ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’ ‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ঘরেই মিলবে কৃত্রিম দিনের আলো চকরিয়া থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু রাজশাহীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না: গোলাম পরওয়ার শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও পরিবারকে সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করলেন ব্রাজিল সমর্থক সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে তারেক রহমান আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয় ১০ জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হচ্ছে রবিবার মানুষকে রোগ সম্পর্কে সচেতন করছে তথ্যপ্রযুক্তি তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রাখবে: মির্জা ফখরুল গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণ জরুরি‎ আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালককে গণপিটুনি রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল সৌদি কারাগারে মৃত্যু, ২৮ দিন পর দেশে মরদেহ ইতিহাস গড়ার পথে হন্ডুরাসের রেফারি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র মরক্কো ‘আন্ডারডগ’ নয়, ট্রফি জিততেই মাঠে নামবে: ওয়াহবি তামাকের বিকল্প হিসেবে মলোখিয়া ব্যবহার করছেন গাজার ধূমপায়ীরা চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬: চাকরিপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস জনআকাঙ্ক্ষার বাজেট এবং নানামুখী চ্যালেঞ্জ হাছন রাজাকে উৎসর্গ করে প্রাণ বন্ধের সনে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, পুলিশের এক সোর্স আটক রমেকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক-স্বজনদের হাতাহাতি গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
Nagad desktop

Dangers of Smoking বিষয়ক Paragraph Writing নিয়ে আলোচনা, ১ম পর্ব এইচএসসি পরীক্ষার ইংরেজি ২য় পত্র

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
Dangers of Smoking বিষয়ক Paragraph Writing নিয়ে আলোচনা, ১ম পর্ব এইচএসসি পরীক্ষার ইংরেজি ২য় পত্র
শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার পর প্রশ্ন নিয়ে গ্রুপ ডিসকাশন করছে। ছবি- সংগৃহীত

Paragraph Writing

Dangers of Smoking

It is generally considered that smoking is a dangerous habit. But more than 80% people of our country are in the habit of smoking. Our young generation is getting addicted to smoking without knowing the damages it caused. It causes many fatal diseases like cancer, chronic bronchitis, heart attack and some other respiratory diseases. One puff of cigarette smoke contains fifteen billion particles of injurious matter, nicotine is one of them. It prevents the free flow of blood through of the veins. This reduces the supply of oxygen in the body. It damages our lungs. It also harms the nerves, damages the brain and sometimes spoils the character. People addicted to smoking also pollute the environment and the air. Besides, it causes irritation in the eye, offends the nose and unsettles the mind. Smoking is so dangerous that the stench of cigarette is repulsive to a non-smoker. Moreover, it wastes a lot of money. So all of us, irrespective of caste and creed age and religion should launch a massive campaign against smoking. The government should impose high taxation related to the factory of cigarette and its producer. They should be socially avoided either in the case of employment, merriment or even in the marriage. The people should be aware of their religious ethics and social values through campaign so that they cannot encourage themselves to smoking.

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা

কবীর

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র
বন্যায় বাংলাদেশের অনেক অঞ্চল ডুবে গেছে। ছবি- সংগৃহীত

প্রবন্ধ রচনা : বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ

ভূমিকা : ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
            সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি।’

কবির এই অমর বাণী কখনো কখনো মিথ্যা মনে হয়। যখন নানা প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ সর্বগ্রাসী শক্তি নিয়ে আমাদের ওপর চেপে বসে, তখন নিজেদের বড় অসহায় মনে হয়। সবুজ-শ্যামলে, হরিতে-হিরণে সুন্দর একটি দেশ–বাংলাদেশ এই পৃথিবীর মানচিত্রে  স্থান করে নিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, লাল-সবুজের দেশটি সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের লীলভূমি হিসেবে আখ্যায়িত। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপ্রবণ দেশ। বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এই দেশটি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, ভূমিকম্প এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই দুর্যোগগুলো জনজীবন, কৃষি, অবকাঠামো এবং অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগের তীব্রতা বেড়েছে। তবে আধুনিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম গ্রহণ করার ফলে ক্ষয়ক্ষতি কমেছে। সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও সক্ষম হতে পারে।

