তোমরা জানো কি, পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেরই একটি করে জাতীয় পশু থাকে? এই জাতীয় পশু সেই দেশের সাহস, ইতিহাস, প্রকৃতি আর সংস্কৃতির প্রতীক। আজ আমরা এক দারুণ ভ্রমণে বের হব, আর জানব কোন দেশের জাতীয় পশু কী এবং কেন!
শুরু করি আমাদের প্রিয় নদীমাতৃক বাংলাদেশ থেকে। আমাদের দেশের জাতীয় পশু হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে রাজত্ব করা এই বাঘ শুধু শক্তিশালীই নয়, দেখতেও দারুণ সুন্দর।
এরপর যাই প্রতিবেশী দেশ ভারতে। ভারতের জাতীয় পশুও বাঘ। সাহস আর গর্বের প্রতীক হিসেবে ভারতবর্ষে এই বাঘের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। উঁচু পাহাড়ে ঘেরা শান্তিপূর্ণ হিমালয় কন্যা নেপাল গরুকে তাদের জাতীয় পশু হিসেবে বেছে নিয়েছে। নেপালিরা মনে করে, গরু শান্তি, পবিত্রতা আর মমতার প্রতীক। সবুজে ঘেরা দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার জাতীয় পশু হলো সিংহ। সাহস, শক্তি আর নেতৃত্বের প্রতীক এই প্রাণীটিকে তারা এতই শ্রদ্ধা করে যে, তাদের জাতীয় পতাকায়ও সিংহের ছবি রয়েছে।
এবার পা রাখি প্রাচীন সভ্যতার দেশ চীনে। তাদের জাতীয় পশু হলো পান্ডা। সাদা-কালো রঙের, গোলগাল, শান্ত স্বভাবের এই মজার প্রাণী কচি বাঁশ খেতে খুব ভালোবাসে। চেরি ফুলের দেশ জাপানের জাতীয় পশু হলো রঙিন ডানার গ্রিন ফেজ্যান্ট পাখি। সৌন্দর্য, শান্তি আর সুগঠিত প্রকৃতির প্রতীক হিসেবে জাপানিরা এই পাখিকে অনেক ভালোবাসে। অন্যদিকে, পর্বতঘেরা দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পশু বাঘ। কোরিয়ানরা বিশ্বাস করে, পাহাড়ে পাহাড়ে এই বাঘ পাহারাদার হয়ে ঘোরে।
দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পশু হলো ক্যাঙ্গারু। এর পেটের থলেতে ছোট্ট ছানা থাকে আর এক লাফেই এটি অনেক দূর চলে যেতে পারে। এবার যাই তুষারে ঢাকা শান্তশিষ্ট কানাডায়। তাদের জাতীয় পশু হলো বিভার। এটা একটা ছোট প্রাণী, যে কঠোর পরিশ্রমে ছোট ছোট বাঁধ তৈরি করে। বিভার যেন বলে দেয়, পরিশ্রমেই সাফল্য! অন্যদিকে আমেরিকার জাতীয় পশু হলো বল্ড ঈগল। এর বড় ডানা আর তীক্ষ্ণ চোখ সাহস আর স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে গর্বের জায়গা করে নিয়েছে।
ইউরোপের দেশ স্কটল্যান্ড তাদের জাতীয় পশু হিসেবে বেছে নিয়েছে ইউনিকর্নকে। এটা এক ধরনের কাল্পনিক ঘোড়া যার কপালে একটি লম্বা শিং আছে। বরফে মোড়া রাশিয়ার জাতীয় পশু হলো ভালুক। শক্তি, ধৈর্য আর আত্মবিশ্বাসের প্রতীক এই প্রাণীকে রাশিয়ানরা নিজেদের মতোই গম্ভীর আর দৃঢ় মনে করে।
তপ্ত মরুভূমি আর সাভান্নার দেশ আফ্রিকান কেনিয়া ও বতসোয়ানায় জাতীয় পশু হিসেবে দেখা যায় হাতিকে। শুধু আকারেই নয়, স্মার্টনেস আর স্মৃতিশক্তিতেও হাতি চ্যাম্পিয়ন।
মেক্সিকোর জাতীয় পশু হলো গোল্ডেন ঈগল। এই বিশাল পাখিটি তাদের জাতীয় পতাকাতেও স্থান করে নিয়েছে।
সব শেষে চলে যাই ব্রাজিলে। ওদের জাতীয় পশু হলো জাগুয়ার-এক ধরনের দ্রুতগামী শিকারি প্রাণী, যে গাছে চড়তে পারে, আবার পানিতে সাঁতার কাটে।
প্রতিটি প্রাণী তার দেশের গুণ, চরিত্র আর কল্পনার এক অনন্য প্রতীক। তোমরাও যদি এমন কোনো প্রাণী বেছে নিতে চাও, যে তোমাদের ভালো লাগা, বিশ্বাস আর স্বপ্নকে তুলে ধরবে, তাহলে সেটা কোন প্রাণী হবে?