ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তাত্ত্বিক গবেষক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক আখতার-উল-আলম: সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও জাতীয় চেতনার অগ্রসেনানী নেইমারকে নিয়ে রহস্য রাখলেন আনচেলত্তি ২৪ জুন: সিঙ্গাপুর ডলার ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে মুনিওজের গোলে নকআউটে কলম্বিয়া রবিনহুডের আশ্রয় নেওয়া ১২০০ বছরের সেই প্রাচীন গাছটি মরে গেছে ১০ হাজার মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি শুভেন্দুর পুতিন-ট্রাম্পের ‘বোঝাপড়া’ বাস্তবায়নে ব্যর্থতায় যুক্তরাষ্ট্রকে দুষছে রাশিয়া স্বর্ণের দাম আবার ভরিতে কমল ৫৪৮২ টাকা জেট বিমানের চেয়েও জোরে চিৎকার! গিনেস রেকর্ড ভাঙলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বিশ্ব সংগীত দিবসে প্রকাশিত হলো নজরুলের গান ‘বরষা ঋতু এলো এলো’ হরমুজে আটকেপড়া ১১ হাজার নাবিককে সরিয়ে নিচ্ছে আইএমও সৌদিতে শুটিংয়ের মাঝেই হলিউড অভিনেতার ইসলাম গ্রহণ দেশজুড়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন ২৮ জুন ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন সিনেটে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প মেসিকে নিয়ে প্রশ্নে নাখোশ রোনালদো, আর্জেন্টিনার ম্যাচ নিয়ে দিলেন বার্তা নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার শেরপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির টহল ঝিনাইদহে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল ইজিবাইকের যাত্রীর অপেক্ষা ফুরোচ্ছে নেইমারের নোয়াখালীতে পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২ বন্ধু নিহত সংসদীয় কমিটি গঠনে বিলম্ব নজরদারি প্রশ্নবিদ্ধ নওগাঁ সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা গ্রুপ এল: যেভাবে নকআউটে যেতে পারে ইংল্যান্ড, ঘানা ও ক্রোয়েশিয়া নকআউটের টিকিট পেতে কার সমীকরণ কেমন? পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যকরণে রপ্তানি বাড়বে ব্রাজিলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চায় স্কটল্যান্ড বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড পাবনায় ১৩ মাসে ৫৯ খুন, ৭১ ধর্ষণ নদীবন্দরে সতর্কতা, দেশের ১৬ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার একটি নিরাময়যোগ্য মানসিক রোগ

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৫, ০৩:০৪ পিএম
একটি নিরাময়যোগ্য মানসিক রোগ
বারবার হাত ধোয়া বা পরিষ্কার করা ওসিডির লক্ষণ। ছবি এআই

অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার বা ওসিডি একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যেখানে একজন ব্যক্তি বারবার অবাঞ্ছিত চিন্তা (অবসেশন) এবং তা দূর করতে বাধ্যতামূলক আচরণ (কম্পালশন) করে থাকেন। এই অবস্থা একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কাজকর্ম ও সামাজিক মেলামেশায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে যথাযথ চিকিৎসা পেলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

ওসিডি কী?
ওসিডি এমন এক মানসিক সমস্যা যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি বারবার অবাঞ্ছিত ভাবনা, ভয় বা সন্দেহে ভোগেন এবং সেই চাপ থেকে মুক্তি পেতে কিছু নির্দিষ্ট কাজ বারবার করেন। যেমন বারবার হাত ধোয়া, জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা, তালা ঠিক আছে কিনা তা বারবার পরীক্ষা করা ইত্যাদি। এই সমস্যা সাধারণভাবে দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) হলেও সময়ের সাথে এর লক্ষণ কখনো বাড়ে, কখনো কমে যায়।
অনেকেই মাঝে মাঝে কিছু বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন বা কিছু বিষয় পুনরায় যাচাই করেন — যেমন চুলা বন্ধ করেছেন কিনা। কিন্তু ওসিডি একধরনের চরম অবস্থা, যেখানে এই দুশ্চিন্তা ও আচরণ দিনের অনেকটা সময় নিয়ে নেয় এবং জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে বিঘ্ন ঘটায়।