বাংলাদেশের অবস্থান এবং দুর্যোগ:  বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি সমতল ও নিম্নভূমি দেশ, যা বঙ্গোপসাগরের উত্তরে অবস্থিত। এর ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপ্রবণ করেছে। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে এবং বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি থাকায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের শিকার হতে হয়। পদ্মা, মেঘনা, যমুনার মতো বড় নদীগুলো বন্যা ও নদীভাঙন সৃষ্টি করে। জলবায়ু পরিবর্তন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এ দেশে দুর্যোগের তীব্রতা বেড়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলো লবণাক্ততার সমস্যায় ভুগছে। এই অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়। তবে সরকার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টায় দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসচেতনতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

দুর্যোগ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ: দুর্যোগের সংজ্ঞা নির্দেশ করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানান, Disaster is an event, natural or man made, that seriously disrupts the normal functions of the civil society, thereby causing material and human losses of such severity that the affected community has to respond by taking exceptional measures nationally and internationally. মোট কথা, প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট যেসব ঘটনা মানুষের স্বাভাবিক জীবনধারাকে ব্যাহত করে, মানুষের সম্পদ ও পরিবেশের এমনভাবে ক্ষতিসাধন করে যার ফলে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যতিক্রমধর্মী প্রচেষ্টার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হয়, তা-ই দুর্যোগ। আর প্রাকৃতিক কারণে যেসব দুর্যোগ সংঘটিত হয় সেগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যেমন- বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, নদীভাঙন, খরা, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততা সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এগুলো দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, যখন বন্যা ও নদীভাঙন নিম্নাঞ্চলকে ধ্বংস করে। ভূমিকম্প শহরাঞ্চলে ঝুঁকি সৃষ্টি করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই দুর্যোগগুলোর তীব্রতা বাড়ছে। তবে আধুনিক প্রযুক্তি, পূর্বাভাস ব্যবস্থা এবং আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির কারণে ক্ষয়ক্ষতি কমেছে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলো দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে। জনসচেতনতা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুর্যোগের প্রভাব কমানো সম্ভব। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা অপরিহার্য।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ : পরিবেশ দূষণে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর বহু দেশে সৃষ্টি হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ প্রাকৃতিক দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের  কারণে হতে পারে। তবে বেশির ভাগ পরিবর্তন হচ্ছে মনুষ্য সৃষ্ট। বিশেষজ্ঞরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী শিল্পোন্নত দেশগুলো। এদের  ভোগবিলাসিতা ও যন্ত্রনির্ভরশীলতার জন্য পৃথিবীতে গ্রিন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এসব দেশের কলকারখানা ও গাড়ি থেকে অতিমাত্রায় কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের ফলে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রা, তাতে মেরু অঞ্চল ও বিভিন্ন পর্বতে জমে থাকা বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। সমুদ্র ও নদীর পানির স্রোত ও ঢেউ বাড়ছে ফলে নদী ও সমুদ্রের উপকূলে ভাঙনের হারও বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের বেশির ভাগ নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। পলি জমে বেশকিছু নদী দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। দেশের প্রধান নদীগুলো বিভিন্ন স্থানে এসে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার মাধ্যমে হিমালয় থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশের নদীগুলোতে পানি এলেও এগুলোর স্রোতধারা অনেকটা কমে গেছে। ব্রহ্মপুত্রের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পদ্মার বুকেও বিভিন্ন স্থানে চর পড়ে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফারাক্কার প্রভাবে গত তিন দশকে বাংলাদেশের ৮০টি নদীর ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। এক সময়ের খরস্রোতা নদী হিসেবে পরিচিত দেশের ১৭টি নদী মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। আরও আটটি নদী মৃতপ্রায়। এসব নদী ড্রেজিং করে সচল করারও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে বর্ষাকালে নদীর উপচে পড়া পানি প্লাবিত করে ফসলের মাঠ, জনবসতি। প্রতি বছরই বন্যা এ দেশের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন উজাড় করাও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আরেকটি কারণ। প্রত্যেক দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল যেখানে থাকা প্রয়োজন সেখানে বাংলাদেশে সরকারি হিসাবে মাত্র ১৬ ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের নাম: বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো–ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, খরা, লবণাক্ততা, কালবৈশাখী, টর্নেডো, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ, শিলাবৃষ্টি, ঘন কুয়াশা, বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, ভূমিধস এবং তুষারপাত। এই দুর্যোগগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন তীব্রতায় আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় অঞ্চলে, বন্যা ও নদীভাঙন নিম্নাঞ্চলে এবং ভূমিকম্প শহরাঞ্চলে বেশি প্রভাব ফেলে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই দুর্যোগের তীব্রতা বাড়ছে। তবে, প্রতিটি দুর্যোগের জন্য অনেক দেশের পৃথক মোকাবিলা কৌশল রয়েছে। পূর্বাভাস, প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক। জনসচেতনতা ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ দুর্যোগের প্রভাব কমাতে পারে। 

