অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পদত্যাগের ঘোষণার পর আম আদমি পার্টির (এএপি) নেত্রী আতিশিকে দিল্লির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আম আদমি পার্টির বৈঠকে কেজরিওয়াল নিজেই তার উত্তরসূরি হিসেবে আতিশির নাম প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবে ঐকমত্য পোষণ করেন দলের নেতা-কর্মীরা। পরে আজই তিনি পদত্যাপত্র জমা দেন।
বর্তমানে দিল্লি সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন অতিশি। তার অধীনে আছে শিক্ষা, গণপূর্ত, সংস্কৃতি ও পর্যটন এবং নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
অতিশির পুরো নাম আতিশি মারলেনা সিং। ১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া আতিশির নামের মধ্যবর্তী অংশ ‘মারলেনা’ এসেছে মার্ক্স ও লেনিন শব্দের সন্ধিতে। রাজনৈতিক জীবনে যদিও নামের শেষের দুটি অংশ ব্যবহার করেন না তিনি। ২০১৮ সাল থেকে শুধু ‘আতিশি’ নামটিই ব্যবহার করছে তার দল আম আদমি পার্টি।
উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যন্ত দিল্লিতেই পড়াশোনা করেছেন। এরপর তিনি স্কলারশিপ পেয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে ২০০৩ সালে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি।
২০১৩ সালে আম আদমি পার্টির হয়ে নিজের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন আতিশি। ২০১৫ সালে মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়া জেলায় ঐতিহাসিক জল সত্যাগ্রহ আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। ২০১৯ সালে দিল্লির লোকসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ওই নির্বাচনে তাকে প্রায় পাঁচ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জিতে যান বিজেপি প্রার্থী সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর। তবে ২০২০ সালে বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ দিল্লির কালকাজি আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন আতিশি।
এএপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতা কেজরিওয়াল, সিসোদিয়া ও সঞ্জয় সিংকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর প্রায় এক হাতেই ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সমালোচনা করেন আতিশি। মুখ্যমন্ত্রীর মতো ‘এত বড় একটি দায়িত্ব’ অর্পণের জন্য ‘গুরু’ কেজরিওয়ালকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দল থেকে তার নাম ঘোষণার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় জানান, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে তার গুরু কেজরিওয়াল পদত্যাগ করায় তিনি ব্যথিত।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘কেজরিওয়াল একজন বিধায়ক এবং মন্ত্রী হিসেবে আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। আজ তিনি আমাকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দিলেন। তিনি আমার ওপর এত বিশ্বাস ও আস্থা রাখায় আমি খুব আনন্দিত।...আম আদমি পার্টি বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। আমি খুবই সাধারণ একটি পরিবার থেকে এসেছি। অন্য কোনো দল হলে আমি নির্বাচনে মনোনয়নই পেতাম না।’ সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস