গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত পাঁচ বছর বয়সী শিশু হিন্দ রজবের মর্মস্পর্শী ঘটনা নিয়ে নির্মিত ডকুড্রামা ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’। এ বছরের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে এটি ‘সিলভার লায়ন’ পুরস্কার জিতেছে, যা চলচ্চিত্র উৎসবটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মানজনক পুরস্কার।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন ফরাসি-তিউনিসীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা কুসারু বিন হানিয়া। তার আগে উৎসবে ছবিটি প্রদর্শনের পরই বিরল এক ঘটনার জন্ম দেয়। উৎসবে ছবিটি দেখে উপস্থিত দর্শকেরা টানা ২৩ মিনিট দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে সম্মান জানান।
পুরস্কার গ্রহণ করতে গিয়ে নির্মাতা কুসারু বিন হানিয়া বলেন, ‘হিন্দ রজবের গল্প শুধু একটি শিশুর নয়। এটি একটি জাতির গণবিধ্বংসের দলিল। সিনেমাটি তাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তবে তার কণ্ঠ বাঁচিয়ে রাখতে পারবে চিরকাল। যতদিন না প্রকৃত জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, ততদিন তার কণ্ঠ সীমানা পেরিয়ে বিশ্বে প্রতিধ্বনিত হতে থাকবে।’
২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় মারা যায় হিন্দ রজব নামে পাঁচ বছর বয়সী এই শিশু। হামলার সময় সে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে একটি গাড়িতে ছিল। বেঁচে থাকা একমাত্র সদস্য হিসেবে রজব রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাহায্য চাইলে, সেই ফোনকলের অডিও রেকর্ডিংও চলচ্চিত্রে সংযুক্ত করা হয়।
শিশুটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মৃত স্বজনদের পাশে বসে সাহায্যের আশায় অপেক্ষা করছিল। পরে দুজন উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে শিশুটি মারা যায় এবং ওই দুই স্বেচ্ছাসেবকও নিহত হন। সেই হৃদয়বিদারক ঘটনাটিই ছবিটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
ইতোমধ্যে ছবিটির জন্য অস্কারেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ খুলেছে। তিউনিসিয়া থেকে এরই মাঝে এটি সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে মনোনয়নের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে। পরিচালক বেন হানিয়ার আগের দুটি ছবি ‘ফোর ডটার্স’ ও ‘দ্য ম্যান হু সোল্ড হিজ স্কিন’-ও অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছিল।
আর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবকে অস্কারের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এই উৎসবটিতে ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ এর এমন সম্মাননা অর্জন অস্কারে ভালো একটি সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/এমএস