(বাকি অংশ ২য় পর্বে প্রকাশ করা হবে)

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

কবীর

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র
শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের লেকচার শুনছে ও নোট করছে। ছবি- খবরের কাগজ

নাটক : সিরাজউদ্‌দৌলা 

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: ‘উমিচাঁদ এ যুগের সেরা বিশ্বাসঘাতক’- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ‘সিরাজউদ্‌দৌলা’ নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্যে ক্লাইভ তাকে এ যুগের সেরা বিশ্বাসঘাতক বলেছিলেন, কারণ উমিচাঁদ অর্থের মোহে অন্ধ হয়ে যেকোনো ধরনের প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের কাজ করতে পারেন।
উমিচাঁদ অর্থ উপার্জনের জন্য লাহোর থেকে বাংলায় এসেছিল। তার ছিল অর্থের প্রতি সীমাহীন লোভ। অর্থের মোহে পড়ে তিনি যেকোনো কাজ করে দিতে পারতেন। তার চরিত্রে নীতি-নৈতিকতার বালাই ছিল না। অর্থের লোভে তিনি নবাবকে ছেড়ে ইংরেজদের পক্ষে যোগ দিয়েছেন, আবার যদি নবাবের কাছ থেকে বেশি অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা দেখা দেয়, তবে তিনি ইংরেজদের ত্যাগ করে নবাবের পক্ষে চলে যেতে দ্বিধা করবেন না। এসব দিক বিবেচনায় ক্লাইভ উমিচাঁদকে এ যুগের সেরা বিশ্বাসঘাতক বলে অভিহিত করেছেন।

প্রশ্ন: ‘শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়’- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ‘সিরাজউদ্‌দৌলা’ নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্যে মীর জাফর ষড়যন্ত্রের দলিলে স্বাক্ষর করা প্রসঙ্গে এ কথা বলেছিলেন। 
নবাব সিরাজউদ্‌দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য তার সিপাহসালার মীর জাফর ও কোম্পানির প্রতিনিধিরা মিরনের বাসগৃহে একত্রিত হয়েছিলেন। যুদ্ধে ক্লাইভ বিজয়ী হলে কে কতটা ভাগ পাবেন, তা নিয়ে দলিল তৈরি করেছিলেন তারা। কিন্তু দলিলে সই করতে গিয়ে চক্রান্তকারীরা তর্কে জড়িয়ে পড়েন। 
তখন বিলম্ব না করে দলিলে সই করার মাধ্যমে নিজ স্বার্থকে পাকাপোক্ত করার জন্য মীর জাফর আলোচ্য উক্তিটি করেন। ‘ক্লাইভের গর্দভ’ বলে কুখ্যাত মীর জাফর বুঝতেই পারেননি বাংলাকে তারা চিরতরে ব্রিটিশ শক্তির কাছে বিক্রি করে দিচ্ছিলেন।

