প্রথম অধ্যায় : সমাজকর্ম : প্রকৃতি ও পরিধি
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর-২
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ।
জনাব সুমন ইসলাম একজন পেশাদার কর্মী। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ পেশাদারত্ব গড়ে ওঠে। সামাজিক সমস্যা, সমাজ সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন, সামাজিক দায়িত্ব, কর্তব্য সচেতনতা ইত্যাদি সৃষ্টিতে এ পেশার জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে এ পেশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে।
(ক) NASW-এর পূর্ণরূপ কী?
(খ) সমাজকর্ম প্রশাসন বলতে কী বোঝায়?
(গ) উদ্দীপকে কোন পেশা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রয়োজনীয়তা ছাড়া সমাজকর্ম শিক্ষার আরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে-মতামত দাও।
উত্তর: (ক) NASW -এর পূর্ণরূপ হলো National Association of Social Workers.
(খ) সামাজিক নীতিতে সমাজসেবায় রূপান্তরের একটি প্রক্রিয়ার নাম সমাজকর্ম প্রশাসন। যার মাধ্যমে অভিজ্ঞতার আলোকে সামাজিক নীতির মূল্যায়ন ও সংশোধন করা হয়। সামাজিক প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সি সংগঠিত ও পরিচালিত করার মাধ্যমে যা সুসম্পন্ন হয়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মের জ্ঞান, মূল্যবোধ ও নীতির পূর্ণ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
(গ) ওপরের উদ্দীপকে সমাজকর্ম পেশা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
সমাজকর্ম হলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর এমন একটি সাহায্যকারী পেশা, যা সমাজে বসবাসরত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির বিভিন্ন সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান ও উন্নয়নে সহায়তা করে। সমাজকর্মে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও মাঠকর্ম শিক্ষার সমন্বয়ে পেশাদারত্ব সৃষ্টি হয়। সমাজকর্ম হলো সামাজিক সমস্যা সমাধানে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও পদ্ধতিনির্ভর সেবাকর্ম। তাই সমস্যা সমাধান করতে সমাজকর্মে সমাজের সাথে সম্পর্কিত সবকিছু যেমন- সমাজ কাঠামো, সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। এ ছাড়াও সামাজিক বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণের ফলে সমাজকর্মে শিক্ষা অর্জন করলে ব্যক্তিকে সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য সচেতনতা সৃষ্টি হয়।
তাই বলা যায়, সামাজিক সমস্যা, সমাজ সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন, সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য সচেতনতা সৃষ্টি মূলত সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
(ঘ) ওপরের উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রয়োজনীয়তা ছাড়া সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরও বহু ক্ষেত্র রয়েছে।
প্রথমত, আমাদের পার্থিব জীবনের অসীম চাহিদা মেটানোর জন্য সসীম সম্পদের সদ্ব্যবহার শিক্ষার জন্য সমাজকর্ম শিক্ষা গ্রহণ করা আবশ্যক। কেননা সামাজিক সমস্যার মৌলিক কারণ হলো অভাব তথা প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে সম্পদের ঘাটতি। আর সমস্যার সমাধানে সমাজকর্মের উদ্ভব।
দ্বিতীয়ত, সমাজকর্ম সমাজের দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষকে এমনভাবে সহায়তা করে যাতে তারা আত্মনির্ভরশীল হয়। তাই আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে সমাজকর্মের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তৃতীয়ত, সামাজিক সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া সমাজের সার্বিক কল্যাণ সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম সাম্য ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সমাজকর্মের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
চতুর্থত, সমাজে বিদ্যমান নানা কুসংস্কার, কুপ্রথা ও অবিশ্বাস পরিবর্তন করে সমাজকর্ম সমাজে সংস্কার ঘটায়। তাই সামাজিক সংস্কার আনয়নে সমাজকর্মের শিক্ষা প্রয়োজন।
পঞ্চমত, সামাজিক সমস্যার সমাধান ও প্রতিরোধে সমাজকর্মের শিক্ষা প্রয়োজন। কেননা সমাজকর্ম সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং অবস্থার উন্নয়ন ঘটায়।
ষষ্ঠত, আধুনিক জটিল সমাজব্যবস্থায় সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন আবশ্যকীয় বিষয়। আর এক্ষেত্রে সমাজকর্মের শিক্ষার কোনো ব্যতিক্রম হয় না।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও সমাজকর্ম শিক্ষার বহু প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র রয়েছে।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
কবীর