শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদ থেকে আকস্মিক অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ। গতকাল শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির ‘মুনীর চৌধুরী প্রথম জাতীয় নাট্যোৎসব’ এর সমাপনী আয়োজনে সভাপতির বক্তব্য দিতে এসে তিনি এই ঘোষণা দেন।
জামিল আহমেদ বলেন, ‘আমি ৯ সেপ্টেম্বর শিল্পকলার ডিজি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। অনেক স্বপ্ন ছিল আমার শিল্পকলা নিয়ে। দেশের সবশ্রেণির মানুষকে শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে সেভাবে সহযোগিতা আসেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে “আদিবাসী” শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না। আমি এটা মানবো না। আমি সরে যাচ্ছি। আমি চাই আদিবাসীদের অধিকার ও সম্মান অক্ষুণ্ন থাকুক।’
তিনি দাবি করেন, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছিলেন না, তাই তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিল্পকলার বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রায়ই নানা গড়িমসি করা হয়েছে এবং শিল্পকলার বিকাশে প্রয়োজনীয় বরাদ্দও দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সৈয়দ জামিল আরও জানান, উপদেষ্টাদের অসহযোগিতা, শিল্পকলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসহযোগিতা এবং দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে তিনি কাজ করতে পারছিলেন না, যা তার পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বক্তব্য শেষে তিনি সংস্কৃতি সচিবের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দিয়ে নিজের দায়িত্বের ইস্তফা দেন ।তবে মহাপরিচালকের পদত্যাগপত্র শিল্পকলার সচিবের গ্রহণের এখতিয়ার নেই। শিল্পকলার সচিব মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকের সামনে বলেন, ‘শিল্পকলার সচিব হিসেবে এটি (পদত্যাগপত্র) শুধু হাতে নিয়েছি। কিন্তু শিল্পকলা একাডেমির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি।’
এই সময়ে সৈয়দ জামিল আহমেদকে নাট্যকর্মীরা শান্ত করার প্রয়াস চালিয়ে যেতে থাকেন। তখন অনুজপ্রতিম নাট্যকর্মী ও নিজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, ‘কেবল ৪টি শর্তে আমি শিল্পকলায় থাকতে রাজি। এক-সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দিতে হবে যে তারা শিল্পকলা একাডেমিতে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। এ প্রতিষ্ঠানেক স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা কাজ করতে দেবেন।
আমরা আইনগত সমস্যায় পড়লে অবশ্যই তাদের পরামর্শ নেব। দুই-সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। তিন-শিল্পকলা একাডেমিতে কোনো ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা রাখা যাবে না। চার-আদিবাসী শব্দ বলার অধিকার দিতে হবে।’
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর শিল্পকলার মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন জামিল আহমেদ। তাকে দুই বছরের জন্য এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সাড়ে পাঁচ মাস পর পদ ছাড়লেন তিনি।
কলি