‘দ্য ফাস্ট অ্যান্ড দ্য ফিউরিয়াস’ মুক্তির ২৫ বছর পূর্ণ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার কান উৎসবে ছিল সিনেমার মিডনাইট স্ক্রিনিং। প্রদর্শনীতে অংশ নিতে কান উৎসবে হাজির হন ভিন ডিজেল, মিশেল রদ্রিগেজ, জর্ডানা ব্রিউস্টারসহ সিনেমাটির কলাকুশলীরা।
যদিও দ্য ফাস্ট অ্যান্ড দ্য ফিউরিয়াসের ২৫ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে ছিল এই শো, তবে প্রদর্শনীতে প্রধান চরিত্র হয়ে ওঠেন পল ওয়াকার। ২০১৩ সালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এ হলিউড অভিনেতা। ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম কান্ডারি ছিলেন পল। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে প্রতিটি ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস সিনেমায় কোনো না কোনোভাবে পলের চরিত্র ব্রায়ান ও’কনরকে সম্মান জানিয়ে আসছেন ভিন ডিজেল। কানের এই প্রদর্শনীতেও তার ব্যতিক্রম হলো না।
পল ওয়াকারের অকালপ্রয়াণের এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর প্রভাব যে এখনো অম্লান, তা আবারও প্রমাণ হলো কান উৎসবে। এই মিডনাইট স্ক্রিনিংয়ে পলের কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও এবং শুটিং সেটের নেপথ্যের মুহূর্ত দেখানো হয়, যা আগে কখনো জনসমক্ষে আসেনি।
সিনেমা শেষে দর্শকেরা দাঁড়িয়ে যখন চার মিনিট ধরে করতালির মাধ্যমে পলকে সম্মান জানাচ্ছিলেন, তখন সেই আবেগ ছুঁয়ে যায় প্রত্যেককে। ভিন ডিজেল, মিশেল রদ্রিগেজ, জর্ডানা ব্রিউস্টার, মেডো ওয়াকারসহ সবাইকে অশ্রুসিক্ত দেখা যায়। এ প্রদর্শনীতে যোগ দেন পল ওয়াকারের ২৭ বছর বয়সী মেয়ে মেডো ওয়াকার। মেডোর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে পল ওয়াকারের মৃত্যুর এক দশকের বেশি সময় পরও তাঁর পরিবার এবং ‘ফাস্ট’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যকার বন্ধন আজও কতটা অটুট।
এদিকে, উৎসবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইরানি নির্মাতা ও দুইবার অস্কারজয়ী পরিচালক আসগর ফারহাদি। নিজের নতুন চলচ্চিত্র ‘প্যারালেল টেলস’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার পাশাপাশি তিনি ইরানের যুদ্ধ, বিক্ষোভ ও সহিংসতা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন, যা উৎসবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফারহাদি জানান, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সহিংসতার ফলে নিরীহ মানুষের মৃত্যু তিনি গভীরভাবে অনুভব করেন। তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে অনেক নিরীহ মানুষ, শিশু এবং সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। একইভাবে, যুদ্ধের আগেও বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক মানুষ নিহত হয়েছে, যারা প্রত্যেকেই নির্দোষ ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো হত্যাই অপরাধ। কোনো পরিস্থিতিতেই আমি মেনে নিতে পারি না যে একজন মানুষ অন্য মানুষের জীবন কেড়ে নেবে—তা যুদ্ধ হোক, মৃত্যুদণ্ড হোক বা বিক্ষোভকারীদের গণহত্যা হোক। এটি অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও মর্মান্তিক যে আজও আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে প্রতিদিনই কোনো না কোনো নিরীহ মানুষের মৃত্যুর খবর শুনতে হয়।’
আসগর ফারহাদির এই বক্তব্য কানে উপস্থিত সাংবাদিক, সমালোচক ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, তার এই অবস্থান যুদ্ধ ও মানবিক সংকট নিয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
অন্যদিকে, উৎসবে বৃহস্পতিবার রাতে প্রিমিয়ার হওয়া ‘প্যারালেল টেলস’ প্রদর্শনের পর ফারহাদি ও তার ফরাসি তারকাদের জন্য টানা সাড়ে পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে করতালি দেন দর্শকরা। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন ইজাবেল হুপার, ভার্জিনি এফিরা, ভাঁসাঁ ক্যাসেল, অ্যাডাম বেসা, পিয়ের নিনি ও ক্যাথরিন দ্যনুভ।