ওসিডির লক্ষণ
ওসিডির দুটি প্রধান উপসর্গ হলো —

১. অবসেশন বা অবাঞ্ছিত চিন্তা
এসব চিন্তা অযাচিত, বিরক্তিকর এবং দুশ্চিন্তাজনক। আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতে পারেন এগুলো অস্বাভাবিক, কিন্তু তা সত্ত্বেও থামাতে পারেন না। উদাহরণ —
• জীবাণু বা ময়লা নিয়ে অতিরিক্ত ভয়
• নিজে বা অন্য কাউকে ক্ষতি করার ভয়
• ধর্মীয় বা যৌন বিষয়ে অবাঞ্ছিত চিন্তা
• নিখুঁতভাবে সব কিছু সাজিয়ে রাখার প্রবনতা
• বারবার সন্দেহ করা বা ভুল হবে মনে হওয়া

 

ওসিডি রোগী বারবার তালা, সুইচ বা দরজা পরীক্ষা করেন। ছবি এআই

 

২. কম্পালশন বা বাধ্যতামূলক আচরণ
এই চিন্তাগুলো থেকে মুক্তি পেতে আক্রান্ত ব্যক্তি কিছু কাজ বারবার করে থাকেন। যদিও এসব কাজ তারা করতে চান না, তবুও মনে হয় না করলেই অশুভ কিছু ঘটবে। উদাহরণ —
• বারবার হাত ধোয়া বা পরিষ্কার করা
• তালা, সুইচ বা দরজা বারবার পরীক্ষা করা
• জিনিস নির্দিষ্টভাবে সাজানো
• নির্দিষ্ট সংখ্যা গোনা, কিছু নির্দিষ্ট শব্দ বা দোয়া বারবার বলা
• অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে রাখা (হোর্ডিং)
• জীবাণু আছে এমন জায়গা এড়িয়ে চলা, যেমন: দরজার হাতল

ওসিডির কারণ কী?
ওসিডি কেন হয় তা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি, তবে গবেষণায় কিছু কারণ উঠে এসেছে —
• জেনেটিক বা বংশগত প্রভাব: পরিবারের কারও যদি ওসিডি থাকে, তবে অন্য সদস্যেরও ঝুঁকি বাড়ে।
• মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যপ্রণালী: ওসিডি আক্রান্তদের মস্তিষ্কের কিছু নির্দিষ্ট অংশে পার্থক্য দেখা যায়।
• শৈশবের ট্রমা: শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতা এই রোগের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।
• স্ট্রেপ ইনফেকশন (PANDAS): কিছু শিশুদের ক্ষেত্রে গলা ব্যথা বা স্কারলেট জ্বরের পর হঠাৎ ওসিডি-এর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

ওসিডি কিভাবে শনাক্ত করা হয়?
ওসিডি নির্ণয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা বা স্ক্যান নেই। চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও মানসিক ইতিহাস বিবেচনা করে এই রোগ নির্ধারণ করেন। আমেরিকার “ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকাল ম্যানুয়াল অব মেন্টাল ডিজঅর্ডার (DSM-5)” অনুসারে —
• অবসেশন বা কম্পালশন থাকতে হবে
• এই উপসর্গ দিনে কমপক্ষে এক ঘণ্টা সময় নেয়
• দৈনন্দিন জীবনে বিঘ্ন ঘটায়
• উপসর্গ অন্য রোগ বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়
• উপসর্গ অন্য মানসিক রোগ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না

 

ওসিডি রোগী অবাঞ্ছিত চিন্তা করেন। ছবি এআই

 

ওসিডির চিকিৎসা
ওসিডির সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হলো মনের চিকিৎসা (সাইকোথেরাপি) এবং ওষুধ। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্তভাবে ট্রান্সক্রেনিয়াল ম্যাগনেটিক স্টিমুলেশন (TMS) ব্যবহার করা হয়।

১. সাইকোথেরাপি
কগনিটিভ বিহেভিওর থেরাপি (CBT): নেতিবাচক চিন্তা ও অভ্যাস চিহ্নিত করে তা পরিবর্তনে সহায়তা করে।
এক্সপোজার অ্যান্ড রেসপন্স প্রিভেনশন (ERP): ভয় বা দুশ্চিন্তার উৎসের মুখোমুখি করে আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়।
অ্যাকসেপটেন্স অ্যান্ড কমিটমেন্ট থেরাপি (ACT): চিন্তাগুলোকে মেনে নিয়ে তা নিয়ে না লড়াই করে জীবনে অগ্রসর হতে শেখায়।

