদিবস বাড়তি সময় চাওয়া হয়। পুলিশ কমিশনার তা মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে সিএমপি কমিশনার কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছিলেন। এই সময়সীমা গত ১৮ জুন শেষ হয়। তদন্ত কমিটি আরও চারদিন সময় চাওয়ায় তদন্তের সময় আরও চারদিন অর্থাৎ ২২ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কমিটিকে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। 

উল্লেখ্য ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান নাঈম। এরপর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বহদ্দারহাটের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ১১টার দিকে অটোরিকশাটি লালখান বাজার এলাকায় এলে ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য গাড়ি থামিয়ে চালকের কাগজপত্র কেড়ে নেয়। 

পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। একপর্যায়ে নাঈমকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানেও তাকে হেনস্তা করা হয়। পরে বিসিবি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম। এ ঘটনায় এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরদিন ১৩ জুন রাতে খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া গ্রেপ্তার করা হয় পুলিশের সোর্স সোহেল হোসেন সরকারকে। তাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দামপাড়া পুলিশ লাইনসে হামলা এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় পুলিশের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালতের নির্দেশে সোহেল বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। পাশাপাশি নাঈমকে হেনস্তার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

এসএন/

দিনাজপুরে পুরাতন বইয়ের বাজারে মন্দা, কমেছে পাঠক

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
দিনাজপুরে পুরাতন বইয়ের বাজারে মন্দা, কমেছে পাঠক
দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনের সড়কের ভ্যানের উপর পুরাতন বইয়ের দোকান/ছবি: খবরের কাগজ

একসময় শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী ও বইপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর থাকত দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ কোর্টের সামনের সড়কের পুরাতন বইয়ের বাজার। কম দামে প্রয়োজনীয় বই সংগ্রহের জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় জমাতেন দোকানগুলোতে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন পাল্টে গেছে।

পাঠাভ্যাস কমে যাওয়া, অনলাইনে বই ও পিডিএফের সহজলভ্যতা এবং শিক্ষাক্রমে পরিবর্তনের কারণে দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে পুরাতন বইয়ের বাজার এমনটাই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ফলে জীবিকার সংকটে পড়েছেন এ পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা।

দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ কোর্টের সামনের সড়কে ৩৫টি পুরাতন বইয়ের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে পাঠ্যবই, সাহিত্য, ধর্মীয়, আইন, উপন্যাস, ইতিহাস ও চাকরির প্রস্তুতিমূলক এবং বিভিন্ন রেফারেন্স বই বিক্রি করা হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির উদ্যোগ, পুরাতন বইয়ের বাজারকে সুশৃঙ্খল করা এবং বইমুখী সংস্কৃতি গড়ে তোলা গেলে এ খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। অন্যথায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই পুরাতন বইয়ের বাজার এক সময় হারিয়ে যাবে।

পুরাতন বই বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, একসময় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় থাকতো এই বাজারে। শিক্ষার্থীরা নতুন বইয়ের পাশাপাশি পুরাতন বই কিনত। এখন মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেটের কারণে অনেকেই বই পড়তে চায় না। আগের মতো বিক্রি নেই। সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।

আরেক বিক্রেতা মঞ্জু মিয়া বলেন, আগে প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী পুরাতন বই কিনতে আসত। কিন্তু এখন পাঠ্যবইয়ের সিলেবাস পরিবর্তন হওয়ায় আগের বছরের বইয়ের চাহিদা কমে গেছে। নতুন সংস্করণ বের হলে পুরাতন বই অনেক সময় বিক্রিই করা যায় না। এতে আমাদের লোকসান গুনতে হয়।

দিনাজপুর সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী রায়হান কবির বলেন, আমি কয়েকটি বই কিনতে এসেছি। এখানে নতুন বইয়ের তুলনায় অনেক কম দামে বই পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বেশ উপকারী।

কলেজছাত্রী তানিয়া আক্তার বলেন, রেফারেন্স ও সাহিত্যবিষয়ক অনেক বই এখানে সহজে পাওয়া যায়। তবে আগের তুলনায় দোকানগুলোতে মানুষের উপস্থিতি কম দেখছি। বই পড়ার আগ্রহ বাড়ানো গেলে এ বাজার আবার প্রাণ ফিরে পাবে।

দিনাজপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক আকরাম হোসেন বাবলু বলেন, বই মানুষের জ্ঞান ও মননের বিকাশ ঘটায়। তাই ডিজিটাল যুগেও বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাহলে পুরাতন বইয়ের বাজারের হারানো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে এবং এ পেশার সঙ্গে জড়িত শতাধিক মানুষের জীবিকাও সুরক্ষিত হবে।

সুলতান/আমান

কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক উল্টে চালক ও সহকারী নিহত

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৫ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক উল্টে চালক ও সহকারী নিহত
কুষ্টিয়া বাইপাস সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়া পাথর বোঝাই ট্রাক; এ সময় ধোঁয়া উড়তে থাকা দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় উৎসুক জনতা। । ছবি: খবরের কাগজ

কুষ্টিয়ার বাইপাস সড়কে পাথরবোঝাই ট্রাক উল্টে খাদে পড়ে চালক ও তার সহকারী নিহত হয়েছেন।

রবিবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া বাইপাস সড়কের ত্রিমহনী এবং বটতৈলের মাঝামাঝি এলাকায় এই দূর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ট্রাক চালকের নাম আনিচুর রহমান আনিস। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। তবে চালকের সহকারীর নাম পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলি জানান, সোনা মসজিদ এলাকা থেকে পাথরবোঝাই করে ট্রাকটি খুলনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ট্রাকটি কুষ্টিয়া বাইপাস সড়ক এলাকায় পৌছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কালভার্টের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাকটিতে আগুন ধরে যায়।

পরে ফায়ার সার্ভিস ট্রাকের আগুন নেভায় এবং চালক আনিসের মরদেহ উদ্ধার করে। চালকের সহকারী পাথরের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় থাকায় তার মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিস।

মিলন উল্লাহ/আজহার/

রংপুরে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম
রংপুরে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে ধাপ জেল রোড এলাকার আরজি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশের ভবনের নিচতলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (২০ জুন)  দুপুরে রংপুর মহানগর ডিবি কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে একটি রুমে অবস্থানরত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, রংপুর মহানগর কোতয়ালী থানার তাওরাত আকরাম, সাতগাড়া এলাকার বাধন মিয়া, ধাপ মোহাম্মদপুর এলাকার সাহেব আলী, বদরগঞ্জের তালুক দামোদরপুর এলাকার আতিকুর রহমান, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের তেলীপাড়া এলাকার হাফিজ আল মামুন ও আশরাফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের একটি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে তথ্য পাওয়া যায়। অভিযানে ১৫টি স্বাক্ষরিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ৮টি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক, ৩টি জাতীয় পরিচয়পত্র, ৪টি মূল সার্টিফিকেট এবং ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি সাপ্লাই ও ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। চক্রটি প্রার্থীদের কাছ থেকে স্ট্যাম্প, চেক ও অর্থ সংগ্রহ করে প্রতারণা করে বলে জানা গেছে।

তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সেলিম/আমান

দোকানের তালা ভেঙে ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশি বিয়ার জব্দ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
দোকানের তালা ভেঙে ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশি বিয়ার জব্দ
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ রাখা ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশি বিয়ার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। 

তবে এ ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত আমির হামজা প্রকাশ মিলন (৩২) পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (২০ জুন) রাত ১১ টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টেকনাফ বিশেষ জোনের সহকারী পরিচালক কাজী দিদারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টেকনাফ বিশেষ জোন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২০ জুন) টেকনাফ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পানবাজার এলাকায় টেকনাফ-কক্সবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত হাজী আব্দুল করিম মার্কেটের ‘এস এস মোবাইল মিডিয়া অ্যান্ড ডিজিটাল স্টুডিও’ নামের একটি দোকানের পেছনের অংশে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে দোকানটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় দোকানের মেঝেতে রাখা ২০টি কার্টনের মধ্যে প্রতি কার্টনে ৭২ ক্যান হিসেবে মোট ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশে উৎপাদিত ‘হান্টার ৫%’ বিয়ার জব্দ করা হয়।

তবে অভিযুক্ত আমির হামজা প্রকাশ মিলন ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টেকনাফ বিশেষ জোনের সহকারী পরিচালক কাজী দিদারুল আলম বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদকের অবৈধ উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রির বিরুদ্ধে তাদের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, দোকানটির মালিক সেবক পালের কাছ থেকে উপ-ভাড়া নিয়ে আমির হামজা প্রকাশ মিলন দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধভাবে বিয়ার সংরক্ষণ ও ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মো. শাহীন/অন্তরা/

টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত উখ্যাইংওয়ংয়ের

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত উখ্যাইংওয়ংয়ের
ছবি: খবরের কাগজ

বান্দরবানের দুর্গম এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থী উখ্যাইংওয়ং মারমা। তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু চরম দারিদ্র্য তার উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভর্তি ও প্রাথমিক খরচের জন্য এখন তার জরুরি আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

জানা গেছে, উখ্যাইংওয়ং মারমা বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম চান্দা হেডম্যানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সীমিত আয়ের পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিক্ষার্থী ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। জীবনের অনেকটা সময় তিনি সরকারি শিশু সদনে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও তিনি কখনো শিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন থেকে সরে যাননি।

উখ্যাইংওয়ং জানান, ২০২৩ সালে ফরহাদাবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৬১ অর্জন করেন। পরে ২০২৫ সালে হাটহাজারী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ধারাবাহিক এই সাফল্যের ফল হিসেবে তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধাতালিকায় ৩৫৩৯তম স্থান অর্জন করেন ও বিবিএ (মার্কেটিং) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি, আবাসন, যাতায়াতসহ প্রাথমিক খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকার প্রয়োজন তার। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এখনো তিনি ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেননি।

কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উখ্যাইংওয়ং। তিনি বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজের মেধা আর পরিশ্রমের ওপর ভর করে এতদূর এসেছি। কিন্তু এখন অর্থের অভাবে যদি ভর্তি হতে না পারি, তাহলে শুধু আমার নয়, আমার বাবা-মায়েরও বহুদিনের স্বপ্ন ভেঙে যাবে। আমি চাই পড়াশোনা করে সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করতে।’
 
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, উখ্যাইংওয়ং মারমার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। সামান্য আর্থিক সহায়তা একটি মেধাবী তরুণের জীবন বদলে দিতে পারে ও তাকে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।

উখ্যাইংওয়ং মারমা তার ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, দাতা সংস্থা ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা না হলে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থমকে যেতে পারে।

মেধা ও ইচ্ছাশক্তি থাকা সত্ত্বেও যেন অর্থের অভাবে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ হারিয়ে না যায়- এমনটাই প্রত্যাশা তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।