আরো পড়ুন : সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র

প্রশ্ন:  ‘আপনারা ইচ্ছা করলে আমাদের ক্ষতি করতে পারেন।’- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ‘সিরাজউদ্‌দৌলা’ নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্যে ক্লাইভের এ উক্তিতে নবাব সিরাজের অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটেছে।
মিরনের বাড়িতে ষড়যন্ত্র সভায় ক্লাইভ নারীর ছদ্মবেশে আসেন। জগৎশেঠ ও রাজবল্লভ ক্লাইভের দুঃসাহস দেখে অবাক হন এবং জানান নবাব যদি জানতে পারেন ক্লাইভ এখানে তবে আর উপায় থাকবে না। বিচক্ষণ ক্লাইভ স্পষ্ট জবাব দেন, নবাবের কোনো শক্তি নেই। যার চারপাশে সবাই বেইমান তিনি কী করে ক্লাইভের ক্ষতি করবেন বা শাস্তি দেবেন। বেইমান হিসেবে বরং ওরাই ক্লাইভের ক্ষতি করতে পারেন। বেইমান চিরকাল বেইমান, ক্লাইভ তা জানতেন। 

প্রশ্ন: ‘সবাই মিলে সত্যিই আমরা বাংলাকে বিক্রি করে দিচ্ছি না তো?’-ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ‘সিরাজউদ্‌দৌলা’ নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্যে ক্লাইভের ষড়যন্ত্রের দলিলে স্বাক্ষর দিতে গিয়ে মীর জাফর নিজের মনের শঙ্কা প্রকাশ করে এ কথা বলেছিলেন, যা ক্ষণিক বিবেক জাগরণের মতো ব্যাপার ছিল।
নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মেলান মীর জাফরসহ নবাবের পরিষদবর্গের প্রায় সবাই। ষড়যন্ত্রের জন্য নিজেদের মধ্যে সমঝোতার দলিল তৈরি করেন ক্লাইভ। ক্লাইভ এ দলিলে সই করতে বললে মীর জাফর ক্ষণিকের জন্য উদ্বিগ্ন হন। তার মনে হয়, নিজেদের স্বার্থের জন্য দেশের চূড়ান্ত ক্ষতি সাধন করছেন না তো তারা? দেশটা যেন বেনিয়াদের হাতে বিক্রি হয়ে গেল। আসলে লোভী, অদূরদর্শী মীর জাফর ক্ষণিকের জন্য বিবেক দ্বারা তাড়িত হলেও তা ছিল অর্থহীন।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা

কবীর

প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১২টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১২টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
পাইথন ভাষা আবিষ্কার করেন গিডো ভান রসাম। প্রতীকী ছবি- সংগৃহীত

পঞ্চম অধ্যায় : প্রোগ্রামিং ভাষা

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

৬৮. ANSI-এর পূর্ণরূপ কী?
ক. American National Standards Institute 
খ. American National Standards Interchange 
গ. American National Security Institute 
ঘ. American Nations Security Institute

৬৯. ভালো সংগঠনের প্রোগ্রামগুলো কোন সময়ের নিয়ম মেনে চলে?
ক. প্রচলিত     খ. আগের 
গ. ভবিষ্যৎ     ঘ. অদূর ভবিষ্যতের

৭০. ভালো সংগঠনের প্রোগ্রামগুলোর বৈশিষ্ট্য-
i. প্রচলিত নিয়ম মেনে চলে
ii. প্রোগ্রামের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সহজ সম্পর্ক থাকে
iii. প্রোগ্রামের গতি প্রবাহ সুনির্দিষ্ট থাকে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii      খ. i. ও iii 
গ. ii. ও iii     ঘ. i, ii ও iii

৭১. পাইথন ভাষা আবিষ্কার করেন কে বা কারা?
ক. জন স্ট্রাউস্ট্রপ              খ. গিডো ভান রসাম
গ. আইবিএম কোম্পানি     ঘ. মাইক্রোসফট কোম্পানি

৭২. কি-ওয়ার্ড কেন ব্যবহৃত হয়?
ক. এটা কিছু সংরক্ষিত শব্দ, যা প্রোগ্রাম করার সময় ব্যবহার করা হয় 
খ. একগুচ্ছ ক্যারেক্টার নিয়ে গঠিত 
গ. কনস্ট্যান্ট সংখ্যা নিয়ে কাজ করে 
ঘ. স্ট্রাকচার নিয়ে কাজ করে

৭৩. ফ্লোচার্টে বৃত্ত দিয়ে কী বোঝায়?
ক. শুরু          খ. দিক 
গ. সংযোগ     ঘ. ইনপুট

