দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয় থালাপতি জীবনের প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত করেছেন। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে) ১০৭ আসনে জয় লাভ করেছে। নিজেও পেরাম্বুর ও তিরুচিরাপল্লি (পূর্ব) আসনে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।
প্রথমবার নির্বাচনে নেমেই এমন সাফল্য—প্রশ্ন উঠেছে, কী ছিল বিজয়ের ‘এক্স-ফ্যাক্টর’? বিশ্লেষকদের মতে, এর বড় কারণ তার বিপুল তারকাখ্যাতি। দক্ষিণ ভারতে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা তাকে সাধারণ ভোটারের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মুখে পরিণত করেছে। অনেকেই তাকে রজনীকান্ত-এর পর সবচেয়ে প্রভাবশালী তারকা হিসেবে দেখেন।
তবে শুধু স্টারডম নয়, বিজয়ের নির্বাচনী ইশতেহারও বড় ভূমিকা রেখেছে। নারী ও যুবকদের লক্ষ্য করে দেওয়া নানা প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের সমর্থন তার জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, বাঁশি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে চমক দেখানো বিজয় জানিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনবেন। তার ঘোষণাগুলোর বড় অংশজুড়ে রয়েছে নারী ও যুবকদের জন্য বিশেষ সুবিধা।
ইশতেহার অনুযায়ী, ৬০ বছরের নিচে নারীদের জন্য মাসিক ২,৫০০ রুপি ভাতা, বছরে ছয়টি এলপিজি সিলিন্ডার বিনামূল্যে প্রদান এবং দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সোনা ও শাড়ি উপহার দেওয়ার ঘোষণাও আলোচনায় এসেছে।
শিক্ষা খাতে বিজয়ের পরিকল্পনায় রয়েছে আধুনিক আবাসিক স্কুল স্থাপন, সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা। স্বাস্থ্যখাতে প্রতিটি পরিবারের জন্য ২৫ লাখ রুপি পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
যুবকদের জন্যও রয়েছে একাধিক উদ্যোগ। তার মধ্যে রয়েছে—সরকারি পরীক্ষা সময়মতো নেওয়া, বেকার ভাতা, পাঁচ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি।
এছাড়া কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকারও করেছেন বিজয়।
রাজনীতিতে একেবারেই নতুন হলেও থালাপতি বিজয়-এর এই ঘোষণাগুলো তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তার এই ‘ম্যাজিক’ কতটা বাস্তবায়িত হয়।
/এস লুপিন