অস্কারজয়ী সুরকার, শিল্পী ও সংগীত পরিচালক এ আর রহমান। ভারত উপমহাদেশের সংগীতে তার অবদান অনস্বীকার্য। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যিনি সুরের জাদুতে মোহিত করেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের শ্রোতাদের। তবে এবার নিজের জীবনের সুর হারিয়ে ফেললেন তিনি। গানের ছন্দ, সুর তাল, লয় ঠিক থাকলেও জীবনের তাল কেটে গেছে তার। স্ত্রী সায়রা বানুর সঙ্গে ২৯ বছরের সংসার জীবনের ইতি টেনেছেন এ সুরস্রস্টার।
গতকাল রাতে সায়রা বানুর আইনজীবী বন্দনা শাহের বরাতে ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ তিক্ততা এই বিচ্ছেদের কারণ উল্লেখ করে আইনজীবীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘বিয়ের অনেক বছর পর মিসেস সায়রা ও তার স্বামী মিস্টার এ আর রহমান একে অপরের থেকে আলাদা হওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের সম্পর্কের মধ্যে চলা মানসিক চাপের পরে এই সিদ্ধান্তটি আসে। একে অপরের প্রতি গভীর ভালোবাসা সত্ত্বেও এই দম্পতি দেখেছেন যে, উত্তেজনা এবং অসুবিধাগুলি তাদের মধ্যে একটি দূরত্ব তৈরি করেছে; যা কোনও পক্ষই পূরণ করতে সক্ষম বলে মনে করেন না।’
প্রিয় সংগীতজ্ঞের এমন বিচ্ছেদের ঘটনায় স্তম্ভিত ভক্ত-শ্রোতারা। নেট দুনিয়ায় চলছে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা। এ আর রহমান নিজেও আক্ষেপ করে একটি পোস্ট দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম ৩০তম বছরে অন্তত পৌঁছতে পারব। কিন্তু এই শেষটা আমরা কল্পনাতেও আগে দেখিনি।’
যদিও তারা দুজনেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে তা মোটেও সহজ ছিল না। অনেকদিন ভেবে চিন্তেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আরও বলেছেন, ‘হৃদয় ভাঙার ভারে ঈশ্বরের আসন পর্যন্ত আজ কেঁপে উঠতে পারে। যদিও এই দুঃখের মাঝেও আমরা জীবনের অর্থ খোঁজার চেষ্টা করছি। হয়তো ভেঙে যাওয়া অংশগুলো আর কখনওই আগের মতো জোড়া লাগবে না।’
পোস্টের শেষে এ আর রহমান আপনজনদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের উদারতার জন্য এবং এই ভঙ্গুর অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে চলার সময় আমাদের গোপনীয়তাকে সম্মান করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’
সায়রা বানুকে নিজের ছেলের জন্য ঠিক করেছিলেন এ আর রহমানের মা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি তখন কাজে এতই ব্যস্ত ছিলেন যে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখার সময়ই পেতেন না। এরপর ১৯৯৫ সালে মায়ের পছন্দের সায়রাকেই বিয়ে করেন তিনি । এ আর রহমান ও সায়রার তিনটি সন্তান রয়েছে- খতিজা, রহিমা এবং আমীন রহমান।
বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এ আর রহমান পুত্র আমীন বলেন, ‘আমরা সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যে, এই সময়ে আমাদের গোপনীয়তাকে সম্মান করুন। বিষয়টি বুঝতে পারার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। ’
হাসান