আরো পড়ুন : প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

৭৪. সব টেস্ট কেসের জন্য প্রোগ্রাম রান করলে প্রোগ্রামকে কী করা হয়?
ক. পুনরায় কোডিং     খ. সিলিজ 
গ. ডিবাগ                   ঘ. ডিলিট

৭৫. কে বা কারা ফোরট্রান আবিষ্কার করেন?
ক. জন স্ট্রাউস্ট্রপ              খ. গিডো ভান রসাম 
গ. আইবিএম কোম্পানি     ঘ. মাইক্রোসফট কোম্পানি

৭৬. প্রোগ্রাম লেখার আগে- 
i. চিন্তা করতে হয়     
ii. ধাপগুলো লিখতে হয় 
iii. চিত্ররূপ দিতে হয় 
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii       খ. i. ও iii 
গ. ii. ও iii     ঘ. i, ii ও iii

৭৭. কোন স্টেটমেন্টের সাহায্যে ফলাফল প্রদর্শন করা হয়?
ক. আউটপুট স্টেটমেন্ট     খ. লুপিং স্টেটমেন্ট 
গ. ইনপুট স্টেটমেন্ট          ঘ. কন্ট্রোল স্টেটমেন্ট

৭৮. উচ্চ স্তরের ভাষায় প্রোগ্রাম-
i. লেখা সহজ 
ii. পড়া সহজ 
iii. সময়সাপেক্ষ 
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii      খ. i. ও iii 
গ. ii. ও iii     ঘ. i, ii ও iii

৭৯. একটি প্রোগ্রামের বিভিন্ন অংশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে কী বলে?
ক. প্রোগ্রামের সংগঠন           খ. প্রোগ্রামের ফ্লোচার্ট 
গ. প্রোগ্রামের অ্যালগরিদম     ঘ. প্রোগ্রামের সুডোকোড

উত্তর: ৬৮. ক, ৬৯. ক, ৭০. ঘ, ৭১. খ, ৭২. ক, ৭৩. গ, ৭৪. খ, ৭৫. গ, ৭৬. ঘ, ৭৭. ক, ৭৮. ক, ৭৯. ক।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

কবীর

রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। প্রতীকী ছবি- সংগৃহীত

পাঠ-৮ : রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার

অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: খালি জায়গায় নিচের শব্দগুলো বসাও।

প্রখর, রাজকীয়, ভারসাম্য, বিপন্ন, নখর, ক্ষিপ্র, নির্দিষ্ট

ক. বাঘটি …. গতিতে দৌড়ে শিকার ধরল।
খ. শিকার ধরার সময়ে বাঘের থাবা থেকে বেরিয়ে আসে ….।
গ. মেয়েটির স্মরণশক্তি …..।
ঘ. বাঘটি …. ভঙ্গিমায় বসে আছে।
ঙ. সুন্দরবন ধ্বংস হতে থাকলে বাঘের জীবন …. হবে।
চ. কাজটি…. সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।
ছ. পরিবেশের বিপর্যয়ের কারণে প্রকৃতির ….. নষ্ট হচ্ছে।

উত্তর: ক. বাঘটি ক্ষিপ্র গতিতে দৌড়ে শিকার ধরল।
খ. শিকার ধরার সময়ে বাঘের থাবা থেকে বেরিয়ে আসে নখর
গ. মেয়েটির স্মরণশক্তি প্রখর
ঘ. বাঘটি রাজকীয় ভঙ্গিমায় বসে আছে।
ঙ. সুন্দরবন ধ্বংস হতে থাকলে বাঘের জীবন বিপন্ন হবে।
চ. কাজটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।
ছ. পরিবেশের বিপর্যয়ের কারণে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের জাতীয় পশুর নাম কী?

