দীর্ঘ ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশের চলচ্চিত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে পরিচিত ‘সেন্সর বোর্ড’ এখন ‘সার্টিফিকেশন বোর্ড’ হয়েছে। গতকাল সোমবার ছিল এই বোর্ড মেম্বারদের প্রথম সভা। বোর্ডের অন্যতম সদস্য নির্মাতা, অভিনেতা ও প্রযোজক খিজির হায়াত খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রথম দিন তারা ‘ভয়াল’ ও ‘রাজকুমারী’ নামে দুটি সিনেমা দেখেন।
খিজির হায়াত খান গণমাধ্যমে বলেন, ‘যে কাজটি আমরা শুরু করতে যাচ্ছি তা অত্যন্ত কঠিন। একটু সময় লাগবে বিধিগুলো সংস্কার করে চলচ্চিত্রবান্ধব করতে। চলচ্চিত্রে অবশ্যই পরিবর্তন আসবে। আপাতত সিনেমা হলে যেন চলচ্চিত্রগুলো নিয়মিত মুক্তি পেতে পারে, সেদিকে নজর দিচ্ছি আমরা।’
এই বোর্ডের দেখা ছবিগুলো মুক্তির জন্য গ্রেডিং ফরম্যাটের সার্টিফিকেট পাবে নাকি সেন্সর বোর্ডের মতো ছাড়পত্র পাবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে খিজির হায়াত খান বলেন, ‘দেখুন এই প্রশ্ন নিয়ে আমরাও নিজেদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আলাপ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা ছবি দুটি আজ দেখি। এরপর সবাই বসে আলাপ করে বিষয়টি নিয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসব। এটা তো সত্যি, বিষয়টা আমাদের জন্য জটিল একটা পরীক্ষার মতো। কারণ বোর্ডের নাম বদল হয়েছে ঠিকই, বিধিগুলো তো রয়ে গেছে পুরোনো। ফলে আমাদের অনেক বিষয়ে ভাবতে হচ্ছে নতুন করে। আশা করছি, সবাই মিলে একটা পথ বের করতে পারব। দরকার একটু সময়ের।’ চলচ্চিত্রকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চলচ্চিত্র ‘সার্টিফিকেশন বোর্ড’ নামকরণ করে গত ২২ সেপ্টেম্বর এ সম্পর্কিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
ব্রিটিশদের তৈরি ১৯১৮ সালের সিনেমাটোগ্রাফ অ্যাক্ট ১৯৫২ সালে পরিবর্তিত হয়ে ‘ইস্ট বেঙ্গল বোর্ড অব ফিল্ম সেন্সর’ নামকরণ হয়। নানা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, মানচিত্রের বদল ঘটলেও বিগত ৭২ বছরে চলচ্চিত্রকে শাসনের রীতি বদলায়নি। ২০২৪ সালে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে বিগত সরকারের পদক্ষেপটির বাস্তবায়ন ঘটে। তুলে নেওয়া হয় ‘সেন্সর’ শব্দটি।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ১৫ সদস্যবিশিষ্ট চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানকে বোর্ডের সদস্যসচিব করা হয়েছে।
বোর্ডের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে রয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব; প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র); জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার প্রতিনিধি; বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক; বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি; ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গবেষক ড. জাকির হোসেন রাজু; চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক রফিকুল আনোয়ার রাসেল; চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, পরিবেশক, লেখক ও সংগঠক জাহিদ হোসেন; চলচ্চিত্র সম্পাদক ইকবাল এহসানুল কবির; চলচ্চিত্র পরিচালক খিজির হায়াত খান; চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নওশাবা আহমেদ এবং চলচ্চিত্র পরিচালক তাসমিয়া আফরিন মৌ।
জাহ্নবী