তোমরা কি কখনো এমন কোনো পাখি দেখেছ, যার লেজ যেন রূপকথার রাজপুত্রের চুলের মতো লম্বা আর ঝলমলে? যদি না দেখে থাকো, তাহলে আজ তোমাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি এক দারুণ সুন্দর পাখির সঙ্গে- ইন্ডিয়ান প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচার! বাংলায় একে কেউ কেউ আদর করে বলে শাহ বুলবুল।
পাখিটি দেখলে প্রথমেই চোখে পড়বে তার লম্বা, সাদা রঙের লেজ। লেজ এতটাই লম্বা যে মনে হয়, পাখিটা আকাশে উড়তে উড়তে নিজের লেজকে দোলনা বানিয়ে ফেলেছে! তবে মজার কথা হলো- সব প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচারের লেজ কিন্তু একরকম নয়। ছেলেপাখির লেজ বেশি লম্বা হয়, আর মেয়েপাখির লেজ তুলনামূলক ছোট।
ইন্ডিয়ান প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচার সাধারণত সাদা রঙের হয়। তবে মাথা কালচে, চোখ চকচকে। আর চোখের চারপাশে নীলচে একটা রিং থাকে- মনে হয় যেন সে বিশেষ চশমা পরে আছে!
এই পাখির প্রিয় খাবার কি জানো? পোকামাকড়! মশা, মাছি, ছোট পোকা- সবই তার প্রিয়। সে গাছের ডালে বসে থাকে আর হঠাৎ করে ‘ফুসস!’ করে উড়ে গিয়ে পোকা ধরে ফেলে। তাই ওর নামের শেষে আছে ‘ফ্ল্যাইক্যাচার’, মানে মাছি ধরা পাখি।
সে খুবই চালাক আর চঞ্চল। এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকে না। সারাক্ষণ লাফালাফি, ডানা ঝাপটানো আর এদিক-ওদিক উড়ে বেড়ানো- ঠিক যেন দুষ্টু কোনো বাচ্চা!
ইন্ডিয়ান প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচার সাধারণত গভীর বন, বাগান আর গ্রামের আশপাশে থাকতে ভালোবাসে। বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক জায়গায় এদের দেখা যায়, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে। বর্ষা এলেই তারা বাসা বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। চিকন ডাল আর শুকনো ঘাস দিয়ে তারা সুন্দর ছোট্ট বাসা বানায়- একেবারে কারিগরের মতো!
এই পাখি শুধু সুন্দরই নয়, আমাদের খুব উপকারও করে। পোকামাকড় খেয়ে সে আমাদের পরিবেশ পরিষ্কার রাখে। তাই যদি কখনো এমন লম্বা লেজওয়ালা পাখি দেখো, তাকে ভয় পেও না। দূর থেকে তাকিয়ে দেখো, আর মনে মনে বলো- ‘আরে! এ তো দেখি রূপকথার পাখি!’