সামিয়া আফরিন দেশের গুণী একজন উপস্থাপিকা, মডেল, অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা। সামিয়া আফরিন নিজেও একটা সময় কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু তার ধৈর্য, তার সাহস এবং তার আশপাশের মানুষগুলো সবসময় তার পাশে থেকে তাকে সাহস দেওয়ায় আজ তিনি ক্যানসার বিজয়ী একজন মানুষ। অনেকের কাছেই সামিয়া আফরিন এখন অনুপ্রেরণার।
গত শনিবার রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে অনুষ্ঠিত তিশকান আয়োজিত ‘পিংক আফটারনুন: ব্রেস্ট ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড ওয়েলনেস’ ইভেন্টে একজন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামিয়া আফরিন।
মূলত সামিয়া আফরিন সুষম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন। উপস্থিত সবাই সামিয়া আফরিনের কথা ভীষণ মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এই ইভেন্টে ব্রেস্ট ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের গুরুত্ব তুলে ধরতে মেডিকেল, করপোরেট এবং ওয়েলনেস কমিউনিটির প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন। এ ছাড়া, সার্টিফায়েড ইনস্ট্রাক্টর জিন আয়ান একটি জুম্বা সেশন পরিচালনা করেছেন।
আলোচনা পর্বে (ল্যাবএইড) সার্জন ডা. সিফাত তানজিলা ব্রেস্ট ক্যানসারের লক্ষণ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিযয়েছেন এবং উর্মি গ্রুপের পরিচালক ও ব্রেস্ট ক্যানসার সারভাইভার শামারুখ ফখরুদ্দিন তার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। পাশাপাশি উদ্যোক্তা ও টিভি উপস্থাপিকা সামিয়া আফরিন সুষম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন।
তিশক্যান-এর প্রতিষ্ঠাতা নুজহাত তারান্নুম বলেন, ‘মূলত ব্রেস্ট ক্যানসার নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করা, প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে উৎসাহিত করা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার ভিত্তিতে সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে পিংক আফটারনুন আয়োজন করা হয়। আশা করি, সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমাদের ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়ে যাবেন।’
এ ইভেন্টে তিশক্যান-এর ফান্ডরাইসিং ইভেন্ট পিঙ্ক কার্নিভ্যাল থেকে অর্জিত পুরো অর্থ একজন ব্রেস্ট ক্যানসার রোগীকে তার চিকিৎসার জন্য দান করা হয়। ব্রেস্ট ক্যানসার মোকাবিলায় এই লড়াইয়ে সবাইকে পাশে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় তিশক্যান।
উল্লেখ্য, টিভি উপস্থাপনার পাশাপাশি নাটকেও অভিনয় করেছেন সামিয়া। ইমরাউল রাফাতের ‘পাপপুণ্য’, মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের ‘ধুলোর মানুষ’, ‘মানুষের ঘ্রাণ’ এবং রাজিবুল ইসলামের ‘ব্লাফমাস্টার’ ছাড়াও বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।
/এমএস