উত্তর: বাংলাদেশের জাতীয় পশুর নাম হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।

লেখক : সহকারী শিক্ষক
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বসুন্ধরা, ঢাকা

কবীর

বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র
শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের লেকচার শুনছে ও নোট করছে। ছবি- সংগৃহীত


সপ্তম অধ্যায় : বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম

নমুনা প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: ব্র্যাকের কার্যক্রমে সমাজকর্ম পদ্ধতির অনুশীলন সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ।

উত্তর: ব্র্যাক হচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এনজিও। গ্রামীণ দরিদ্রদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্র্যাক প্রচেষ্টা চালায়। ব্র্যাকের গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে পল্লী উন্নয়ন, পল্লী ঋণদান, স্বাস্থ্যসেবা, প্রাথমিক শিক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গবেষণা ও মূল্যায়ন অন্যতম। এসব কার্যক্রম বা কর্মসূচিতে সমাজকর্ম পদ্ধতির অনুশীলনের যথেষ্ট সুযোগ বিদ্যমান। নিম্নে পদ্ধতিভিত্তিক অনুশীলন ব্যবস্থা আলোচনা করা হলো-
১. ব্যক্তি সমাজকর্ম ও ব্র্যাকের কার্যক্রম: ব্যক্তি সমাজকর্ম এমন এক সাহায্যকারী প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তির ভূমিকা পালন ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যক্তিগত সামর্থ্যের উন্নয়ন ও বিকাশ সাধন করা হয়। অন্যদিকে ব্র্যাকের উদ্দেশ্য হলো দরিদ্রদের আত্ম সাহায্যে উদ্বুদ্ধ করা, সচেতনতা সৃষ্টিকারী প্রশিক্ষণ দান, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, আর্থসামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি। এ ধরনের উদ্দেশ্য সাধনে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রক্রিয়া বিশেষ করে সমস্যা নিরূপণ ও হস্তক্ষেপ ব্যবস্থা খুবই ফলপ্রসূ হবে। এ ছাড়া ব্যক্তিভিত্তিক উদ্বুদ্ধকরণেও ব্যক্তি সমাজকর্মীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। 
২. দল সমাজকর্ম: প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা বিস্তারে পদক্ষেপ, বেকারত্ব, দূরীকরণ, পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ, আয় বৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে ব্র্যাক দল সমাজকর্ম পদ্ধতি অনুশীলন করে থাকে। এ ছাড়া কৃষি ও মৎস্য চাষ উন্নয়ন প্রকল্প, খামার উন্নয়ন কর্মসূচি, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি, চিত্তবিনোদনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম, গ্রন্থাগার স্থাপন ও পরিচালনা কর্মসূচি, ব্র্যাক চিকিৎসা কেন্দ্র, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে ব্র্যাক সমাজকর্মের দল সমাজকর্ম পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। 
৩. সমষ্টি সমাজকর্ম: ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সমষ্টি সমাজকর্মের প্রয়োগ দেখা যায়। অ্যাসিড এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্র্যাকের সামাজিক আন্দোলনের একটি উদাহরণ। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সমবায়, দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে ব্র্যাককে কখনো কখনো সমষ্টি সমাজকর্মের অনুশীলন করতে দেখা যায়। 

আরো পড়ুন : সমাজকর্মের মূল্যবোধ ও নীতিমালা অধ্যায়ের ১৭টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ১ম পত্র

৪. সমাজকল্যাণ প্রশাসন: ব্র্যাক সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন সময় যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করে সেগুলো বিশ্লেষণ করলে সমাজকর্মের এ পদ্ধতির প্রয়োগ দেখা যায়। স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমাজকল্যাণমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ব্র্যাক কার্যকরভাবে সেবা দিয়ে থাকে। 
৫. সমাজকর্ম গবেষণা: মানসম্মত নীতি প্রণয়ন, সমস্যা বিশ্লেষণ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর সেবার জন্য ব্র্যাক সুপরিচিত। এক্ষেত্রে কার্যকরী নীতি প্রণয়ন ও সমস্যা সমাধানের বাস্তবতা নির্ভর রূপকল্প নীতি বাস্তবায়নে সামাজিক গবেষণার অনুশীলন লক্ষ করা যায়। 
৬. সামাজিক কার্যক্রম: ব্র্যাক জনগোষ্ঠীর আত্মসচেতনতা সৃষ্টি, বঞ্চিত, দুস্থ, প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও উন্নয়ন চেতনা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অপুষ্টি দূরীকরণ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, জেন্ডার সমতা, কুটির শিল্পের উন্নয়ন প্রভৃতি কার্যক্রমে সামাজিক কার্যক্রম পদ্ধতির অনুশীলন লক্ষ করা যায়।

লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ 
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা

কবীর