টলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় জুটি দেব-শুভশ্রী। তবে মাঝে প্রায় এক দশক দুজনকে একসঙ্গে কোন ছবিতে দেখা যায়নি। সর্বশেষ দেব-শুভশ্রী জুটি কাজ করেছে ‘ধূমকেতু’ ছবিতে। দীর্ঘদিন প্রতিক্ষার পর অবশেষে ছবিটি মুক্তি পেতে চলেছে। সেই উপলক্ষে গতকাল সোমবার ৪ আগস্ট দক্ষিণ কলকাতার নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ছবির বিশেষ প্রচার ও ঝলক মুক্তির অনুষ্ঠান।
সেখানেই প্রায় এক দশক পর একসঙ্গে হাজির হন টলিউডের জনপ্রিয় দেব-শুভশ্রী জুটি। তাদের দেখতে সেই অডিটোরিয়ামে তাদের শত শত অনুরাগীও উপস্থিত ছিলেন।
এদিন সকাল থেকেই নজরুল মঞ্চের বাইরে ছিল উপচে পড়া ভিড়। প্রেক্ষাগৃহের দরজা খুলতেই মুহূর্তে ভরে ওঠে দর্শকে। দেব ও শুভশ্রী আলাদাভাবে প্রবেশ করলেও মঞ্চে তারা হাজির হন একসঙ্গে, যা দেখে উত্তেজনায় ফেটে পড়ে গোটা অডিটোরিয়াম। চারিদিকে শুধুই চিৎকার, হাততালি আর ক্যামেরার ঝলক।
অনুষ্ঠানে গান, খুনসুটি, স্মৃতি রোমন্থনের পাশাপাশি ‘ধূমকেতু’ নিয়ে হয় নানা আলোচনা। ঠিক তখনই ছবির অন্যতম প্রযোজক রানা সরকার দর্শকের সারি থেকে চিৎকার করে দেবকে প্রশ্ন করেন- ‘বাকি সব থাক, বল তো ‘ধূমকেতু’র পর আবার কবে তোমরা দু’জনে বড়পর্দায় একসঙ্গে ফিরছ?’
প্রশ্ন শুনে হেসে ওঠেন দেব। তারপর গম্ভীর কণ্ঠে জবাব দেন, ‘অবশ্যই আমরা আবার একসঙ্গে কাজ করতে পারি। তবে তার জন্য দরকার উপযুক্ত চিত্রনাট্য, চরিত্রগুলোর মধ্যে আমাদের মতো করে মজা থাকতে হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আমরা আবার ফিরব একসঙ্গে।’
এই কথার মাঝেই পাশে দাঁড়ানো শুভশ্রী বলেন, ‘চলো কৌশিক গাঙ্গুলীকে জিজ্ঞেস করা যাক, কবে আবার দেব-শুভশ্রী জুটিকে নিয়ে ছবি করবেন।’
জবাবে দেব মজা করে বলেন, ‘ধুর! কৌশিকদা আমাদের নিয়ে ছবি করবেন নাকি! উনি তো সব ছবি প্রসেনজিৎ, জয়া আহসানদের দিয়েই বানান!’ দেবের এই কথায় গোটা অডিটোরিয়ামে হাসির রোল পড়ে যায়।
এরপর ‘ধূমকেতু’র ঝলক মুক্তির আগে প্রযোজনা সংস্থার সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানান দেব। একে একে ডেকে নেন নিজের এবং শুভশ্রীর ব্যক্তিগত টিমের সদস্যদের। নিজের এবং শুভশ্রীর পাশে মঞ্চে ডেকে নিলেন প্রযোজক এবং ছবির অন্যান্য শিল্পীদেরও।
সবাই সেই ডাকে সাড়া দিয়ে মঞ্চে উঠতেই দেব বলে ওঠেন, ‘ব্যাস! ঠিক আছে। এবার একটা ফ্যামিলি ফটো হয়ে যাক!’
এই অনুষ্ঠানটি একটি সিনেমার মুক্তির প্রচারের থেকেও ছিল বেশি কিছু। এর মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর আবারও ভক্ত-অনুরাগীদের সামনে হাজির হন দেব ও শুভশ্রী। লম্বা বিরতির পর এবার তাদের রুপালি পর্দায় দেখার অপেক্ষা ফুরানোর পালা।
/এমএস