২. ওষুধ
ওসিডির চিকিৎসায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসএসআরআই (SSRI) জাতীয় ওষুধ ব্যবহৃত হয়। এসব ওষুধ দুশ্চিন্তা ও অবসেশন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে আছে ফ্লুউক্সেটিন, ফ্লুভক্সামিন, পারোক্সেটিন, সেরট্রালিন ইত্যাদি। এসব ওষুধের কার্যকারিতা দেখা যেতে ৮–১২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

উপসংহার
ওসিডি একটি গুরুতর কিন্তু চিকিৎসাযোগ্য মানসিক সমস্যা। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে আক্রান্ত ব্যক্তি একটি স্বাভাবিক ও অর্থবহ জীবন যাপন করতে পারেন। পরিবার ও সমাজের সচেতনতা ও সহানুভূতিই একজন ওসিডি রোগীর মানসিক সুস্থতার জন্য সবচেয়ে বড় সহায়ক।

সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

রসুনের ১০টি প্রমাণিত উপকারিতা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
রসুনের ১০টি প্রমাণিত উপকারিতা
রসুনে অ্যালিসিন, ডায়ালাইল ডিসালফাইড ও এস-অ্যালাইল সিস্টেইনের মতো যৌগ রয়েছে।

রসুন শুধু রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়ায় না, এটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রসুনে থাকা সালফারজাতীয় যৌগ, বিশেষ করে অ্যালিসিন মানবদেহে নানা উপকারী প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রসুন খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো থেকে শুরু করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করতে পারে। আসুন দেখে নিই, রসুনের ১০টি উপকারিতা–

১. ঔষধিগুণে সমৃদ্ধ
রসুনে অ্যালিসিন, ডায়ালাইল ডিসালফাইড ও এস-অ্যালাইল সিস্টেইনের মতো যৌগ রয়েছে, যা শরীরে নানা ইতিবাচক জৈবিক প্রভাব সৃষ্টি করে।

২. পুষ্টিকর কিন্তু কম ক্যালরিযুক্ত
এক কোয়া রসুনে খুব কম ক্যালরি থাকলেও এতে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম ও খাদ্যআঁশের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

৩. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনের নির্যাস সর্দি-কাশি ও ফ্লুর উপসর্গের তীব্রতা কমাতে এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

৪. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
রসুন রক্তনালি শিথিল করতে এবং রক্তপ্রবাহ সহজ করতে সাহায্য করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ কমতে পারে।

৫. কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে
নিয়মিত রসুন খাওয়া এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে পারে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি হ্রাসে ভূমিকা রাখে।

৬. মস্তিষ্ক সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে
রসুনে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

৭. দীর্ঘায়ুতে সহায়তা করতে পারে
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও সংক্রমণ প্রতিরোধের মাধ্যমে রসুন মানুষের আয়ু বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

৮. শারীরিক কর্মক্ষমতা উন্নত করতে পারে
প্রাচীনকাল থেকেই ক্লান্তি কমাতে রসুন ব্যবহৃত হতো। কিছু গবেষণায় এটি ব্যায়ামজনিত চাপ ও পেশির ক্ষতি কমাতে সহায়ক বলে দেখা গেছে।

৯. ভারী ধাতুর বিষক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে
রসুনে থাকা সালফার যৌগ শরীর থেকে সিসার মতো ক্ষতিকর ভারী ধাতু অপসারণে সহায়তা করতে পারে।

১০. হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে
বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে রসুন অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে হাড়ের ক্ষয় ও অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করতে পারে।

সূত্র: হেলথলাইন

কোমর ব্যথা প্রতিরোধ করা যায়

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
কোমর ব্যথা প্রতিরোধ করা যায়
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোমর ব্যথার মারাত্মক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

