দ্বিতীয় অধ্যায় : জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা
সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন
প্রশ্ন: পরিবেশে দেখা যায় এমন একটি খাদ্যশৃঙ্খলের প্রবাহচিত্র তৈরি করো।
উত্তর: সবুজ ঘাস → ঘাসফড়িং → ব্যাঙ → সাপ → ঈগল
এই খাদ্যশৃঙ্খলে প্রতিটি জীব অন্য জীবের ওপর খাদ্যের জন্য নির্ভরশীল।
বর্ণনামূলক উত্তর প্রশ্ন
প্রশ্ন: উদ্ভিদের ওপর মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী কীভাবে নির্ভরশীল?
উত্তর: মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী নানাভাবে উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যের একটি বড় অংশ উদ্ভিদ থেকে আসে। ভাত, আটা, ডাল, ফলমূল, শাকসবজি—সবই উদ্ভিদের খাদ্য। প্রাণীরাও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে খাদ্য গ্রহণ করে। সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন উৎপন্ন করে, যা মানুষ ও প্রাণী শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য ব্যবহার করে। উদ্ভিদ ছাড়া প্রাণী ও মানুষের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। এছাড়া কাঠ, ওষুধ, আসবাবপত্র ও জ্বালানির জন্যও মানুষ উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। তাই বলা যায়, উদ্ভিদ মানুষ ও প্রাণীর জীবনধারণের প্রধান ভিত্তি।
প্রশ্ন: পরিবেশের উপাদানগুলোর ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন কেন?
উত্তর: পরিবেশের উপাদানগুলো হলো- মাটি, পানি, বায়ু, আলো, তাপ, উদ্ভিদ ও প্রাণী। এই উপাদানগুলো একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। কোনো একটি উপাদানের পরিমাণ কমে গেলে বা বেড়ে গেলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। যেমন—তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে খরা দেখা দিতে পারে, এতে ফসল নষ্ট হয় এবং পানির সংকট সৃষ্টি হয়। বন উজাড় হলে প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হয় এবং খাদ্যজাল ভেঙে পড়ে। এর ফলে জীবজগতে মারাত্মক সংকট দেখা দেয়। তাই জীবজগতের সুস্থতা রক্ষার জন্য পরিবেশের সব উপাদানের ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন।
লেখক : সাবেক শিক্ষক
ফকিরেরপুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢাকা
কবীর