বাঁশঝাড়ের মাথায় ছোট্ট একটা বাড়িতে থাকে ‘টুনি’ নামের একটা পাখি। টুনি খুব চটপটে আর তার কৌতূহলও অনেক। সে সারা দিন ফুড়ুত ফুড়ুত করে উড়ে বেড়ায় আর সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে।
হেমন্তকাল আসতেই গ্রামের চেহারাটা কেমন যেন বদলে গেল। বাতাসে ভেসে আসতে লাগল একটা মিষ্টি ঘ্রাণ। টুনি এমন ঘ্রাণ আগে কখনো পায়নি। সে দেখল, মাঠের সোনালি ধান বাতাসে দুলছে। কৃষকরা দলবেঁধে ধান কাটছে আর মনের সুখে গান গাইছে।
টুনি কিছুই বুঝতে পারল না। সে উড়ে গিয়ে বসল একটা তালগাছের মাথায়। সেখানে এক জ্ঞানী কাক বসে বসে ঝিমাচ্ছে। টুনি জিজ্ঞেস করল, ‘কাক মামা, ও কাক মামা, গ্রামে এসব কী হচ্ছে গো? সবাই এত খুশি কেন?’
কাক চোখ খুলে বলল, ‘ওহ, তুই জানিস না? এটা তো নবান্ন উৎসব। নতুন ধান কাটার উৎসব।’
টুনি অবাক হয়ে মাথা কাত করল, ‘নবান্ন! সেটা আবার কী?’
কাক হেসে বলল, ‘নিজের চোখেই দেখ না, তাহলেই বুঝবি।’
কাকের কথা শুনে টুনির কৌতূহল আরও বেড়ে গেল। সে ফুড়ুত করে উড়ে চলল গ্রামের দিকে। দেখল, কৃষকরা ধানের বোঝা মাথায় করে বাড়ি ফিরছে। তাদের মুখে হাসি।
এক বাড়ির উঠানে গিয়ে টুনি দেখল, একদল নারী উঠানে বসে নতুন ধান ঝাড়াই-মাড়াই করছে। আর একটু দূরেই শোনা যাচ্ছে ‘ধুপ-ধুপ-ধুপ’ শব্দ।
টুনি সামনে গিয়ে দেখল, ঢেঁকিতে নতুন ধান ভানা হচ্ছে। নতুন চালের গুঁড়া তৈরি হচ্ছে। সেই চালের গুঁড়ার গন্ধেই বাতাস ম-ম করছে।
সন্ধ্যা নামতেই টুনি দেখতে পেল আসল মজা। গ্রামের প্রায় সব বাড়িতে পিঠা বানানোর ধুম পড়েছে। টুনি একটা বাড়ির রান্নাঘরে জানালা দিয়ে উঁকি দিল। দেখল, পাটিসাপটা আর নারকেলের পুর দেওয়া পুলিপিঠা বানানো হচ্ছে। পায়েসের ঘ্রাণে টুনির ছোট্ট পেটটা চুঁচুঁ করে উঠল।
ওই বাড়ির ছোট্ট মেয়েটা টুনিকে দেখতে পেয়েছে। সে মায়ের কাছ থেকে একটা ছোট্ট পিঠা নিয়ে জানালার পাশে রেখে দিল। ইশারা করে টুনিকে খেতে বলল।
টুনি প্রথমে একটু ভয় পেলেও, মেয়েটার ভালোবাসা দেখে উড়ে এসে পিঠার গায়ে ছোট্ট একটা ঠোকর দিল। আহা! কী তার স্বাদ। নতুন চাল আর গুড়ের এমন মিষ্টি স্বাদ সে জীবনেও পায়নি।
সেদিন রাতে টুনি এক বুক আনন্দ নিয়ে বাসায় ফিরল। পরদিন সকালে সে তার সব বন্ধুদের ডেকে খুব গর্বের সঙ্গে তার নবান্ন দেখার গল্প শোনাল। নবান্নের গল্প শুনে টুনির বন্ধুরাও খুব খুশি।