কোমর ব্যথা সাধারণ স্বাস্থ্যগত সমস্যা। জীবনে কোনো না কোনো সময় কোমর ব্যথা হয়নি, এমন লোক পাওয়া দুরূহ। স্বল্পমেয়াদি ব্যথা এক মাসের কম সময় এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা এক মাসের বেশি সময় স্থায়ী হয়। উপযুক্ত চিকিৎসা নিলে ৯০ শতাংশ রোগী দুই মাসের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়।


কারণ

দৈহিক বিকৃতির ফলে মেরুদণ্ডের পেশি ও লিগামেন্টে হঠাৎ করে টান লাগা বা চাপ পড়লে
ভারী জিনিস তোলার ফলে মাংসপেশিতে মচকানি লাগলে
সঠিকভাবে না বসার জন্য মেরুদণ্ডের হাড়গুলোর বেঁকে যাওয়া
পেশাগত কারণ। যেমন- দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে কাজ করা, ঝাড়ুদার, কুলি ইত্যাদি

স্থূলতাজনিত কারণ

কোমরের ভারসাম্যহীনতার কারণে ডিস্কজনিত সমস্যা। যেমন- ডিস্কের স্থানচ্যুতি, ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ
লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস, পিএলআইডি ইত্যাদি কারণে
নারীদের ক্ষেত্রে উঁচু হিলের জুতা পরিধান, হাড়ক্ষয় এবং গর্ভাবস্থা
হাড়ক্ষয়, মেরুদণ্ডের বাত, অস্টিওপোরোসিস, ইনফেকশন, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, টিউমারজনিত সমস্যা ইত্যাদি কারণে কোমর ব্যথা হয়।


উপসর্গ

কোমর, নিতম্ব ব্যথা
কোমর হতে পায়ে ঝিঁঝি লাগা
ব্যথা পায়ের দিকে নামতে থাকা
পা ভার হয়ে আসা
পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে দাঁড়াতে কষ্ট অনুভব হওয়া
কোমরের মাংসপেশি শক্ত ও কামড়ানো ভাব
উঠতে ও বসতে পিঠে ব্যথা অনুভব হওয়া।

কারা ঝুঁকিতে

৪০ বছর বয়সের পর প্রায় সবাই
সারাক্ষণ বসে, দাঁড়িয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা
কোমর ব্যথা পুরুষের তুলনায় নারীদের বেশি হয়।

চিকিৎসা

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোমর ব্যথার মারাত্মক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে সাধারণ চিকিৎসা ও ব্যায়াম করলেই সহজেই সমাধান করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে সহজে সুস্থ হওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। সারাক্ষণ ব্যথা থাকে, এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। কোমর ব্যথায় বিভিন্ন ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপি দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

প্রতিরোধ

ব্যথা নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে
শক্ত, সমান বিছানা, পাতলা তোশক ও এক বালিশে শোয়া
বিছানা হতে ওঠার সময় এক পাশে কাত হয়ে উঠতে হবে
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা যাবে না
ভারী কোনো জিনিস উঠানো নিষেধ
কোমর সোজা করে চেয়ারে বসতে হবে
মেরুদণ্ড বাঁকা করে কোনো কাজ করা যাবে না
কোনো জিনিস তুলতে হলে হাঁটু ভাঁজ করে বসে তুলতে হবে

লেখক: চিকিৎসক, গবেষক, স্বাস্থ্য নিবন্ধকার

গরমের তপ্ত সময়ে শরীর ও ত্বকের যত্ন

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
গরমের তপ্ত সময়ে শরীর ও ত্বকের যত্ন
গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়।

গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহে আমাদের শরীর ও ত্বক– দুটোই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। অতিরিক্ত গরম আর ঘামের কারণে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা এবং ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেওয়া এই সময়ে খুবই সাধারণ বিষয়। তবে একটু সচেতনতা এবং সঠিক জীবনযাত্রা অনুসরণের মাধ্যমে এই গরমেও নিজেদের সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব। দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ত্বকের সঠিক যত্ন কীভাবে আমাদের তীব্র গরমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে পারে, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। এই গরমে শরীরকে ভেতর থেকে ঠাণ্ডা রাখতে এবং ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।

গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায় কেন?
গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। ফলে ডিহাইড্রেশন, দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি।

