পদত্যাগের দাবির মুখেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সমর্থন পাচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) ক্ষমতাসীন পিপল পাওয়ার পার্টির (পিপিপি) নেতা চু কিউং হো জানান, দলের ১০৮ জন নেতা একসঙ্গে প্রেসিডেন্টকে সমর্থন দেবেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দেশে সামরিক শাসন জারির পর ব্যাপক জনরোষের মুখে পড়েন ইওল। ঘটনাক্রমে, মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন তিনি।
এরপর থেকেই পদত্যাগের দাবিতে সরব দেশটির রাজনৈতিক মহল। এই প্রেক্ষিতে শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশটির পার্লামেন্টে ভোটের আয়োজন করা হবে।
বিরোধী দলের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের অন্তত আটজন আইনপ্রণেতা পদত্যাগের পক্ষে ভোট দিলে ক্ষমতা ছাড়তে হবে ইওলকে।
তবে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ সমর্থন পাবেন বলে জানিয়েছেন বেশ কিছু পিপিপি নেতা।
মঙ্গলবারের ঘোষণার পর ব্যাপক রাজনৈতিক রোষানলে পড়েন ইওল। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী চো কিউ হং প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক আখ্যায়িত করে বলেন, ‘এই ঘোষণা অপ্রত্যাশিত ছিল।’
এদিকে গতকাল বুধবার ব্যর্থতার দায়ে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইওং হিউন পদত্যাগ করেন। সৌদি আরবে কর্তব্যরত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত চোই বিউং হিউক তার স্থলাভিষিক্ত হবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
নৈরাজ্য সৃষ্টির আশঙ্কায় সংসদের আশেপাশে সামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে বিক্ষোভকারীরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আক্রমণ করলে তারা পিছু হটতে বাধ্য হন।
এদিকে সামরিক শাসন ঘোষণার পর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব কার্ট ক্যাম্পবেলের মতে, ইওল দেশের পরিস্থিতির বুঝতে ব্যর্থ হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সহযোগীতাপূর্ণ থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে ইওলের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে তৎপর বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা। ইওলের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক অপরাধ’ বলছেন তারা।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা কিম সেউং ওন বলেন, সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ ছাড়া উপায় নেই।
শনিবার ইওল পদত্যাগ করলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হ্যান ডাক সু ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।
চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় আতঙ্কিত দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ। ইওলের কাণ্ডকে গণতন্ত্রের ওপর হামলা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে আদৌ প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত হবেন কি না জানা যাবে শনিবার।
নাইমুর/অমিয়/