যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২৪-এর প্রধান দুই প্রার্থী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কমলা হ্যারিস এবং রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারের নির্বাচনে কমলার লড়ারই কথা নয়। কিন্তু ট্রাম্পের কাছে বিতর্কে হেরে বাইডেনের সমর্থন কমে যায়। পরে তিনি সরেই যান নির্বাচনি দৌড় থেকে। নিজের জায়গায় লড়ার জন্য তিনি এগিয়ে দেন কমলাকে। এরপর খেলাই পাল্টে যায়।
চলুন একনজরে জেনে নেওয়া যাক এই দুই প্রার্থী সম্পর্কে-
কমলা হ্যারিস
নির্বাচনে বিজয়ী হলে ৬০ বছর বয়সী কমলা হ্যারিস হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী প্রেসিডেন্ট এবং মূলধারার রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থাকা প্রথম এশিয়ান আমেরিকান ব্যক্তি। কমলা হ্যারিসের বাবা-মা দুজনেই অভিবাসী, একজন ভারতের এবং আরেকজন জ্যামাইকার। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ওকল্যান্ডে জন্ম তার।
হ্যারিস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চপদস্থ নারী রাজনৈতিক কর্মকর্তা। এর আগে তিনি মার্কিন সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল ও স্যান ফ্রান্সিসকো ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নিও ছিলেন।
হ্যারিস বাইডেনের নীতিগুলোকে সমর্থন করেন এবং সেগুলো আগামীতে অব্যাহত রাখার ব্যাপারেও এরই মধ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ধরনের নীতির মধ্যে রয়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা দেওয়া, ওষুধের খরচ কমানো, বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় খরচ কর্তন ইত্যাদি।
তবে কমলার অবস্থান পরিবর্তনের নজিরও রয়েছে। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তিনি এমন স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, যার খরচ শুধু একটি কর্তৃপক্ষ বহন করবে। পরবর্তী সময়ে সে অবস্থান থেকে সরে আসতে দেখা গেছে তাকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স ৭৮ বছর। জন্ম নিউইয়র্কের কুইন্সে। ২০২২ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার তোড়জোড় শুরু করেন তিনি। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হন তিনি। তবে সে হারকে মোটেও স্বাভাবিকভাবে নেননি ট্রাম্প। তিনি দাবি করলেন, কারচুপি হয়েছে। তার ইন্ধনে সমর্থকরা আক্রমণ করে বসেন ক্যাপিটল হিলেও। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগে মামলাও কম হয়নি।
ট্রাম্প অর্থনীতি নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে। ২০১৬ সালে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করার আগে ট্রাম্প রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার ছিলেন। ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাতি ছিল তার। দ্য অ্যাপ্রেনটিস নামের এক রিয়েলিটি টিভি অনুষ্ঠানের উপস্থাপকও ছিলেন তিনি।
নির্বাচনে আবার জিতলে ট্রাম্প কেন্দ্রীয় সরকারে পরিবর্তন আনবেন, বিভিন্ন দেশের ওপর কর আরোপ করবেন, অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাবেন- এ রকম বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দেখে নেবেন এমন হুমকিও দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে বাইডেন ও তার পরিবারকে একহাত নেওয়ার জন্য বিশেষ আইনজীবী নিয়োগ দেবেন এমন কথাও অতীতে বলেছেন ট্রাম্প। সূত্র: সিএনএন