দিনে কতটা পানি পান করা উচিত?
সাধারণভাবে দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করা ভালো। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও ফলের রস শরীরকে ভেতর থেকে ঠাণ্ডা রাখে এবং শক্তি জোগায়।

গরমে টকজাতীয় ফল খাওয়া কি উপকারী?
হ্যাঁ, লেবু, কমলা, আমলকী ইত্যাদি টক ফল খুব উপকারী। এগুলোতে ভিটামিন সি থাকে, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শরীর ঠাণ্ডা রাখে এবং ত্বক সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

 

 

টক দই কি গরমে ভালো?
হ্যাঁ, টক দই খুব উপকারী। এতে প্রোবায়োটিক থাকে, যা হজমশক্তি বাড়ায়, পেট ঠাণ্ডা রাখে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

চিয়া সিড কি উপকারী?
হ্যাঁ, চিয়া সিড গরমে খুব ভালো একটি খাবার। পানিতে ভেজালে এটি জেলির মতো হয়, যা শরীরকে দীর্ঘসময় হাইড্রেটেড রাখে। এতে ফাইবার ও ওমেগা-৩ থাকে, যা হজম ও এনার্জি বাড়ায়।

গরমে দিনে কতবার গোসল করা উচিত?
সাধারণত দিনে ১-২ বার গোসল করা ভালো। বেশি ঘাম হলে দুবার গোসল করা আরামদায়ক। এতে শরীর পরিষ্কার থাকে এবং ঘামজনিত সমস্যা কমে।

ত্বকে গরমে কী সমস্যা হয়?
গরমে অতিরিক্ত ঘাম, তেল ও ধুলো জমে ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্রণ, ফুসকুড়ি ও স্কিন ইরিটেশন হতে পারে।

ত্বকের যত্ন কীভাবে নিতে হবে?
দিনে অন্তত দুবার মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। এতে তেল ও ময়লা দূর হয় এবং ব্রণ কমে।

রোদে বের হলে কী করা উচিত?
বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এটি ইউভি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং দাগ পড়া কমায়।

গরমে পোশাক কেমন হওয়া উচিত?
হালকা, ঢিলা ও সুতির পোশাক পরা সবচেয়ে ভালো। এটি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে এবং ঘাম সহজে শুকাতে সাহায্য করে।

খাবারের ক্ষেত্রে কী সতর্কতা দরকার?
অতিরিক্ত তেল-ঝাল ও ভারী খাবার এড়িয়ে শাকসবজি, ফলমূল ও হালকা খাবার খাওয়া উচিত। এতে শরীর হালকা ও সুস্থ থাকে।

গরমে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি কী?
পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা–এই চারটি বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার
গরমের এই সময়ে একটু সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে শরীর ও ত্বক দুটোই ভালো রাখা সম্ভব। সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত গোসল এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার–এই ছোট অভ্যাসগুলোই আপনাকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ, আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬, ঢাকা

চীনে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের রক্তদান

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
চীনে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের রক্তদান
রক্তদান করছেন চীনা নাগরিকরা।

চীনে স্বেচ্ছায় রক্তদানের আওতায় প্রতি বছর ১ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ রক্তদান করেন। দেশটির সরকারি তথ্য থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে রোববার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) এবং আরও আটটি সরকারি বিভাগ যৌথভাবে একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানের আহ্বান জানিয়ে জনসাধারণের উদ্দেশে একটি আবেদন প্রকাশ করে।

আবেদনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সদস্য, চীনের কমিউনিস্ট যুবলীগ (সিওয়াইএলসি) সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সুস্থ থাকলে স্বেচ্ছায় রক্তদানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বর্তমানে চীনে চিকিৎসা খাতে ব্যবহৃত সব রক্তই সুস্থ নাগরিকদের স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে দেওয়া রক্তদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। মোট রক্তদানের পরিমাণ, রক্তদাতার সংখ্যা এবং রক্তের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চীন বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর অন্যতম।

স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার বিভিন্ন উৎসাহমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩০ লাখেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশেষ প্রণোদনা চালু করা হয়েছে। কয়েকটি প্রদেশে সম্মাননাপ্রাপ্ত রক্তদাতারা বিনামূল্যে গণপরিবহন ব্যবহার, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত পার্কে বিনামূল্যে প্রবেশ এবং সরকারি হাসপাতালে বহির্বিভাগের নিবন্ধন ফি মওকুফসহ নানা সুবিধা পেয়ে থাকেন।

