যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আল গোরের প্রতিষ্ঠিত পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক সংগঠন ‘ক্লাইমেট ট্রেস’ নতুন এক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে। এই গবেষণা থেকে জানা গেছে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করছে এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহর। যা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কপ-২৯ সম্মেলনে সংগঠনটির বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এই তথ্য প্রকাশের পরই জলবায়ুবিষয়ক প্রতিনিধি ও পরিবেশবাদী কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তারা জানিয়েছেন, বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে আগ্রহী নয়।
ক্লাইমেট ট্রেস জানায়, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে সাতটি দেশ বা প্রদেশ এক বিলিয়ন মেট্রিক টন গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করেছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিঃসরণ করেছে চীন। চীনের সাংহাই শহর সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ করেছে যা ২৫৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে।
এদিকে চীন, ভারত, ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও রাশিয়াতে ২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিঃসরণের পরিমাণ কমেছে।
এই তথ্য প্রকাশের পরই জলবায়ুবিষয়ক কর্মকর্তা এবং পরিবেশকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কারণ পৃথিবীর উষ্ণ হতে থাকা জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ন্ত্রণে কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বরং তা নিয়ন্ত্রণকারী দেশ ও কোম্পানিগুলোর প্রভাবও বাড়ছে।
শুক্রবার এই সম্মেলনে টোটাল, বিএপি, একুইনর ও শেলসহ বিভিন্ন তেল কোম্পানির কার্যনির্বাহী সদস্যরা এ অংশ নেন।
এ সময় তারা জানান, সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং এশিয়ার জনগণের জন্য পরিষ্কার রান্নার অনুশীলনে সাহায্য করতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবেন তারা।
তবে সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের লবিস্টদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিতে জলবায়ুকর্মীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিবেশবাদী কর্মী ডেভিড টং বলেন, ‘তামাক কোম্পানির লবিস্টরা যেমন ফুসফুস ক্যান্সারবিষয়ক সম্মেলনে উপস্থিত থাকেন, তেমনি তেল কোম্পানির লবিস্টরা এই সভায় উপস্থিত ছিল।’
পর্তুগালের জলবায়ুকর্মী বিআঙ্কা কাস্ত্রো বলেন, ‘পরিবেশবাদীদের অনেক সংগঠন এখন এইসব আলোচনা সভার উপর থেকে আশা হারিয়ে ফেলেছে।’
সমৃদ্ধ দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বছরে অন্তত এক ট্রিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য অর্জনের ওপর কপ-২৯ সম্মেলনের সফলতা নির্ভর করছে।
গত দুই বছরের কপ সম্মেলনগুলো ছিল তেল, গ্যাস ও কয়লা উৎপাদনকারী দেশগুলোতে। এবারের সম্মেলনও আজারবাইজানে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ মঙ্গলবার বলেন, ‘তেল, গ্যাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের জন্য সৃষ্টিকর্তার উপহার।’
এদিকে পরিবেশবাদী কর্মী আল গোর বলেন, ‘এটি দুর্ভাগ্যজনক যে জীবাশ্ম জ্বালানিশিল্প এবং তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো কপ প্রক্রিয়াটিতে অতিরিক্ত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করছে।’
শুক্রবার কিক দ্য বিগ পলিউটারস আউট (কেবিপিও) জোটের কর্মীরা জানান, জাপান তাদের প্রতিনিধিদলে কয়লা কোম্পানি সুমিতোমোর কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। কানাডা তাদের দলে তেল কোম্পানি সানকোর ও ট্যুরম্যালিন এবং ইতালি তাদের দলে এনি ও এনেলের কর্মীদের নিয়ে এসেছে।
কেবিপিও জানায়, কপ-২৯ সম্মেলনে এক হাজার ৭৭০ জন জীবাশ্ম জ্বালানি লবিস্টের উপস্থিতি রয়েছে।
এদিকে বিশিষ্ট জলবায়ুকর্মী ও বিজ্ঞানীরা শুক্রবার একটি চিঠি প্রকাশ করেছেন।
এতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বব্যাপী জলবায়ু প্রক্রিয়াটি এখন আর কাজের উপযোগী নয়। এটি নিয়ন্ত্রিয় হয়ে গেছে।’
এই চিঠিতে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, জাতিসংঘের সাবেক জলবায়ুপ্রধান ক্রিস্টিয়ানা ফিগারেসসহ অনেক জলবায়ু বিজ্ঞানী স্বাক্ষর করেছেন এবং তারা জলবায়ু প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
তাওফিক/পপি/