আজকের দ্রুতগতির জীবনে রাত জাগা যেন অনেকেরই রুটিন হয়ে গেছে। অফিসের ডেডলাইন, পড়াশোনা বা ফ্রিল্যান্সিং- সবকিছু মিলিয়ে অনেকেই রাত জেগে কাজ করেন নিয়মিত। কিন্তু এই অভ্যাস শরীরের মতো ত্বকের ওপরও ফেলে মারাত্মক প্রভাব। তবে কিছু সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে রাত জাগার পরও ত্বককে রাখা সম্ভব সতেজ ও উজ্জ্বল। লিখেছেন তাসকিন
ঘুমের ঘাটতির প্রভাব ত্বকে
ঘুমের সময় শরীরের কোষগুলো নিজেকে পুনর্গঠন করে এবং ত্বকের কোষগুলোও তখনই নতুন কোষে পরিণত হয়। নিয়মিত ঘুম না হলে সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে ত্বকে দেখা দেয় ক্লান্তি, চোখের নিচে কালচে দাগ, শুষ্কতা ও আগাম বয়সের ছাপ। ঘুমের অভাবে কর্টিসল নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ত্বকের কোলাজেন ভেঙে দেয় এবং বলিরেখার আশঙ্কা বাড়ায়।
ঘুম কম, তাই বাড়ান হাইড্রেশন
রাত জাগলে শরীরে পানির ঘাটতি দ্রুত দেখা দেয়, যা ত্বককে শুষ্ক ও নিষ্প্রভ করে তোলে। তাই সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি হাইড্রেটিং স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন- যেমন অ্যালোভেরা জেল, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা ভিটামিন ই সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার। রাত জেগে কাজের সময় চা-কফির বদলে পানিতে বা হারবাল টিতে চুমুক দিতে পারেন, এতে শরীরও সতেজ থাকবে এবং ত্বকও থাকবে আর্দ্র।
.jpg)
নাইট কেয়ার রুটিনে আনুন পরিবর্তন
রাত জাগা দিনগুলোতে স্কিনকেয়ার রুটিনে কিছু বাড়তি যত্ন যোগ করুন-
মেকআপ রিমুভার ও ক্লেনজার ব্যবহার করুন
দিনভর ধুলাবালি, ঘাম ও মেকআপের অবশিষ্টাংশ ত্বকের রোমকূপে জমে যায়। রাত জাগার পর যদি মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার না করেন, তাহলে এই ময়লা ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে, যা থেকে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস বা র্যাশের সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রথম ধাপেই ব্যবহার করুন হালকা মেকআপ রিমুভার বা মাইসেলার ওয়াটার। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী একটি মাইল্ড ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
টোনার ব্যবহার করুন
মুখ পরিষ্কারের পর ত্বক কিছুটা শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। টোনার ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স ফিরিয়ে আনে এবং রোমকূপ সংকুচিত করতে সাহায্য করে। অ্যালকোহলমুক্ত টোনার বেছে নিন। যেমন- গোলাপজল, শসার নির্যাস বা ক্যামোমাইল সমৃদ্ধ টোনার। এটি ত্বককে করে সতেজ ও নরম।
নাইট ক্রিম বা স্লিপিং মাস্ক লাগান
রাতের সময় ত্বকের কোষগুলো নিজেকে পুনর্গঠনের কাজে ব্যস্ত থাকে। তাই ঘুমানোর আগে নাইট ক্রিম বা স্লিপিং মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি। ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা রেটিনল-সমৃদ্ধ ক্রিম ত্বকের কোষ গঠনে সাহায্য করে এবং বলিরেখা ঠেকায়। স্লিপিং মাস্ক ত্বকে গভীর আর্দ্রতা ধরে রাখে, ফলে সকালে মুখে আসে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা।
চোখের নিচে আই ক্রিম ব্যবহার করুন
রাত জাগলে সবচেয়ে দ্রুত ক্লান্তির ছাপ পড়ে চোখের নিচে। ডার্ক সার্কেল, ফোলাভাব বা চোখের নিচের ত্বক নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাই আই ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন যেগুলোতে রয়েছে ক্যাফেইন, অ্যালোভেরা বা ভিটামিন কে। এগুলো চোখের নিচের রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, ফোলাভাব কমায় এবং ক্লান্ত ভাব দূর করে।
লিপ কেয়ার ভুলবেন না
রাত জাগার কারণে ঠোঁটও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে লিপ বাম বা প্রাকৃতিক তেল (যেমন নারকেল বা বাদাম তেল) লাগান। এতে ঠোঁট থাকবে নরম ও আর্দ্র।
সকালে ত্বককে দিন রিফ্রেশিং কেয়ার
রাত জাগার পর সকালে ত্বকে ফোলা ও ক্লান্ত ভাব থাকে। এ অবস্থায় মুখে বরফের টুকরো বা ঠাণ্ডা পানির ছিটা ত্বককে তাৎক্ষণিকভাবে জাগিয়ে তোলে। এরপর হালকা ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সানস্ক্রিন ঘরের মধ্যেও ব্যবহার করা উচিত, কারণ স্ক্রিনের নীল আলোও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন
ত্বকের যত্ন কেবল বাহ্যিক নয়, ভেতর থেকেও যত্ন নিতে হয়। রাত জাগলে শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়, তাই খাদ্যাভ্যাসে রাখতে হবে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- ফল, শাকসবজি, বাদাম, দই, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ ইত্যাদি। চিনি, অতিরিক্ত তেলযুক্ত ও ফাস্টফুড যতটা সম্ভব পরিহার করুন। এগুলো ত্বকের প্রদাহ বাড়ায় এবং ব্রণ বা র্যাশের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
যতটা সম্ভব ঘুম পূরণ করুন
যদিও কাজের চাপের কারণে অনেক সময় তা সম্ভব হয় না, তবুও দিনে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। যদি রাতে কাজ করেন, তাহলে সকালে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিন। ঘুমের অভাব শুধু ত্বক নয়, পুরো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
/রোদসী