সূত্র: সিএমজি

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন পথ বের হলো চীনা মহাকাশ স্টেশনে

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন পথ বের হলো চীনা মহাকাশ স্টেশনে
চীনের মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকংয়ে গবেষকরা।

চীনের মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকংয়ে পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে ফ্যাটি লিভার রোগের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত। গবেষকরা আশা করছেন, এই পরীক্ষার মাধ্যমে যকৃতের কোষের (হেপাটোসাইট) চর্বি বিপাক নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
সম্প্রতি শেষ হওয়া সাত দিনের কক্ষপথভিত্তিক পরীক্ষার লক্ষ্য ছিল অতি-স্বল্প মাধ্যাকর্ষণ (মাইক্রোগ্রাভিটি) পরিবেশে কোষের অভ্যন্তরীণ জৈবিক প্রক্রিয়া কীভাবে চর্বি বিপাককে প্রভাবিত করে, তা শনাক্ত করা।
চীনা বিজ্ঞান একাডেমির মেকানিক্স ইনস্টিটিউটের সহযোগী গবেষক লি নিং বলেন, মহাকাশের মাইক্রোগ্রাভিটি এমন বিশেষ পরিবেশ তৈরি করে, যা যকৃতের কোষের বিপাকীয় কার্যক্রমকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
তিনি বলেন, যকৃত একটি জটিল যান্ত্রিক পরিবেশে কাজ করে। লিভার ফাইব্রোসিস বা ফ্যাটি লিভারের মতো রোগে এই পরিবেশে টিস্যুর দৃঢ়তা বাড়ে এবং রক্তপ্রবাহের ধরন বদলে যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, যকৃতে অস্বাভাবিক চর্বি জমার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ফ্লুইড শিয়ার স্ট্রেস বা রক্তপ্রবাহের ঘর্ষণজনিত বল। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত যখন যকৃতের রক্তনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তা কোষগুলোর ওপর একটি নির্দিষ্ট চাপ তৈরি করে এবং বিপাকীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কিন্তু মহাকাশে অল্প মাধ্যাকর্ষণের কারণে শরীরের তরল ওপরের দিকে সরে যায়। ফলে হৃদযন্ত্রের ওপরের অংশে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায় এবং নিচের অংশে কমে যায়। এতে যকৃতে প্রবেশকারী রক্তের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে বেড়ে যায় হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ। ফলে যকৃতের ওপর রক্তপ্রবাহের যান্ত্রিক প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রক্তপ্রবাহের নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা কমে যায় এবং যকৃতে চর্বি জমার হার বাড়তে শুরু করে।
এর আগে চীনের শেনচৌ-১৬ মহাকাশ মিশনের গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে এসআরইবিপি নামের একটি প্রোটিন সক্রিয় হয়ে কোষের ভেতরে চর্বির কণিকা (লিপিড ড্রপলেট) বাড়িয়ে দেয়। স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ এর কার্যক্রম দমন করে এবং কোষে চর্বি জমা কমাতে সহায়তা করে।
পরীক্ষায় হেপাটোসাইটকে গবেষণার বিষয় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। তিন ধরনের পরিবেশ তৈরি করা হয়— স্থির কোষ সংস্কৃতি, কৃত্রিম রক্তপ্রবাহ পরিবেশ এবং ওষুধ-উদ্দীপিত রক্তপ্রবাহ পরিবেশ। মোট ছয়টি কোষ নমুনা নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়।
পুরো পরীক্ষাটি পৃথিবী থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত নির্দেশনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। গবেষকরা প্রতিদিন মাইক্রোস্কোপিক চিত্র ধারণ করে কোষের বৃদ্ধি ও পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন।
সপ্তম দিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সংরক্ষণকারী রাসায়নিক পদার্থ কোষে প্রয়োগ করা হয়, যাতে সেই সময়কার কোষীয় অবস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে। এরপর নমুনাগুলো মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসব নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। 

সূত্র: সিএমজি